আর্থিক সংকটে স্কুল ফুটবলে মাত্র ৬৪ দল

দেশে মেধাবী ও দক্ষ ফুটবলারের সংকট। ফুটবলার উঠে আসার অন্যতম পাইপলাইন স্কুল ফুটবল। সেই স্কুল ফুটবল এবার জাতীয় পর্যায়ে আয়োজন হতে যাচ্ছে মাত্র ৬৪ স্কুল নিয়ে। আজ (মঙ্গলবার) স্কুল ফুটবল কমিটির এক সভায় আগামী ২০ মার্চ টুর্নামেন্ট শুরুর সম্ভাব্য দিনক্ষণ ঠিক হয়েছে।

স্কুল ফুটবলের মাধ্যমে দেশব্যাপী ফুটবলের জোয়ার তোলা সম্ভব। অনেক মেধাবী ও তরুণরা ফুটবলের প্রতি আকৃষ্ট হয় স্কুল ফুটবলের মাধ্যমে। সেখানে মাত্র ৬৪ স্কুল কেন জাতীয় স্কুল প্রতিযোগিতায়? এই প্রশ্নের উত্তরে বাফুফে নির্বাহী সদস্য ও স্কুল ফুটবল কমিটির চেয়ারম্যান বিজন বড়ুয়া বলেন, ‘আর্থিক সংকটের জন্য আমরা বড় পরিসরে আয়োজন করতে পারছি না বড় আকারে। তাই বাধ্য হয়ে ছোট পরিসরে করছি। ৬৪ দলের জার্সি, অংশগ্রহণ ফি, প্রাইজমানি ও আনুষাঙ্গিক সব মিলিয়ে খরচ ৩০ লাখের বেশি হবে। যা ফেডারেশন থেকে দেয়া হবে বলে আশ্বাস পেয়েছি। পৃষ্ঠপোষক ও কোটি টাকার উপর অর্থসংস্থান থাকলে কয়েক শ স্কুল নিয়ে উপজেলা পর্যায় থেকে টুর্নামেন্ট শুরু করা যেত।’

সরকারিভাবে স্কুল পর্যায়ে গ্রীষ্মকালীন প্রতিযোগিতা হয়। সেই প্রতিযোগিতায় প্রতি জেলার চ্যাম্পিয়নরা জাতীয় স্কুলে খেলবে। ৬৪ জেলার ৬৪ চ্যাম্পিয়ন স্কুলকে আট জোনে ভাগ করা হবে। আট জোনের চ্যাম্পিয়ন দল ঢাকায় এসে মূল পর্বে খেলবে। জোন ভিত্তিক খেলাগুলো অবশ্য নক আউটের পরিবর্তে লিগ ভিত্তিক হবে, ‘আমরা তরুণ ফুটবলারদের বেশি ম্যচের সুযোগ দিতে চাই। এজন্য নক আউটের পরিবর্তে গ্রুপ ভিত্তিক খেলা হবে জোনাল পর্যায়ে’ বলেন বিজন।

বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনের প্রথম মেয়াদে স্কুল ফুটবল টুর্নামেন্ট অত্যন্ত জমজমাটভাবে হয়েছিল। প্রায় পাচ হাজার স্কুল এতে অংশ নিয়েছিল। এরপরও স্কুল ফুটবলের পরিধি ছিল ব্যাপক। গত কয়েক আসরে দল সংখ্যা কমে গিয়েছে। এর কারণ সম্পর্কে বিজন বলেন, ‘প্রথমে এর পৃষ্ঠপোষক ছিল এটিএন বাংলা। এরপর ইসলামী ব্যাংক। এজন্য পরিধি ছিল বড়। এখন পৃষ্ঠপোষকতা নেই এজন্য আকারেও কমে গেছে।’

সাবেক ফুটবলার বিজন বড়ুয়া ২০১২ সালে প্রথমবারের মতো বাফুফে নির্বাহী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। তাকে পাইওনিয়ারের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল সেই কমিটিতে। তিনি অত্যন্ত দারুণভাবে পাইওনিয়ার সম্পন্ন করেছিলেন। এরপর তাকে ২০১৬ সালে স্কুল ফুটবলের দায়িত্ব দেয়া হয়। গত কমিটির মেয়াদে স্বল্প পরিসর হলেও তিনটি আয়োজন সম্পন্ন করেছিলেন বিজন।

এবারও নতুন কমিটিতে স্কুলের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে কক্সবাজারের এই ফুটবলারকে। স্কুল ফুটবলের মাধ্যমে দেশব্যাপী আলোড়ন তৈরির স্বপ্ন তার থাকলেও সাধ্য নেই। বাফুফের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা স্কুল ফুটবলের প্রতি মনোযোগী হলে আর্থিক সংকট দূরের পাশাপাশি টুর্নামেন্ট আরো জৈলুস পেত বলে ধারণা অনেকের।

Leave a Reply

Your email address will not be published.