ভিক্ষুক-হিজড়াতে অতিষ্ঠ

আশরাফুল আলম ও নাজমা দম্পতির দুই সন্তান সুমাইয়া(১৪) ও সাকিব(৭)। সন্তানদের নিয়ে কাক ডাকা ভোরে এসেছেন ধানমন্ডি লেক পাড়। শারীরিক সুস্থতা ধরে রাখতে প্রায়ই আসেন তারা। দীর্ঘক্ষণ হাঁটাহাঁটির পর দম নিতে বসেন রবিন্দ্র সরোবর। হঠাৎ তাদের ঘিরে একদল হিজড়ার উপস্থিতি। শারীরিক অঙ্গভঙ্গিতে টাকা( বকশিস) চাইছেন। দিতে অস্বীকৃতি জানালে ছোট ছেলে সাকিবকে নিয়ে অশোভন কথা বলতে শুরু করে। ছেলেকে নিয়ে এমন অমঙ্গল কথা শোনে মা নাজমা বেগম ১০০ টাকা দিলে চলে যায় তারা।

এসময় আশরাফুল আলমের সাথে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তিনি বলেন, সকালে আসার পর থেকেই উদ্ভট অভিজ্ঞতায় পড়তে হয়েছে। দুই দফা ভিক্ষুক বিদায়ের পর হিজড়ার দল এক প্রকার জিম্মি করেই টাকা আদায় করলো। তিনি আরও বলেন, লেক জুড়ে ‘ভিক্ষুক মুক্ত এলাকা’ লিখে রাখার যুক্তিকতা নেই।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, শুধু লেক পাড়ই নয়। সর্বত্র বেড়েছে ভিক্ষুক-হিজরার উপস্থিতি। বিনোদন কেন্দ্রসহ মানুষ স্বস্তি নিতে আসা স্থান গুলোতে তাদের উপস্থিতি বেশি। যেখানে তাদের প্রধান টার্গেট জুটি করে বসে থাকা যুবক-যুবতীরা। এক ভিক্ষুক জানায়, স্যারদের সাথে ম্যাডাম থাকলে টাহা লইতে সুবিধা। প্রথমে না করলেও (পেছন) দাঁড়িয়ে থাকলে টাহা দিয়া দেন।

রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখা যায়, যানবাহনে যাত্রীদের কাছ থেকে এক প্রকার জোর করেই চাঁদা (টাকা) আদায় করে হিজড়ার দল। সাথে বিক্ষুকদের উপস্থিতি। হিজরা- বিক্ষুকদের টাকা তোলা নতুন কিছু না হলেও, আগে মানুষ যা দিতো তাতেই নিয়ে খুশি থাকলেও এখন তারাই নির্ধারণ করে দেয় চাঁদা।

পান্থপথের নুর মোহাম্মদ নামে এক দোকানি জানায়, দীর্ঘদিন প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিলো। দোকান খুলতেই চার দিনের মাথায় হিজড়ারা হাজির। নির্দিষ্ট মাসিক ২০০ টাকার সাথে বকেয়া মাসের টাকা দাবি তাদের। অস্বীকৃতি জানালে অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে পড়তে হচ্ছে। শরীরে হাত দিচ্ছে। এরপর দূর্গাপূজার চাঁদা, এই চাঁদা, সেই চাঁদা তো আছেই।

সরেজমিনে দেখা যায়, হিজড়াদের ৫ জনের একটি দল কলাবাগান সিগন্যালে যাত্রীদের কাছে টাকা দাবি করছে। টাকা দিতে কেউ অপারগতা প্রকাশ করলে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গ করছেন। একই কায়দায় নীলক্ষেত, মতিঝিলসহ শহরের বিভিন্ন স্থানে মানুষকে জিম্মি করেই টাকা আদায় করতে দেখা যায় তাদের।

নুরুল ইসলাম নামে যাত্রী অভিযোগ করে বললেন, হিজড়াদের টাকা আদায় এখন রীতি দেখলে মনে হয় সহমর্মিতা নয় বরং টাকা আদায় করা তাদের অধিকার। সরকার ২০১৩ সালে হিজড়াদের ৩য় লিঙ্গ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। বিশেষ এ শ্রেণীর পুনর্বাসনের জন্য সরকারের এখনই ব্যবস্থা নেওয়া দরকার বলে মনে করেন তিনি।

