সাফ চ্যাম্পিয়নদের বরণের অপেক্ষা

বিশ্বের অনেক দেশেই ক্রীড়াঙ্গনে সর্বোচ্চ সাফল্যের পর বিজয়ীদের বরণ করে নিতে ছাদখোলা বাসে শহর ঘুরানোর চল আছে। তাদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন সাধারণ জনগণ। এই তো কদিন আগে অর্থনৈতিক মন্দার মাঝেও এশিয়া কাপ জয়ী শ্রীলঙ্কাকে ছাদখোলা বাসে করে অভিবাদন জানানো হয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশে এমনটা দেখা যায়নি কখনও, অবশ্য খুব একটা উপলক্ষও তৈরি হয়নি। এবার সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ইতিহাস গড়লো নারী দল, এই ‘সুযোগ’ লুফে নিয়ে তাদের দেওয়া হচ্ছে ঐতিহাসিক সংবর্ধনা।

অবশ্য ছাদখোলা বাসে করে সংবর্ধনার একটা ‘অপূর্ণ চাহিদা’ এসেছিল বাংলাদেশ দলের ফুটবলার সানজিদা আখতারের ফাইনালের আগের দিনের পোস্টে, ‘ছাদখোলা চ্যাম্পিয়ন বাসে ট্রফি নিয়ে না দাঁড়ালেও চলবে, সমাজের টিপ্পনীকে একপাশে রেখে যে মানুষগুলো আমাদের সবুজ ঘাস ছোঁয়াতে সাহায্য করেছে, তাদের জন্য এটি জিততে চাই।’

এই পোস্ট যেন ছুঁয়ে যায় দেশবাসীর হৃদয়। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেলও আবেগী হয়েছেন। তাই বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর অফিসে বসেই সিদ্ধান্ত নেন ছাদখোলা বাস তৈরি করার। কারণ এমন বাস বাংলাদেশে নেই। 

সানজিদার পোস্ট দেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর, ‘আগের দিন সানজিদা আক্ষেপ করে বলছিলেন হয়তো তাদের হুড খোলা বাসে নিয়ে আসা হবে না। এরকম একটা আক্ষেপ ছিল তার লেখায়। আমি গতকাল এই লেখাটা দেখেছি। আগেও পড়েছিলাম হয়তো। এই লাইনটা আলাদা করে খেয়াল করিনি। গতকাল মধ্যরাত পর্যন্ত অফিস করেছি, সেখানে আমরা বাস জোগাড় করেছি।’

এক দিনের মধ্যেই তৈরি হয়ে গেছে সেই ছাদখোলা বাস। যে বাসে করে খোলা হাওয়ায় দেশবাসীর সঙ্গে সাফল্যের আনন্দ ভাগাভাগি করবেন সাবিনা-সানজিদারা। 

বুধবার দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে সাবিনা-মারিয়াদের বহনকারী বিমান ঢাকায় পৌঁছাবে। সেখানে তাদের বরণ করবেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল। এছাড়া থাকবে বাফুফের একটি প্রতিনিধি দল।

বিমানবন্দর থেকে কাকলী বনানী-জাহাঙ্গীর গেট-প্রধানমন্ত্রীর অফিস-বিজয় স্মরণী হয়ে হাতের বাঁয়ে ঢুকবে। এরপর তেজগাঁও হয়ে ফ্লাইওভার দিয়ে মৌচাক-কাকরাইল। কাকরাইল থেকে ফকিরাপুল-আরামবাগ তারপর মতিঝিল শাপলা চত্বর ঘুরে বাফুফে ভবনে আসবে ছাদ খোলা বাস।

মেয়েদের বরণের জন্য সাজসাজ রব বাফুফে ভবনে। এরই মধ্যে তৈরি হয়েছে প্যান্ডেল। এখন অপেক্ষা বিজয়ী বেশে নারীদের দেশে পা রাখার।