সরকারি পাওনা আদায়ে মনিটরিংয়ের তথ্য আসছে না প্রতিবেদনে

চালকল মালিকদের কাছ থেকে সরকারি পাওনা টাকা আদায়ে মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত মনিটরিংয়ের বিষয়টি খাদ্য অধিদপ্তরের মাঠ পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তর থেকে মাসভিত্তিক পাঠানো প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য বলা হয়েছিল। কিন্তু মাসভিত্তিক পাঠানো প্রতিবেদনে মনিটরিংয়ের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে না। এ ইস্যুতে সংশ্লিষ্টদের চিঠি পাঠিয়েছে খাদ্য অধিদপ্তর।

অধিদপ্তরের পরিচালক মো. রায়হানুল কবীর স্বাক্ষরিত এ চিঠি সম্প্রতি সব আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রককে পাঠানো হয়েছে।

এতে খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে অধিদপ্তরে পাঠানো দুটি চিঠিও যুক্ত করা হয়। চিঠির আলোকেই ২০২১ সালের ২৮ জানুয়ারি সব আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রককে চিঠি পাঠিয়েছিল অধিদপ্তর।

সম্প্রতি পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়, ‘স্ব স্ব বিভাগের অন্তর্ভুক্ত জেলার অনাদায়ী চালকল মালিকদের কাছ থেকে সরকারি পাওনা টাকা আদায়ে মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত মনিটরিংয়ের বিষয়টি দপ্তর থেকে মাসভিত্তিক পাঠানো প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য বলা হয়েছিল। কিন্তু দপ্তর থেকে মাসভিত্তিক পাঠানো প্রতিবেদনে মনিটরিংয়ের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে না। ফলে অনাদায়ী চালকল মালিকদের কাছে সরকারি পাওনা আদায়ে নেওয়া কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত হওয়া যাচ্ছে না। এখন থেকে আলোচ্য বিষয়ে স্ব স্ব বিভাগ থেকে পাঠানো প্রতিবেদনে তদারকির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।’

এতে বলা হয়, ‘অনাদায়ী চালকল মালিকদের কাছ থেকে সরকারি পাওনা আদায়ের লক্ষ্যে বিভিন্ন আদালতে বিচারাধীন মামলা যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দ্রুত নিষ্পত্তির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলা হয়েছিল। এ ব্যাপারে প্রায় দেড় বছর সময় অতিবাহিত হলেও স্ব স্ব বিভাগের জেলার আদালতে বিচারাধীন অনাদায়ী চালকল মালিকদের কাছ থেকে সরকারি পাওনা আদায়ের কোনো অগ্রগতি নেই। মামলার কার্যক্রম এভাবে চলমান থাকলে অবশিষ্ট সরকারি পাওনা টাকা আদায় দুরূহ হয়ে পড়বে।’

‘স্ব স্ব বিভাগের জেলাগুলোর আদালতে অনাদায়ী চালকল মালিকদের কাছ থেকে সরকারি পাওনা টাকা আদায় সংক্রান্ত বিচারাধীন মামলাগুলো নিয়মিতভাবে তদারকির লক্ষ্যে তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নিবিড় তদারকি করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকদের নির্দেশনা দিতে হবে। সংশ্লিষ্ট জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকরা লিখিতভাবে মামলা তদারকি কর্মকর্তাকে চলমান মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করার নির্দেশনা দেবেন। তদারকি কর্মকর্তারা ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হয়ে বিজ্ঞ সরকারি কৌশলীকে চলমান মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য অনুরোধ করবেন।’

এ বিষয়ে মামলা তদারকি কর্মকর্তা প্রতি মাসেই মামলা তদারকি সংক্রান্ত প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বরাবর দাখিল করবেন উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়, ‘মামলা তদারকিতে শৈথিল্য প্রদর্শন করলে এবং এ নিয়ে কোনো জটিলতা সৃষ্টি হলে সংশ্লিষ্ট মামলা তদারকি কর্মকর্তা, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও বিভাগীয় প্রধান হিসেবে আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রককে জবাবদিহি করতে হবে।’