সমাজসেবা অধিদফতরের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যে(১৫ জুলাই ২০২০) দেখা যায়, বাংলাদেশে হিজড়ার সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার। বাস্তবে এ সংখ্যা চারগুণেরও বেশি বলে মনে করেন অনেকে। যাদের বেশিরভাগই ঢাকা শহরে।

জানা যায়, একঘরে জীবন থেকে মুক্তি ও অর্থনৈতিক সঙ্কট মেটাতেই শহরমুখী হচ্ছে তারা। হিজড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের পাইলট কর্মসূচি হিসেবে ২০১২-২০১৩ অর্থবছর হতে দেশের ৭টি জেলা ঢাকা, চট্টগ্রাম, দিনাজপুর, পটুয়াখালী, খুলনা ,বগুড়া এবং সিলেটে হিজড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচি শুরু হয়।

২০১২-১৩ অর্থবছরে যার বরাদ্দ ছিল ৭২ লক্ষ ১৭ হাজার টাকা। প্রতি বছরের ধারাবাহিকতায় ২০১৯-২০ অর্থ বছরে মোট বরাদ্দকৃত অর্থের পরিমাণ ৫ কোটি ৫৬ লক্ষ টাকা। স্কুলগামী হিজড়া শিক্ষার্থীদের শিক্ষিত করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ৪ স্তরে (জনপ্রতি মাসিক প্রাথমিক ৭০০, মাধ্যমিক ৮০০, উচ্চ মাধ্যমিক ১০০০ এবং উচ্চতর ১২০০ টাকা হারে) উপবৃত্তি প্রদান করে। ৫০ বছর বা তদুর্ধ বয়সের অক্ষম ও অসচ্ছল হিজড়াদের বিশেষ ভাতা জনপ্রতি মাসিক ৬০০ টাকা।

এছাড়াও ১৮ বছর বয়সের উর্ধ্ব কর্মক্ষম ব্যক্তিদেরকে ট্রেড ভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয় । প্রশিক্ষণার্থীদেরকে প্রশিক্ষণোত্তর অফেরতযোগ্য আর্থিক সহায়তা ১০ হাজার টাকা প্রদান করে থাকে। যদিও ৩য় লিঙ্গের এ জনগোষ্ঠীর অনেকেরই দাবি এ সকল সুবিধা পাচ্ছে না তারা।

হিজড়ারা বলছে, টাকা না তুললে পেট চলে না। নিরুপায় তারা। করোনাকালে দীর্ঘদিন বন্ধ ছিলো সব। এখনো অনেক প্রতিষ্ঠান পুরোদমে খোলেনি। কিছু কিছু একেবারেই বন্ধ। সমাজ তো আমাদের গ্রহণ করে না বরং ঘৃণা করে। বাধ্য হয়ে রাস্তায় নেমেছি।

এদিকে, করোনা মহামারির পর নিন্মবিত্তদের অনেকেই পেশা পরিবর্তন করে যুক্ত হচ্ছেন ভিক্ষাবৃত্তিতে। অনেকেই আবার নিরুপায় হয়ে সাহায্য চাইছেন মানুষের কাছে। এমনি এক ভিক্ষুক সেতারা বেগমের(৬৩) সাথে আজিমরপুর কবরস্থানের মূল ফটকে কথা হয় প্রতিবেদকের। তার বাড়ি ময়মনসিংহ জেলায়। থাকেন কামরাঙ্গীরচর বস্তিতে। সেতারা বেগম বলেন, আগেতো মেসে, বাসায় রান্নার কাজ করতাম। করোনার পর থেইকা কেউ কাজে নেয় না। মামারা হগ্গলে গেরামে গেছে গা। কি করবাম? পেটতো চলে না।

অনুসন্ধানে উঠে আসে, মৌসুমী ভিক্ষুকের সংখ্যা বেড়েছে। রাজধানীর ট্রাফিক সিগন্যাল থেকে শুরু করে বিপণিবিতান, মসজিদ-মাজার, বিমানবন্দরে মানুষ এখন বিক্ষুকের উৎপাতে অতিষ্ঠ ও বিব্রত। ভিক্ষাবৃত্তিতে মূল হাতিয়ার হিসেবে প্রতিবন্ধী শিশু এবং ছোট্ট শিশুকে ভিক্ষুক সাজানো হচ্ছে। পথচারীদের গতি রোধ করে কিংবা পা জড়িয়ে ধরে আদায় করা হয় টাকা।

