কোনো সময়ই বলি না যে আমি পারফেক্ট: তামিম

অভিষেকের পর খুব দ্রুতই নিজেকে বাংলাদেশ দলের অপরিহার্য অংশে পরিণত করেছিলেন তামিম ইকবাল খান। সময়ের সঙ্গে হয়েছেন আরও পরিণত, আগের সেই মারকুটে তামিম এখন খেলার চেষ্টা করেন অনেক দায়িত্ব নিয়ে। ২০১৫ বিশ্বকাপের পর থেকেই মূলত খই ফুটেছে ওডিআই কাপ্তানের ব্যাটে।

সব ভালোই চলছিল তবে আফগানিস্তান সিরিজে টানা তিন ম্যাচে ফজল হক ফারুকির বলে একই ভঙ্গিতে আউট হয়ে হয়েছেন সমালোচিত। অবশেষে তামিম মুখ খুললেন সেই আউট নিয়ে। সাউথ আফ্রিকা মিশনের প্রাক্কালে তামিম বলেন, ‘আমি কোনো সময়ই বলি না যে আমি পারফেক্ট। যখন আপনার ১৪-১৫ বছরের ক্যারিয়ার থাকবে আপনি বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হবেন।’

আফগানিস্তানের বিপক্ষে তিন ওডিআইতে তামিমের আউট বিশ্লেষণ করে দেখা যায় প্রতিবারই সামনের পা আড়াআড়িভাবে স্ট্যাম্পের সামনে নিয়ে আসছেন তামিম। এর ফলে বোলাররা স্ট্যাম্প লাইনে বল করে বিপদে ফেলার চেষ্টা করছে দেশসেরা এই ওপেনারকে। আড়াআড়িভাবে পা অতিরিক্ত সামনে নিয়ে আসায় অফ স্ট্যাম্পের বাইরের বল খেলার ক্ষেত্রে সুবিধা পেলেও স্ট্যাম্প লাইনের বল খেলতে গিয়ে ঠিক থাকছে না মাথার পজিশন।

ফুল লেন্থের এই বলগুলো যখন তিনি মিড উইকেট বা স্কোয়ার লেগ অঞ্চলে খেলতে চাচ্ছেন হারিয়ে ফেলছেন শরীরের ভারসাম্য। সাবেক গুরু জেমি সিডন্সও বলেছেন নিয়মিত ভাল খেলতে সামনের পা আরও সোজা রাখতে হবে টাইগার কাপ্তানকে। তামিমও আস্থা রাখছেন গুরুর ওপর।
)
সিডন্সকে নিয়ে তামিম বলেন, ‘আমি তাকে অনেক সম্মান করি। তার উপদেশ ও সবকিছুর ওপর আমার আস্থা আছে।’

নিজের ভুল নিয়ে অবগত থাকলেও দুশ্চিন্তা করতে নারাজ টাইগার অধিনায়ক। বললেন, ‘এটা প্রথমবার নয় আমি ওইভাবে আউট হয়েছি এবং এটা শেষবারও নয়। সবারই এরকম হয়। তবে আমি চিন্তিত নই আর এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ওই জায়গায় আমি অনেক রান করেছি আবার অনেকবার আউটও হয়েছি।’

তবে ভুল কাটিয়ে উঠতে নিবিড় অনুশীলন করে চলছেন তামিম। তবে যেকোন সমস্যা কাটিয়ে উঠতে যে পর্যাপ্ত সময় প্রয়োজন সেটাও মনে করিয়ে দিলেন দেশসেরা ওপেনার। এবিষয়ে তামিম বলেন, ‘যখন আপনি একটা জিনিস নিয়ে কাজ করবেন চোখের পলকে সেটা ঠিক হয়ে যাবে না। এটা সময় নিবে, একটা প্রসেসের ভিতর দিয়ে যেতে হবে। এরপর এটা আরও ভাল হবে।’

তবে এখন যে আর শুধু নিজের ব্যাটিং নিয়ে দুশ্চিন্তা করলে চলে না তামিমের। গোটা দলের ভার যে তার কাঁধে। খেলোয়াড় তামিমের সঙ্গে অধিনায়ক তামিমের পার্থক্য কোথায়? উত্তরটা নিজেই দিলেন। বললেন, ‘যখন আপনি অধিনায়ক হন, আপনার পারফরম্যান্স তখন দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যায়। তখন সারাদিন দল নিয়ে আপনি ভাবতে থাকেন। আপনার চিন্তাটা আপনি খুব কম করেন কারণ আপনি বাকি ১৫ জন বা ১১ জনকে নিয়ে ভাবতে থাকেন।’

তবে তামিম যাই বলুক অধিনায়ক তামিমের পাশাপাশি ব্যাটসম্যান তামিমও সফল হবেন এই প্রত্যাশাই থাকবে শতকোটি টাইগার ভক্তের। আর থাকবেই বা না কেন, শত সমালোচনার পরও ওয়ানডেতে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ রানের মালিক যে তিনিই।