১০০ টেস্ট খেলতে নামার আগে কোহলির ‘সংস্কৃতি তৈরির গর্ব’

আক্রমণাত্মক মনোভাবের জন্য সমালোচিত হয়েছেন। বিরাট কোহলি তাতে বদলাননি। প্রতিপক্ষের উইকেট পাওয়ার উদযাপনে বাধ মানেননি। সতীর্থদের উৎফুল্ল করতে করেছেন নানা কিছু। সব মিলিয়ে ভারতীয় ক্রিকেট দলে একটা সংস্কৃতির তৈরি করেছেন কোহলি।অধিনায়ক হিসেবেও নিজেকে বিশ্বসেরাদের কাতারে নিয়ে গেছেন।

নিজের ১০০তম টেস্ট খেলতে নামার আগেও কোহলির সেই তৃপ্তি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মোহালিতে শততম টেস্ট খেলতে নামার আগে বলেছেন, গর্বিত তিনি। সবকিছুর জন্য অনেক পরিশ্রম করেছেন, কোহলি মনে করিয়ে দিয়েছেন সেটি।

বিসিসিআই টিভিকে বলেছেন, ‘ গর্বের সঙ্গেই বলতে পারি, আমি আমার হৃদয় এই ফরম্যাটে দিয়ে দিয়েছিলাম। এটা দারুণ অনুভূতি যে আমি পরিবেশ ও সংস্কৃতিতে স্ট্র্যাটেজি ও পরিকল্পনার চেয়েও বেশি কিছু দিতে পেরেছি। ব্যাটসম্যানকে আউট করতে বোলারকে কৌশল বলার চেষ্টা করেছি। আপনার যদি পরিবেশের ওপর বড় প্রভাব থাকে, এটা গর্বের বিষয় এবং নিজেকে সুখী ভাবা উচিত। কারণ এমন সুযোগ মানুষের কাছে কম আসে, আমি সেটা পেয়েছি।’

‘আমার অধীনে ভারতীয় দলকে মানুষ টেস্টে যেভাবে দেখে, যেভাবে আমি এই ফরম্যাটটা খেলি অথবা টেস্ট নিয়ে আমার যেমন ভাবনা, এটা এমনি হয়ে যায়নি। আমি অনেক চেষ্টা করেছি এটার জন্য। খেলাটাকে অক্ষত রাখার ক্ষেত্রে আমি আমার নৈতিক ভিত্তি ঠিক রাখার চেষ্টা করেছি। টেস্ট ক্রিকেট খেলতে চেয়েছি, ক্রিকেটের সবচেয়ে বিশুদ্ধতম ফরম্যাটকে বাঁচিয়ে রাখতে একটা পন্থা মেনে চলেছি।’

শততম টেস্ট খেলার আগে সতীর্থদেরও কৃতিত্ব দিয়েছেন এই তারকা ব্যাটসম্যান, ‘আমার সুযোগ এসেছিল একটা সংস্কৃতি তৈরি করার, আমার মনে হয় গত কয়েক বছর ধরে সেটা করেছি। এবং আমি সেটা নিজের সক্ষমতার সেরাটা দিয়ে করেছি, নিজের দায়িত্ব পালন করেছি। আমি গর্বের সঙ্গে নিজের সময়টা পেছন ফিরে দেখি। আমি অসাধারণ সতীর্থদের সঙ্গে খেলেছি।’

অধিনায়ক হিসেবেও লক্ষ্য পূরণের গর্ব কোহলির, ‘আমার স্পষ্ট মনে আছে যখন টেস্টের অধিনায়কত্ব নেই, আমার লক্ষ্য ছিল এই দলটাকে একটা ধরনের ক্রিকেট খেলাতে হবে। আমাদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে একটা ঘরানার দল হতে হবে। পাঁচ বছর ধরে সেটা অর্জন করে শেষ করেছি আমরা। তাই আমি অনেক গর্বিত জাদুকরী পরিবেশের অংশ হওয়ায়।’

নিজের শততম টেস্ট নিয়ে কোহলি বলেন, ‘আমি সত্যিই কখনো ভাবিনি ১০০টা টেস্ট খেলবো। এটা অনেক লম্বা একটা যাত্রা ছিল। অনেক ক্রিকেট খেলতে হয়েছে এই ১০০ ম্যাচের পথে, অনেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেট। আমি কৃতজ্ঞ ১০০টা টেস্ট খেলতে পারায়। একটা সময় ছিল যখন আমি নিজেকে বলেছি, ভারতের হয়ে খেলতে সম্ভাব্য সবকিছু করব। তখন কোনো কিছুই আমাকে বিভ্রান্ত করতে পারেনি। আমার সব নজর ছিল শীর্ষে যাওয়ার-শুধু শীর্ষে না, আমি লম্বা সময়ের জন্যও ক্রিকেট খেলতে চেয়েছি।’