অভিযোগ আছে, উচ্চ আদালতের নির্দেশ অমান্য করে একশ্রেণীর অসাধু চক্র শিশুদের ভিক্ষাবৃত্তি কাজে লাগাচ্ছেন। এছাড়াও অনেক সময় মানসিক রোগীদের নগ্ন ঘোরাফেরা মানুষকে পড়তে হয় বিপত্তিতে। রাজধানীর বিজয় স্মরণীতে এমনটা প্রায়ই দেখা যায়।

রায়হান হোসাইন নামে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শহরের প্রায় প্রতিটি এলাকায় ভিক্ষুক ও ভবঘুরে বেড়েছে। প্রায়শই পড়তে হয় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে।

ভবঘুরে ও নিরাশ্রয় ব্যক্তি (পুনর্বাসন) আইন- ২০১১’তে বলা হয়েছে, ভবঘুরে, ভিক্ষুকদের আশ্রয়, পুনর্বাসন, চিকিৎসাসহ অন্যান্য দায়-দায়িত্ব বহন করবে সরকার। কিন্তু এই আইনের বাস্তবায়ন নেই বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ক্রমাগত অপরাধ বৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নেহাল করিম বলেন, দেশে আইন আছে প্রয়োগ নেই। ভিক্ষুক-হিজড়া বাড়াই শুধু সমস্যা নয়, এর সাথে বেড়েছে অপরাধ। সর্বত্র ধর্ষণ, আত্মহত্যা, খুন, শিশু নির্যাতন, সন্ত্রাসবাদ, মাদক, মারামারি আর হানাহানির খবর চারদিকে। সামাজিক অস্থিরতা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ নৈতিক অবক্ষয়। আর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সীমাবদ্ধতার কারণে আইনের শাসনে সঠিক প্রয়োগ নেই।

করোনার এই দীর্ঘ সময়ে মানুষ অসহায় হয়ে পড়েছে। বহু মানুষ অর্থকষ্টে ভিক্ষাবৃত্তিতে নেমেছে। তিনি বলেন, সামাজিক অবক্ষয়, নির্যাতন, ধর্ষণ, সহ যৌনতা বৃদ্ধির মূলে রয়েছে আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর সীমাবদ্ধতা। যেখানে সবচেয়ে বেশি কাজ করে রাজনৈতিক প্রভাব। রাজনৈতিকভাবে অপরাধীরা প্রায়শই প্রশ্রয় পেয়ে যায়।
ড. নেহাল করিম
ভবঘুরে মানুষ সহ অনেকের কারণে সর্বত্র যৌনতা বেড়েছে জানিয়ে অধ্যাপক নেহাল করিম বলেন,ধর্ষণের ঘটনা বন্ধ করতে মানুষের যৌন চাহিদা মেটানোর ব্যবস্থা থাকতে হবে। যৌন চাহিদা মেটানোর ইচ্ছা সব মানুষের সহজাত চাহিদা। এ চাহিদা মেটানোর ব্যবস্থা না থাকলে অনেকে অন্য পথে যাবেই। দেশের শিল্প এলাকায় ও বড় বড় শহরে জৈবিক চাহিদা মেটানোর ব্যবস্থা (যৌনালয়, বা ‘পতিতালয়’) থাকতে হবে। যা থাকতে হবে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায়। যা প্রতিটি দেশেই রয়েছে জানিয়ে তিনি অরও বলেন, আমাদের দেশে ধর্মের কথা বলে এসকল বিষয় চাপিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয় বলেও জানান তিনি।

