মমিনুলই যেন একমাত্র ভরসা

রিভিউ নির্বাচনে দুর্বলতা, মাঠে সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগা, আক্রমণাত্মক মেজাজের অভাব। স্বভাবগুলো আর যাই হোক একজন অধিনায়কের সঙ্গে মানানসই নয়। বাংলাদেশ জাতীয় দলের বর্তমান টেস্ট ক্যাপ্টেন মমিনুল হক সৌরভের অধিনায়কত্বের সাম্প্রতিক চিত্রটা এমনই। কমেন্ট্রি বক্সেও সমালোচনার ঝড় উঠেছে বাংলাদেশের লিটল মাস্টারের এমন দূর্বল ভূমিকায়।

একটু পিছনের দিকে যাওয়া যাক। খেলা শুরুর মাত্র তিন ওভারের মাথায়ই প্রথম সাফল্য পেয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। খালেদের বল সজোরে আঘাত হানে প্রোটিয়া ওপেনার সারেল এরউইর পায়ে। সাদা চোখে দেখেই বোঝা যাচ্ছিল পায়ে না লাগলে স্ট্যাম্পে আঘাত হানত বল।

কিন্তু বাংলাদেশ অধিনায়ক যেন ডুবে গেলেন অনিশ্চয়তার সাগরে। একে ওকে জিজ্ঞেস করে শেষপর্যন্ত যখন রিভিউ নিবেন বলে মনস্থির করলেন আম্পায়ার বললেন, টাইমস আপ। এতো গেল রিভিউ কাণ্ড, একাদশ নির্বাচন থেকে শুরু করে পিচ বুঝতেও বড্ড বেগ পেতে হয় মমিনুলকে।

দ্বিতীয় টেস্টের ঘাসে ভরা উইকেটে সুযোগ দেয়া হল তাইজুল ইসলামকে। ৬ উইকেট নিয়ে এই বাঁহাতি প্রশ্ন তোলার সুযোগ না দিলেও আরেক স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ ছিলেন বিবর্ণ। অতিরিক্ত শর্ট বল করার প্রবণতার কারণে টাইগার পেসাররা প্রথম ইনিংসে মাত্র ৪ উইকেট নিলেও দুই প্রোটিয়া পেসার উইয়ান মুল্ডার ও ডুয়াইন অলিভিয়ে দেখিয়েছেন এই পিচে পেসাররা কতটা কার্যকর। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের পতন হওয়া ৫ টি উইকেটই শিকার করেছেন এই জুটি।

এমন পেস সহায়ক পিচে কেন আবু জায়েদ চৌধুরী রাহীকে সুযোগ দেয়া হলো না সেটাও জন্ম দিচ্ছে প্রশ্নের। সেন্ট জর্জেস পার্কের অতীত ইতিহাসও বলে এই মাঠে দাপট দেখান পেসাররাই। এতো গেল অধিনায়ক মমিনুলের কথা। ব্যাটার মমিনুলও যেন হারিয়ে যেতে বসেছেন। সাদা পোশাকের দায়িত্ব বুঝে নেয়ার পর থেকেই যেন রান খরায় ভুগছেন টাইগার টেস্ট দলের সেরা ব্যাটার।

টেস্টে মমিনুল হকের মোট সেঞ্চুরি ১১টি। যার ৮টিই এসেছে অধিনায়কের ক্যাপ পড়ার আগে। অধিনায়ক হিসেবে হাঁকানো ৩টি সেঞ্চুরিই করেছেন উপমহাদেশের ফ্লাট উইকেটে। বিদেশের মাটিতে যে মমিনুলের ব্যাট কথা বলে না তার প্রমাণ অবশ্য আগেই দিয়েছেন লিটল মাস্টার। তবে অধিনায়কত্বের বাড়তি চাপ কি দেশের মাটিতেও রান খরা বয়ে এনেছে মমিনুলের ব্যাটে!

এখানেই শেষ নয় মমিনুলের প্রতি অভিযোগ। গুঞ্জন আছে দলে নাকি যথেষ্ট প্রভাব নেই তার। দল নির্বাচন থেকে শুরু করে মাঠ ও মাঠের বাইরের বেশিরভাগ সিদ্ধান্তেই নাকি ফলে না তার কর্তৃত্ব। তার ওপর একজন অধিনায়কের যেরকম আগ্রাসন ও আক্রমণাত্মক মনোভাব থাকা প্রয়োজন সেটাও অনুপস্থিত সৌরভের মাঝে।

কিন্তু সবই যেন বিসিবির নজরের বাইরে। মাঠে মমিনুলের ভুল যেন চোখেই পড়ে না বোর্ড কর্তাদের। বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনূসকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘সাউথ আফ্রিকায় প্রথম টেস্টে আমি ক্যাপ্টেন্সিতে কোনো সমস্যা দেখছি না, এখনো কোন সমস্যা দেখি নাই। হুট করে কোনো সিদ্ধান্ত্ব নেয়া ঠিক হবে না। সৌরভ এখনও আমাদের টেস্ট ক্যাপ্টেন। আমরা সেভাবেই বিবেচনা করছি তাকে।’

মাশরাফি বিন মর্তুজার সমমানের কোন অধিনায়ক এখন পর্যন্ত খুঁজে পায়নি বাংলাদেশ। এখন সময় এসেছে দীর্ঘমেয়াদে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম এমন অধিনায়ক গড়ে তোলার। নতুবা চিরচরিত ভুল সিদ্ধান্ত ও ব্যর্থতার মিছিল থেকে কখনোই বের হতে পারবে না বাংলাদেশ।