লিমা-সফিউল্লার পরকীয়ার অভিযোগ, যা বললেন সহকর্মীরা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জের দুর্গাপুরে ‘নাপা সিরাপ খেয়ে’ জ্বরাক্রান্ত দুই শিশু ইয়াছিন খান (৭) ও মোরসালিন খানের (৫) মৃত্যু কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না স্বজনরা। ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় শিশুদের মৃত্যুর অভিযোগ উঠার পর নড়েচড়ে বসে স্বাস্থ্য ও ঔষধ প্রশাসন অধিদফতর। ঘটনা তদন্তে গঠিত হয় পৃথক কমিটি। তবে ‘নাপা সিরাপ খেয়ে’ দুই শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ প্রথম থেকেই রহস্যজনক মনে হয়েছিল ঔষধ প্রশাসনের তদন্ত কমিটির কাছে।

অবশেষে সবকিছু ছাপিয়ে দুই শিশুকে বিষপানে হত্যার অভিযোগ উঠেছে মা লিমা বেগমের বিরুদ্ধে।

পুলিশের দাবি, পরকীয়ার জেরে প্রেমিক সফিউল্লার দেওয়া বিষ মাখানো মিষ্টি খাইয়ে দুই সন্তানকে হত্যা করেন লিমা। পুলিশের অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদে লিমা এসব স্বীকার কেরেছেন।

এ ঘটনায় ওই দুই শিশুর বাবা ইসমাঈল হোসেন ওরফে সুজন খানের করা মামলায় লিমাকে গত বুধবার (১৬ মার্চ) রাতে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন লিমা। তবে সফিউল্লা পলাতক রয়েছেন। তিনিও বিবাহিত।

বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুর রহমান জানান, লিমা আশুগঞ্জের খড়িয়ালা এলাকার এস আলম এগ্রো ফুডস নামে একটি চালকলে কাজ করতেন। চালকলের শ্রমিক সর্দার সফিউল্লার সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। তারা দুইজন বিয়ের সিদ্ধান্তও নেন। তবে সফিউল্লার শর্ত ছিল লিমাকে তার দুই সন্তান রেখে আসতে হবে। সেজন্য সফিউল্লার পরামর্শে লিমা নিজেই তার দুই সন্তানকে বিষ মাখানো মিষ্টি খাইয়ে হত্যা করেন। পরিকল্পিত এই হত্যাকাণ্ড ভিন্নখাতে প্রভাবিত করতেই নাপা সিরাপের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় শিশুদের মৃত্যু হয় বলে প্রচার করেন লিমা।

ওই দুই শিশুর বাবা ইসমাঈল হোসেন বলেন, শ্রমিক সর্দার লিমাকে শিখিয়ে দিয়েছিল নাপা সিরাপ খাওয়ালে লিমার ওপর কোনো দায় আসবে না। সবাই মনে করবে নাপা সিরাপ খেয়ে মারা গেছে। মা হয়ে লিমা কীভাবে তার দুই সন্তানকে মিষ্টির সাথে বিষ খাওয়ালো? আমি লিমা এবং সফিউল্লার ফাঁসি চাই।

তবে লিমা ও সফিউল্লার মধ্যে যে পরকীয়া চলছিল-সেটি কোনোভাবেই টের পাননি তাদের সাথে কাজ করা চালকলের অন্য শ্রমিকরা। এছাড়া হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পরও কয়েকদিন স্বাভাবিকভাবে চালকলে এসে কাজ করেন সফিউল্লা। পরবর্তীতে তিনি পালিয়ে যান।

এস আলম এগ্রো ফুডসের শ্রমিক তাহমিনা জানান, লিমা এবং তিনি একসঙ্গেই কাজ করতেন। তবে শ্রমিক সর্দারের সাথে যে লিমার পরকীয়া সম্পর্ক ছিল- সেটি তিনি বুঝতে পারেননি। লিমাও এ নিয়ে কখনও তাকে কিছু জানায়নি।

আরেক শ্রমিক মো. জয়নাল জানান, লিমা-সফিউল্লার প্রেমের সম্পর্ক পুলিশের কাছ থেকেই প্রথম জানতে পেরেছেন তারা। তবে গত তিন-চারদিন ধরে সফিউল্লা চালকলে আসছেন না, তার কোনো খোঁজও পাওয়া যাচ্ছে না।

এস আলম এগ্রো ফুডসের ব্যবস্থাপক মো. জীবন জানান, ঘটনার পর তিনদিন চালকলে এসে স্বাভাবিকভাবেই কাজ করেছে সফিউল্লা। এরপর থেকেই সে নিখোঁজ। তার মোবাইল ফোনও বন্ধ। তবে লিমার সাথে তার যে পরকীয়া সম্পর্কের অভিযোগ উঠেছে সে সম্পর্কে কিছুই জানতেন না।

তবে সফিউল্লার স্ত্রীর দাবি তার স্বামী এই হত্যাকাণ্ডের সাথে কোনোভাবেই জড়িত না। তাকে ফাঁসানো হয়েছে।

সফিউল্লার স্ত্রী সানজিদা বেগম বলেন, আমার স্বামীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে। ওই মেয়ে আমার স্বামীকে বিয়ে করার জন্য বলেছিল। আমার স্বামী তাকে বিয়ে করতে রাজি না হওয়ায় সে এসব করেছে। সে বলেছিল আমার স্বামীর ক্ষতি করবে।

এ দিকে, পরকীয়া প্রেমের জন্য মা নিজের দুই সন্তানকে বিষ খাইয়ে হত্যা করার ঘটনায় বিস্মিত হয়েছেন গ্রামবাসী। এ ঘটনায় লিমা ও তার প্রেমিক সফিউল্লার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোল্লা মোহাম্মদ শাহীন বলেন, দুই শিশু হত্যকাণ্ডের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযুক্ত সফিউল্লাকে গ্রেফতারের জন্য চেষ্টা অব্যাহত আছে।