নারাইন-তাণ্ডবের পরও কুমিল্লাকে চড়ে বসতে দেয়নি বরিশাল

সবার আগে ফাইনাল নিশ্চিত করে বেশ ফুরফুরে মেজাজেই ফরচুন বরিশাল। তবে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের ফাইনালে আজ (শুক্রবার) কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের মুখোমুখি হয়ে শুরুতে যে ঝড়ের সম্মুখীন হয় তারা, সেটি থেকে বের হয়ে আসার জন্য অধিনায়ক সাকিব আল হাসান বেশ বাহবা পাচ্ছেন। মিরপুরে আজও উঠেছিল সুনীল নারাইন ঝড়। সে তাণ্ডব থামাতে বেশ ঠাণ্ডা মাথার অধিনায়কত্বে বোলিং অ্যাটাক সাজান সাকিব। ফলও মিলেছে তাতে। সাকিবের অধিনায়কত্ব গুনেই কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সকে ১৫১ রানে থামাতে পেরেছে বরিশাল।

লক্ষ্যটা চ্যালাঞ্জিং হলেও নাগালের মধ্যে। নারাইন যে ঝড় তুলেছিলেন, সেটি না থামালে মহাবিপদে পড়তে হতো বরিশালকে। ফাইনালে জয়ের জন্য এখন সাকিবদের প্রয়োজন ১৫২ রান। বিপিএলে টানা ২টি ফাইনাল হারা সাকিব আক্ষেপ ঘোচাতে পারবেন, নাকি হ্যাটট্রিক হারের স্বাদ পাবেন, সে উত্তর জানার জন্য অবশ্য আর খুব বেশি সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে না।

ফাইনালে টস ভাগ্য হাসে কুমিল্লার হয়ে। ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন অধিনায়ক ইমরুল কায়েস। দলের হয়ে ইনিংস শুরু করতে নামেন নারাইন আর লিটন দাস। লিটনকে একপাশে দর্শক বানিয়ে রেখে ব্যাট হাতে তাণ্ডব চালান নারাইন। ২টি ছয় আর ১টি চারে মুজিবের করা প্রথম ওভার থেকেই তুলে নেন ১৮ রান, যেখানে নারাইনেরই সংগ্রহ ১৭ রান। সমান ১৮ রান আসে শফিকুলের বলে, ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে।

চার-ছক্কার ফুলঝুরি সাজানো নারাইনকে থামাতে মরিয়া সাকিব পাওয়ার-প্লেও ৬ ওভারে ব্যবহার করেন ৫ বোলার। সে টোপ নারাইন গেলার আগেই সাজঘরে লিটন। সুবিধা করতে পারেননি, তৃতীয় ওভারে ফেরেন সাকিবের শিকার হয়ে। ৬ বলে ৪ রান করেন তিনি। লিটন যখন ফেরেন, ৩ ওভারে কুমিল্লার স্কোর বোর্ডে ৪০ রান।

ষষ্ঠ ওভারের দ্বিতীয় বলে মেহেদী হাসান রানাকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে শান্তর হাতে ধরা পড়েন নারাইন। তার আগে অবশ্য গড়ে ফেলেছেন আরো এক রেকর্ড। আগের দিন ১৩ বলে ফিফটির পর আজ তার ২১ বলে করা ফিফটি বিপিএলে ইতিহাসে ফাইনালে সবচেয়ে দ্রুতগতির। ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারের দ্বিতীয় বলে নারাইন থামেন ৫৭ রানে। ২৩ বলের ইনিংসটিতে বাউন্ডারি থেকেই নিয়েছেন পঞ্চাশ রান।

নারাইনের আউটের পর আবার মুজিবকে বোলিংয়ে আনেন সাকিব। অধিনায়কের আস্থার মান রাখেন এই আফগান স্পিনার। পরে ৩ ওভারে স্পেলে ফিরিয়েছেন ফাফ ডু প্লেসি (৪) আর আরিফুল হককে (০)। তার আগে ব্রাভোর দুর্দান্ত এক থ্রোতে রান আউটে কাটা পড়েন মাহমুদুল হাসান জয়। ৭ বল খেলে ৮ রানে ফেরেন তিনি। বল হাতেও সাফল্য পেয়েছেন ব্রাভো। ইমরুলকে আউট করেন ব্যক্তিগত ১২ রানে। উড়তে থাকা কুমিল্লা হঠাৎই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।

৯৫ রান তুলতেই ৬ উইকেট হারানো দলের হাল ধরেন মঈন আলি আর আবু হায়দার রনি। তাদের সপ্তম উইকেটে ৫২ বলে ৫৪ রানের পার্টনারশিপে চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ পায় কুমিল্লা। যদিও রনির ব্যাটিং একেবারেই টি-টোয়েন্টি সূলভ ছিল না। ২৭ বলে ১৯ রান করেন তিনি। মঈনের ৩২ বলে ৩৮ রানের কল্যাণে নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৫১ রানের সংগ্রহ পেয়েছে কুমিল্লা। বরিশালের মুজিব ও শফিকুল ২টি করে উইকেট নেন মুজিব।