সব নৌযান তৈরির সক্ষমতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ: প্রতিমন্ত্রী

বাংলাদেশ সব ধরণের নৌযান তৈরির সামর্থ্য অর্জন করেছে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।

মঙ্গলবার (২৯ মার্চ) নারায়ণগঞ্জের বন্দরস্থ কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্স লিমিটেডে ৭০০ কোটি টাকার ড্রেজার ও জাহাজ নির্মাণকাজের উদ্বোধনকালে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন।

নৌ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সবধরনের নৌযান তৈরি করার সামর্থ্য অর্জন করেছি। বঙ্গবন্ধু যুদ্ধ বিধ্বস্ত বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে দ্বিতীয় বিপ্লব করেছেন। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর দেশ অন্ধকারের দিকে ধাবিত হয়। ক্ষমতা কুক্ষিগত করার জন্য রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যবহার করে বঙ্গবন্ধুর নামে অপপ্রচার চালানো হয়।’

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, জিয়া, এরশাদ, খালেদা জিয়া দেশের উন্নয়নে কিছুই করেনি। তারা দেশের মানুষকে শাসন ও শোষণ করেছে। লুণ্ঠন ছাড়া তারা দেশকে কিছু দিতে পারেনি।
গত ১৩ বছরে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ অনেক এগিয়ে গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শুধু নৌ-খাত নয়, সকল ক্ষেত্রে উন্নয়ন হচ্ছে। সার্বভৌমত্ব ধরে রাখার জন্য শক্তি অর্জন করেছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘করোনা মহামারির মধ্যেও দেশের অর্থনীতি থেমে যায়নি, উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ হয়নি। বাংলাদেশের মানুষকে নিরাপদে রাখতে সক্ষম হয়েছি; শুধুমাত্র আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকার কারণে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বের কারণে।’

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী, মোংলা বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার এযমিরাল মোহাম্মদ মুসা, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের চেয়ারম্যান আহমদ শামীম আল রাজী, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম সাদেক ও কর্ণফুলী শীপ বিল্ডার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার এম এ রশিদ প্রমুখ।

উল্লেখ্য, এ দিন ৭০০ কোটি টাকার অধিক ব্যয়ে চারটি ‘কাটার সাকশন ড্রেজার ও সহায়ক জলযান’ এবং একটি ‘বয়া লিফটিং জাহাজ’ এর নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী। ড্রেজারগুলো নৌপথের নাব্যতা উন্নয়ন ও সংরক্ষণে এবং ‘বয়া লিফটিং জাহাজ’ মোংলা বন্দরের চ্যানেলে বয়া স্থাপন ও প্রতিস্থাপনের কাজে সহায়ক হবে।

‘৩৫টি ড্রেজার ও সহায়ক জলযানসহ আনুষঙ্গিক সরঞ্জামাদি সংগ্রহ এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ’ প্রকল্পের বিভিন্ন প্যাকেজের আওতায় দু’টি ২৮ ইঞ্চি কাটার সাকশন ড্রেজারসহ সহায়ক জলযান ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জামাদি, দু’টি ২৪ ইঞ্চি কাটার সাকশন ড্রেজারসহ সহায়ক জলযান ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জামাদি সংগ্রহ করা হচ্ছে। এছাড়া মোংলা বন্দরের জন্য একটি ‘বয়া লিফটিং জাহাজ’ সংগ্রহ করা হচ্ছে।

ইতোমধ্যে কর্ণফুলী শীপ বিল্ডার্স লিমিটেড ড্রেজার ও বয়া লিফটিং জাহাজ নির্মাণ করছে। দু’টি ২৮ ইঞ্চি কাটার সাকশন ড্রেজারসহ সহায়ক জলযান ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জামাদি সংগ্রহে ব্যয় হবে ৩৭৮ কোটি ৭০ লাখ ৯২ হাজার টাকা এবং দু’টি ২৪ ইঞ্চি কাটার সাকশন ড্রেজারসহ সহায়ক জলযান ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জামাদি সংগ্রহে ব্যয় হবে ২১৩ কোটি ৬১ লাখ পাঁচ হাজার টাকা। এছাড়া বয়া লিফটিং জাহাজ নির্মাণে ব্যয় হবে ১১৯ কোটি টাকা। ড্রেজারগুলো ২০২৩ সালের ১৬ জুলাই এবং বয়া লিফটিং জাহাজ ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে পাওয়া যাবে।

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নৌপথের ১০০টি নদী খনন করে প্রায় ৮ হাজার কিলোমিটার নৌপথের নাব্যতা উন্নয়ন ও সংরক্ষণের মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীণ নৌ-রুট ও ফেরী রুটসমূহে সারাবছর ফেরি, লঞ্চ, কার্গো ভেসেল ও অন্যান্য নৌযান নির্বিঘ্নে চলাচলের উপযোগী করা এবং ক্রমবর্ধমান ড্রেজিং চাহিদা মিটানোর লক্ষ্যে (বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ) বিআইডব্লিউটিএ’র ড্রেজিং সক্ষমতা, ৩৫টি ড্রেজারসহ ১৬১টি জলযান সংগ্রহের মাধ্যমে ড্রেজার বহরের সংখ্যা এবং ড্রেজিং ক্যাপাসিটি তিন কোটি ২৫ লাখ ৬০ হাজার ঘনমিটার বৃদ্ধি করার জন্য ‘৩৫টি ড্রেজার ও সহায়ক জলযানসহ আনুষঙ্গিক সরঞ্জামাদি সংগ্রহ এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ’ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল-অক্টোবর ২০১৮ হতে জুন ২০২৩ এবং প্রাক্কলিত মূল্য ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৪৮৯ কোটি ৩ লাখ ৪২ হাজার টাকা।