সড়কে ৮৫ ভাগ চাঁদাবাজির অভিযোগ কমেছে: শাজাহান খান

সড়কে চাঁদাবাজির অভিযোগ প্রায় ৮৫ ভাগ কমেছে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান।

সোমবার (২৮ মার্চ) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখী মানুষের নিরাপদ যাতায়াত ও বিদ্যমান সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ে আয়োজিত এক সভায় এমন মন্তব্য করেন তিনি।

শাজাহান খান বলেন, আগের মতো সড়কে শ্রমিক-মালিকদের নামে চাঁদাবাজি হয় না। এখন বিভিন্ন পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন বাস-ট্রাক থেকে চাঁদা তোলে। সড়কে চাঁদাবাজি এখন মালিক-শ্রমিক করে না করে, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন করে।

জাতীয় সংসদের এই সদস্য বলেন, কেউ যদি মনে করে সড়ক দুর্ঘটনা একেবারেই বন্ধ হয়ে যাবে, সেটি হবে একটি অলৌকিক চিন্তা। তবে, দুর্ঘটনা হ্রাস করা যেতে পারে। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সরকার কমিটি গঠন করেছে এবং সুপারিশ দিয়েছে।

বর্তমান সরকারের আমলে আমার নেতৃত্বে একটি কমিটিও করা হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই কমিটির মাধ্যমে ১১১টি সুপারিশ করা হয়েছিল। টাস্কফোর্স গঠনের মাধ্যমে সেসব নির্দেশনা বাস্তবায়নের কাজ চলমান রয়েছে।

সড়ক দুর্ঘটনায় জন্য শুধু চালক দায়ী নয় উল্লেখ করে শাজাহান খান বলেন, যেসব দুর্ঘটনা ঘটে তার জন্য শুধুমাত্র চালককে দোষারোপ করা হয়। কিন্তু সবসময় চালকেরা দুর্ঘটনার জন্য দায়ী নয়।

সাবেক এই মন্ত্রী আরও বলেন, দুর্ঘটনা ঘটলেই পুলিশ চালকদের ধরে নিয়ে তাদের নামে মামলা দিচ্ছে। কী কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে, আসল কারণ দেখে দুর্ঘটনায় জন্য যে দায়ী তাকে শাস্তি দেওয়া উচিত। এমন হতে পারে দুর্ঘটনায় জন্য পথচারী, সড়ক ব্যবস্থা, বিআরটিএ, পরিবহন মালিক যে কেউ দায়ী হতে পারে। কিন্তু সেসবের তদন্ত না করে শুধু চালককে দায়ী করা হয়, যেটি অনৈতিক।

সভায় জাতীয় সড়ক ও রেলপথ রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আশীষ কুমার দে বলেন, বাংলাদেশে প্রায় ২১ লাখ লাইসেন্সবিহীন চালক রয়েছেন। সারাদেশে সব মিলিয়ে ২০ ধরনের ৫১ লাখ ১০ হাজার ৭৮৬টি সড়কযানের বিপরীতে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত লাইসেন্সধারী চালকের সংখ্যা ছিল ২৮ লাখ ২৫ হাজার ৭০০। গত ৮ মাসে আরও দুই লাখ চালককে লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। সে ক্ষেত্রে এই সংখ্যা হবে ৩০ লাখ ২৫ হাজার। সেই হিসেবে দেশে এখন প্রায় ২১ লাখ লাইসেন্সবিহীন চালক রয়েছেন।

আশীষ কুমার দে বলেন, ‘লাগামহীন দুর্ঘটনা, নৈরাজ্য ও অব্যবস্থাপনাসহ নানা কারণে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেকটাই নাজুক। ঈদযাত্রা ও ফিরতি যাত্রায় দুর্ঘটনা যেমন নিত্যসঙ্গী, তেমনি এ সময় দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির সংখ্যাও বেড়ে যায়।’

জাতীয় সড়ক ও রেলপথ রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক বলেন, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ঘরমুখী মানুষের নিরাপদ যাতায়াতের প্রত্যাশায় আমার কিছু সুপারিশ দিয়ে থাকি। এবার ঈদের আগেই আলোচনা করছি, যাতে সরকার সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারে।

সভায় ঈদে ঘরমুখী মানুষের নানান সমস্যাগুলো তুলে ধরা হয়। এরমধ্যে সড়কে লাগামহীন দুর্ঘটনা, এক শ্রেণির যানবাহনে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি যাত্রী বহন ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, ট্রাক ও পিকআপে যাত্রী বহন, টিকিট কালোবাজারি, বিভিন্ন ফেরিঘাটে অব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন স্থানে পরিবহনে চাঁদাবাজির মতো বিষয়গুলো নিয়ে আলোকপাত করা হয়।