যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে আইনজীবী নিয়োগ দেবে সরকার

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) সাবেক-বর্তমান কর্মকর্তাদের ওপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে দেশটিতে আইনজীবী নিয়োগ করতে যাচ্ছে সরকার।

সোমবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদ ভবনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়। বৈঠকে পিআর ফার্ম, লবিস্ট ও আইনজীবী নিয়োগের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকের কার্যপত্র থেকে জানা গেছে, বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের দূতাবাস গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছে।

এছাড়া কার্যপত্রে যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে মন্ত্রণালয় বলেছে, শ্রম আইন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও মানবাধিকার ইত্যাদি বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে ক্রমাগত চাপ দিচ্ছে বলে প্রতীয়মান হয়। যুক্তরাষ্ট্র জিএসপি সুবিধা বাতিল করার পরে বাংলাদেশ একাধিক পদক্ষেপ নিলেও তারা সেজন্য পুনরায় সে সুবিধা চালু করেনি।

এতে বলা হয়, বিগত বিশ বছরে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে রাষ্ট্রপতি/প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ে কোনো দ্বিপাক্ষিক সফর হয়নি। তবে এ বছর বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তিতে উচ্চ পর্যায়ের সফর আয়োজনের জোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি মুহাম্মদ ফারুক খান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সে বিষয়ে আমরা আলোচনা করেছি। আমরা বলেছি সেখানে আমাদের দূতাবাস আগে থেকে কেন জানতে পারেনি? তারা তাদের মতো ব্যাখ্যা দিয়েছে। বলছে, করোনাভাইরাসের কারণে গ্যাপ তৈরি হয়েছিল।

তিনি বলেন, আমরা আগেই লবিস্ট নিয়োগ করার জন্য বলেছিলাম। সেটা নিয়ে কাজ করছে। এর বাইরে পিআর ফার্ম, আইনজীবী নিয়োগের কথাও বলেছে। আমরা এ বিষয়ে বলেছি, যা যা করার করুক। দরকার হলে বাজেট বাড়িয়ে নিক। ফান্ড লাগলে বলুক। বাংলাদেশ এখন উন্নয়নে যে জায়গায় আছে, সেখানে এধরনের অনেক কথাবার্তা আসবে।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে গত ১০ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্র ‘গুরুতর’ মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে বাংলাদেশের র‌্যাবের সাবেক মহাপরিচালক ও বর্তমান পুলিশ প্রধান বেনজীর আহমদসহ বাহিনীর ৭ কর্মকর্তার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রতিক্রিয়ায় ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল মিলারকে তলব করে সরকারের অবস্থান জানায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠিও দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।

এদিকে ভবিষ্যতের জন্য এরকম নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে মন্ত্রণালয়কে সতর্ক থাকার জন্য বলেছে সংসদীয় কমিটি।

কমিটির সভাপতি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র একটি নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এরকম আরও আসতে পারে। দেখা গেল ইউরোপীয় ইউনিয়নও দিলো। এজন্য আগে থেকে তৎপর হতে হবে।

এছাড়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে স্বরাষ্ট্র, বৈদেশিক কর্মসংস্থানসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা কাটাতে বাংলাদেশ ও দেশটির অভিন্ন বন্ধুদের কাজে লাগানোর পরামর্শ দিয়েছে সংসদীয় কমিটি। এ বিষয়ে ফারুক খান বলেন, জাপান, ভারত, যুক্তরাজ্য, সৌদি আরব আমাদের বন্ধু। এই দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রেরও ভালো সম্পর্ক। অভিন্নদের এই নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে কাজে লাগানোর জন্য আমরা পরামর্শ দিয়েছি। মন্ত্রণালয় এটাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে।

এছাড়া সংসদীয় কমিটি বলেছে, বিভিন্ন দেশে নিখোঁজ হওয়া বা গুম বিষয়ে কোনো বৈশ্বিক ইনডেক্স থাকলে তা সংগ্রহ করতে হবে। অন্য দেশের সঙ্গে তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থান কোন জায়গায় তা নির্ধারণ করতে হবে।

ফারুক খান বলেন, আগামী এপ্রিল মাসে আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও মার্কিন সেক্রেটারি অব স্টেটের মধ্যে মিটিং হবে। এর আগে মার্চ মাসে তিনটি সংলাপ হবে। এসব জায়গায় নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি নিয়ে কথা বলার জন্য বলেছি। যদি দরকার হয় সংসদীয় কমিটিও যাবে।

বৈঠকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাসপোর্ট সেবা সহজ করতে পাসপোর্ট অধিদপ্তরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন্য আলাদা উইং খোলার সুপারিশ করা হয়।

সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে নিযুক্ত বাংলাদেশের মিশনগুলোকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের জন্য তৎপর থাকার সুপারিশ করা হয়।

এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের মতো করে অন্য দেশের উপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে কি না, বাংলাদেশের বিপরীতে অন্য কোনো দেশের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে কি না তা আগামী বৈঠকে বিস্তারিতভাবে উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়।

বাংলাদেশ-মালদ্বীপ বাণিজ্য বৃদ্ধিতে দ্রুত ও সরাসরি নৌ যোগাযোগ স্থাপন করার ব্যাপারে কমিটি থেকে সুপারিশ করা হয়।

ফারুক খানের সভাপতিত্বে বৈঠকে আরো অংশ নেন কমিটির সদস্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, নুরুল ইসলাম নাহিদ, মো. আব্দুল মজিদ খান, মো. হাবিবে মিল্লাত, নাহিম রাজ্জাক।