রমজানে ডাবের দাম বাড়লেও কমেছে বিক্রি

পবিত্র রমজান মাসকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে বেড়েছে ডাবের দাম। রমজানের আগে থেকেই ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে প্রতিটি ডাবের দাম।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বড় ও ভালো মানের প্রতিটি ডাব বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা দরে। এছাড়া ছোট আকারের প্রতিটি ডাব ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে আকারভেদেও উঠানামা করছে ডাবের দাম।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে ডাব বিক্রি করেন মাহবুব রহমান। প্রতিটি ডাব ৮০ থেকে ৯০ টাকা দরে বিক্রি করছেন জানিয়ে তিনি বলেন, সিকশনের ডাবের আড়ত থেকে পাইকারিতে ৬০ থেকে ৭০ টাকায় ডাব কিনে নিয়ে আসি। সেখান থেকে নিয়ে এসে ১০/১৫ টাকা লাভেই বিক্রি করে দেই।

এদিকে, টিএসসির সামনে ডাব বিক্রয় করা ইমরান হোসেন বলেন, শাঁস ছাড়া ডাবের দাম বেশি। কচি ডাব সাইজে ছোট হলেও পানি ভালো, তাই এর দাম একটু বেশি। এছাড়াও সাইজ অনুযায়ী দাম কম-বেশি হয়।

এই ডাব বিক্রেতা আরও বলেন, রমজান উপলক্ষে ডাবের দাম একটু বেশি। ডাবের আড়তেই বেশি দাম দিয়ে কিনতে হয়। আগের তুলনায় ১০ থেকে ১৫ টাকা বেশি দিয়ে আড়ত থেকে ডাব কিনতে হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে আমাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। রমযানকে কেন্দ্র করে আড়তদাররা দাম বাড়িয়েছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে, শাহবাগ মোড়ে ডাব বিক্রয় করেতে দেখা যায় মো. পারভেজকে। জানান, বরিশাল, ভোলা, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জসহ রাঙ্গামাটি থেকেও ঢাকায় ডাব আসে। আমরা তিন চারজন মিলে নোয়াখালীর লক্ষ্মীপুর থেকে ছোট-বড় ডাব ৪০ থেকে ৫০ টাকা দরে কিনে নেই। পরে ছোট পিকআপে লোড করে ঢাকায় এনে বিক্রি করি। এরমধ্যে ছোট সাইজের ডাব ৬০ টাকা আর বড়টা ৭০ টাকায় বিক্রি করি।

আজিজুল হক রামপুরা ব্রিজের নিচে ডাব বিক্রি করেন। তিনি বলেন, আড়তে কম মাল আসলে ডাবের দাম একটু বেশি হয়। আর বেশি ডাব আসলে তখন দাম কিছুটা কম থাকে।

আজিজুল হক জানান, যাত্রাবাড়ীর আড়ত থেকে পাইকারি দরে ডাব কিনি। সবচেয়ে বড় সাইজ আর ভালো মানের ডাব পাইকারিতে প্রতি হাজার ডাব আট হাজার টাকায় কিনতে হয়। তবে নোয়াখালীর ছোট সাইজের ডাবের দাম কম। আবার বরিশাল-ভোলার ডাব বড় আর মানে উন্নত হওয়ায় সেগুলোর দাম বেশি।

রোজায় দাম বাড়লেও বিক্রি কমেছে জানিয়ে তিনি বলেন, আগে প্রতিদিন ১০০ এর মতো ডাব বিক্রি হতো। কিন্তু রমজান মাসে প্রতিদিন ৭০ থেকে ৮০টা বিক্রি হয়।

বিক্রি কমার কারণ হিসেবে আজিজুল বলেন, আগে ছাত্ররা সারাদিন ডাব খেতে পারত, কিন্তু রোজা আসায় অনেকেই ডাব খেতে পারে না। তাই বিক্রিও কম। খেতে না পেরে অনেকেই পার্সেল করে নিয়ে যায় এ জন্য দামও একটু বেশি পরে।

ডাব কিনে ফিরছেন একজন ক্রেতা |
ডাব কিনতে আসা বাপেক্সের অ্যাকাউন্টস্‌ সহকারী জয়নুল আহমেদ জানান, আগে ৬০ থেকে ৭০ টাকায় ডাব কিনেছি। সেই ডাব এখন ৮০/৯০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। রমজানে ব্যবসায়ীরা বাড়তি সুযোগ নিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তবে আড়তদার মোহাম্মদ আফতাব জানান, পাইকারিতে ডাবের দাম খুব একটা বাড়েনি। ভোলার ডাব সাইজে সবচেয়ে বড় ও ভালো মানের হয়। ফলে ভালো মানের প্রতি হাজার ডাব ৭ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আবার কম দামেরও ডাব আছে। যেমন নোয়াখালীর ছোট সাইজের ডাব পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকায় বিক্রি হয়।

এই আড়তদার আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে আমাদের আড়তে মাল আসে। নোয়াখালী, বরিশাল, বাগেরহাট থেকেই মূলত বেশি ডাব আসে ঢাকায়। রমজান উপলক্ষে গাড়ির ভাড়া বেশি দিতে হয়, আর লেবারদেরও বাড়তি টাকা দিতে হয়। এই বাড়তি টাকার প্রভাব পরে খুচরা ডাবের দামে।

অপর আড়তদার ও জয়া বাণিজ্যালয়ের মালিক মোহাম্মদ ফিরোজ মন্ডল বলেন, রমজানে ডাবের দাম খুব একটা বাড়েনি। পাইকারি বাজারে ৪/৫ টাকার মতো দাম বেড়েছে। কারণ, রমজানে গাড়ি ভাড়াসহ লেবার খরচ বেড়েছে। তাই অন্যান্য সময়ের চেয়ে ৪/৫ টাকা খরচ বেড়ে যাওয়ায় একটু বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

ফিরোজ মন্ডল জানান, গরমে ডাবের প্রচুর চাহিদা থাকে। আর আমাদের মাল আসে বরিশাল ও ভোলা থেকে। যেহেতু রমজান মাস চলছে তাই লেবারদের একটু বাড়তি টাকা দিতে হচ্ছে। এছাড়া ঢাকায় মালগুলো আনতে আমাদের খরচ বেড়ে গেছে। এতে দামটা একটু বেশি পরছে। তাছাড়া পাইকারি বাজারে খুব একটা বাড়েনি ডাবের দাম। আমরা আগের দামেই বিক্রি করছি।