ঢাকার যেসব এলাকা ভিক্ষুক মুক্ত ঘোষণা করেছে সরকার:-

ঢাকা শহরের ভিক্ষাবৃত্তি রোধে ভিক্ষুক মুক্ত এলাকা ঘোষণা করে সরকার। প্রথমিকভাবে সরকার শহরের বিমান বন্দরে প্রবেশ পথের পূর্ব পাশের চৌরাস্তা, বিমান বন্দর পুলিশ ফাড়িঁ ও এর আশ-পাশ এলাকা, হোটেল রেডিসান সংলগ্ন এলাকা, ভি আই পি রোড, বেইলী রোড, হোটেল সোনারগাঁও ও হোটেল রূপসী বাংলা সংলগ্ন এলাকা ও কুটনৈতিক জোন সমূহ। যদিও ঢাকা শহরের ভিক্ষুকমুক্ত ঘোষিত এলাকাসমূহ ভিক্ষুকমুক্ত রাখার লক্ষ্যে নিয়মিত মাইকিং, বিজ্ঞাপন, লিফলেট বিতরণ এবং বিভিন্ন স্থানে নষ্ট হয়ে যাওয়া প্লাগস্ট্যান্ড মেরামত/নতুন স্থাপন করার কাজ চলমান রাখার রাখা হয়নি। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে ঢাকা শহরের ভিক্ষুকমুক্ত ঘোষিত এলাকাসমূহে ২০টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে ২২০ জন পেশাদার ভিক্ষুককে আটক করা হয় যাদের মধ্যে ৬৯ জনকে সরকারী আশ্রয় কেন্দ্রে বিভিন্ন মেয়াদে আটক রেখে প্রশিক্ষণ প্রদান ও পুনর্বাসন করা হয়। অবশিষ্ট ১৫১ জনকে পরিবারে পুনর্বাসন করা হয়। ভিক্ষুক পুনর্বাসনের কাজটি পদ্ধতিগত ভাবে করার জন্য একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। খুব শিগগিরই নীতিমালার মুদ্রিত কপি সংশ্লিষ্ট অফিসসমূহে প্রেরণ করা হবে বলেও জানায় তারা।

ভবঘুরে পথশিশুদের নিয় পুলিশের গবেষণায় যা পাওয়া গেছে:

পুলিশ সদর দফতর সূত্রে জানাযায়, রাজধানীতে পুলিশের গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে ১১ লাখ পথশিশু কোনো না কোনো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। যাদের অর্ধেকেই মাদকাসক্ত। যারা বিক্ষাভিত্তির সাথে জড়িত। এদের পুনর্বাসন না করলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব।

জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফের সংঙ্গা অনুযায়ী, যেসব শিশুর জন্য রাস্তা বসবাসের স্থান অথবা জীবিকার উপায় হয়ে গেছে, তাদের পথশিশু বলা হয়। দেশে পথশিশুদের সংখ্যা কতো এমন পরিসংখ্যান না থালেও পথশিশুদের নিয়ে কাজ স্ট্রিট চিলড্রেন অ্যাকটিভিস্টস নেটওয়ার্ক-স্ক্যানসহ বিভিন্ন সংগঠ বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে পথশিশুর সংখ্যা ১৩ লাখের বেশি।

যারা অপরাধের সাথে জাড়িয়ে পড়ছেন। বিশেষ করে মাদক কারবার, চুরি ও ছিনতাইয়ে জড়িয়ে পড়ছে তারা। তথ্য অনুযায়ী ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও বরিশালে অপরাধ হচ্ছে বেশি। স্থান হিসেবে পর্যালোচনা করলে শুধু ঢাকার ২২৯টি স্থানে পথশিশুদের অপরাধ বেশি হচ্ছে।
পুলিশ সদর দফর তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪৪ শতাংশ পথশিশু মাদকাসক্ত। ঢাকা বিভাগে মাদকাসক্ত শিশুর ৩০ শতাংশ ছেলে এবং ১৭ শতাংশ মেয়ে। যারা জাড়িয়ে পড়ছে যৌনকর্ম সহ বিভিন্ন অপরাধে। এ পথশিশুদের ৪১ শতাংশ রাত্রীযাপনে বা ঘুমানোর বিছানা নেই, গোসল করতে পারে না ৪০ শতাংশ। ৩৫ শতাংশ খোলা জায়গায় মলত্যাগ করে, ৫৪ শতাংশ অসুস্থ হলে দেখার কেউ নেই। এছাড়াও ৭৫ শতাংশ অসুস্থ হলেও চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে না।

এছাড়াও ৩৪ দশমিক ৪ শতাংশ শিশু ৬ মান অন্তর থাকার স্থান পরিবর্তন করে। যাদের ২৯ শতাংশ শিশু আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কারণে স্থান পরিবর্তন করে থাকে। এছাড়াও নিরাপত্তাকর্মীদের কারণে স্থান ত্যাগ করে ৩৩ শতাংশ শিশু। খোলা আকাশের নিচে ঘুমানোর পরও তাদের মধ্যে ৫৬ শতাংশ শিশুকে মাসিক ১৫০ থেকে ২০০ টাকা নৈশপ্রহরী ও মাস্তানদের দিতে হয়। তথ্য বলছে, পথশিশুদের ৮৫ শতাংশই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মাদকে আসক্ত। ঢাকার অন্তত ২২৯টি স্পট রয়েছে, যেখানে ৯-১৮ বছর বয়সী শিশুরা মাদক সেবন করে।