রশিদদের সামলানো শিখতে রিশাদ-বিপ্লবদের নিয়ে এল বাংলাদেশ

বাংলাদেশ দলের অনুশীলনে হাই পারফরম্যান্স ইউনিটের জার্সি গায়ে চাপানো এই তরুণ বোলারটি কে? নেটে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, আফিফ হোসেনদের টানা বল করে যাচ্ছেন। লেগ স্পিনে ভেল্কিতে পরাস্থ করছেন ব্যাটসম্যানদের। অনেক খোঁজখবরের পর জানা গেল, এই তরুণই রিশাদ হোসেন। বাংলাদেশের দলের পাইপলাইনে যে কয়জন ‘অবহেলিত’ লেগ স্পিনার আছেন, তাদের একজন। বাংলাদেশ দলের নেটে রিশাদের সঙ্গী আমিনুল ইসলাম বিপ্লব।

একই নেটে টানা বল করে চলেছেন এই দুই তরুণ লেগ স্পিনার। তাদেরকে কখনো সামলাচ্ছেন রিয়াদ, কখনো আফিফ, কখনো লিটন দাস আবার কখনোবা মাহমুদুল হাসান জয়। এই দুই লেগিকে একের পর এক ডেড লক, সুইপ, রিভার্স সুইপ করে চলেছেন তারা।

মূলত অনুশীলনে বিপ্লব-রিশাদকে ডাকা হয়েছে নেট বোলার হিসেবে। রাশিদ খানসহ আফগানিস্তান দলে থাকা তিনজন লেগ স্পিনারকে সামলানোর প্রস্তুতি হিসেবে রিশাদ-বিপ্লবদের দিয়ে ‘ঠেকার’ কাজ চালাচ্ছে বাংলাদেশ দল। কারণ, বাংলাদেশের ঘোষিত স্কোয়াডে যে কোনো লেগ স্পিনারই নেই।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে আসন্ন ওয়ানডে স্কোয়াডে তো জায়গা হয়নি কোনো লেগির। টি-টোয়েন্টি দল থেকে এবার ছেঁটে ফেলা হয়েছে বিপ্লবকে। সদ্য সমাপ্ত বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের ড্রাফট শেষে রিশাদকে দলে টানে ঢাকা। পরে রিশাদ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে তার পরিবর্তে সুযোগ দেওয়া হয় বিপ্লবকে। দল পেলেও ম্যাচ পাননি বিপ্লব। পরে সুস্থ হলেও জায়গা মেলেনি রিশাদের।

প্রয়োজনে সেই রিশাদ-বিপ্লবেই দ্বারস্থ বাংলাদেশ ক্রিকেট। দলে না থাকলেও মাহমুদউল্লাহ-আফিফদের ছায়া সঙ্গী হয়ে থাকলেন বিপ্লব-রিশাদ।

রিশাদ-বিপ্লবরা যে নেটে বল করছিলেন, সাগরিকার সে নেটে স্পিনার থেকে মিডিয়াম পেসার বনে যান সাকিব আল হাসান। ৬ স্টেপ দৌড়ে আফিফ হোসেনকে টানা বল করে গেলেন সাকিব, লেন্থে পরে সাকিবের বাইরে যাওয়া একটি বল খেলতে গিয়ে স্লিপে ক্যাচ তুলে নেন আফিফ। পরে সাকিবের উদযাপন যেন বাধনহারা। টাইগার অলরাউন্ডারের দাবি, তৃতীয় স্লিপ নিয়ে বোলিং করেছেন তিনি। সেখানেই ধরা পড়েছেন আফিফ।

সঙ্গে এদিন বাংলাদেশ দলের নেট অনুশীলনে দেখা মিললো এক অভূতপূর্ণ দৃশ্যের। পুরোনো গুরু-শিষ্যের জমজমাট রয়াসনের দেখা মিলল চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে। যেখানে সাকিব আল হাসানকে দেখেই রীতিমতো দৌড়ে এলেন বাংলাদেশ দলের সাবেক কোচ ও বর্তমান ব্যাটিং পরামর্শক জেমি সিন্ডন্স। গল্পের ফাঁকেই সাকিবকে ব্যাটিংয়ের কৌশল দেখিয়ে দেন তিনি। কখনো আবার বোলিং পরামর্শকের ভূমিকায়ও দেখা গেল সিডন্সকে।

বাংলাদেশ দলের এমন ফুরফুরে ব্যাটিং সেশনটি মধুর হলো না মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের। নেটে ব্যাটিংয়ে কিছুতেই বলের লাইন খুঁজে পাচ্ছিলেন না তিনি। থ্রোয়ার নাসিরের ছোঁড়া একটি বল চতুর্থ স্টাম্প ঘেষে বের হয়ে যাওয়ার পর চিন্তিত রিয়াদ বলেই বসলেন, ‘ভাগ্যিস পুরোনো বল, নতুন হলে তো এতক্ষণে শেষ হয়ে যেতাম!’

হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গো টেকনিকে কিছুটা পরিবর্তন আনতে বললেও লাভ হচ্ছিল না। পরে নেট পরিবর্তনের পর নিজেই বোলিং বৈচিত্র্যে পরিবর্তন আনেন রিয়াদ। তবু এদিন যেন ঠিকঠাক রিদমটাই খুঁজে পেলেন না বাংলাদেশ দলের টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.