বাংলাদেশকে জানতে হলে বঙ্গবন্ধুকে জানতে হবে: মোস্তফা জব্বার

বাংলাদেশকে জানতে হলে বঙ্গবন্ধুকে জানতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার।

সোমবার (২১ মার্চ) ঢাকার নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর ১০২তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় মন্ত্রী এ কথা বলেন।

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক আতিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ‌্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম‌্যান আজিম উদ্দিন আহমেদ এবং উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মু. ইসমাইল হোসেন বক্তৃতা করেন।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে জানতে হলে বঙ্গবন্ধুকে জানতে হবে। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে প্রায় পাঁচ হাজার বই আছে। তবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসমাপ্ত আত্মজীবনী, কারাগারের রোজনামচা ও আমার দেখা নয়াচীন তার লেখক সত্ত্বার অনন্য পরিচয়ে ভাস্বর। গ্রন্থ তিনটির বিষয়বস্তু পর্যালোচনায় দেখা যায় তার সংগ্রাম, অধ্যবসায় ও আত্মত্যাগের মহিমা বর্তমান প্রজন্মের জন্যও অনুসরণীয়।

মন্ত্রী বলেন, যুদ্ধের সময় পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি বঙ্গবন্ধুর জন‌্য বাংলাদেশের এমন কোনো মা ছিলেন না যারা দোয়া করেননি বা রোজা রাখেননি। আমার মা তার জন‌্য নয় মাস রোজা রেখেছেন তার সন্তান ফিরে আসবে না জেনেও বঙ্গবন্ধুর ডাকে যুদ্ধে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছেন।

অনুষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ‌্যে তিনি বলেন, তোমরা অবশ‌্যই পৃথিবীর অনেক মহামানবের জীবনী অধ‌্যয়ন করবে। যে মানুষটি তোমাদের একটি দেশ দিয়ে গেছেন, যিনি ডিজিটাল বাংলাদেশের বীজ বপন করেছেন তাকে পাঠ করতে কখনও ভুলবে না।

মোস্তফা জব্বার বলেন, ডিজিটাল যুগের চ‌্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রচলিত শিক্ষার ডিজিটাল রূপান্তর দরকার। তিনি শিক্ষার্থীদের আইওটি, রোবটিক্স, এআই, ব্লকচেইন পড়ানোর জন‌্য বিশ্ববিদ‌্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তি যাতে তারা উদ্ভাবন করতে পারে, এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে হবে। এ সময় মেধাসত্ত্ব দিয়ে আবিস্কারকে রক্ষা করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী। সেই সঙ্গে তিনি আবিস্কৃত উদ্ভাবনকে বাণিজ‌্যিকীকরণের মাধ‌্যমে মানুষের কাছে তা পৌঁছানোর পরামর্শও দেন।

শিক্ষার্থীদের জাতির ভবিষ‌্যত আখ‌্যায়িত করে তিনি বলেন, নতুন প্রজন্ম সমৃদ্ধ হলে দেশ ও জাতি সমৃদ্ধ হবে। এ সময় মন্ত্রী গত ১৩ বছরে বাংলাদেশের অগ্রগতির তুলনামূলক পরিসংখ‌্যান তুলে ধরে বলেন, পৃথিবীতে ২০১৬ সালে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের ধারণা ঘোষণা করার আট বছর আগে দূরদৃষ্টিসম্পন্ন রাজনীতিক শেখ হাসিনা ২০০৮ সালে ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন। পরবর্তীতে ইংল‌্যান্ড, ভারত ও পাকিস্তানসহ বিশ্বের বহু দেশ এই কর্মসূচি ঘোষণা করে।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী বলেন, অতীতে তিনটি শিল্পবিপ্লব মিস করে এবং যান্ত্রিক সভ‌্যতা থেকে ৩২৪ বছর পিছিয়ে থেকেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচি বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ আজ পঞ্চম শিল্প বিপ্লবে অংশগ্রহণের সক্ষমতা অর্জন করেছে।

মন্ত্রী বলেন, ইতোমধ‌্যে বাংলাদেশ শতভাগ বিদ্যুতায়নের আওতায় এসেছে। পৃথিবীর উন্নত অনেক দেশ ফাইভ-জি চালু করতে পারেনি। গত ডিসেম্বরে বাংলাদেশ ফাইভ-জি যুগে প্রবেশ করেছে।

মোস্তফা জব্বার বলেন, করোনাকালে গত দুই বছরে দেশে ইন্টারনেট ব‌্যান্ডউইথ ব‌্যবহার তিন গুণের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে তা ৩৩শ’ জিবিপিএস–এ উন্নীত হয়েছে। অথচ ২০০৮ সালে দেশে ব‌্যন্ডউইথের ব‌্যবহার ছিল মাত্র সাড়ে সাত জিবিপিএস। সে সময় এক এমবিপিএস ব‌্যান্ডউথেরে মূল‌্য ছিলো ২৭ হাজার টাকা যা বর্তমানে মাত্র ৬০ টাকায় পাওয়া যায়।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে অধ‌্যাপক আতিকুল ইসলাম বলেন, বঙ্গবন্ধু বাংলা ও বাঙালির স্বার্থের বিরুদ্ধে সবসময় ছিলেন সোচ্চার। ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রীর ‘বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ’ বিষয়ক এই বক্তৃতা ছাত্র-শিক্ষকদের জন‌্য মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। বক্তৃতায় অতীত আছে, বর্তমান আছে এবং ভবিষ‌্যত আছে।

আলোচনা সভা শেষে মন্ত্রী দিবসটি উপলক্ষ‌্যে শিশু-কিশোরদের জন‌্য আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার বিতরণ করেন। সেই সঙ্গে বিবিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু কর্নার, জিম, পাঠাগার, ক্যান্টিনসহ অন্যান্য স্থাপনা পরিদর্শন করেন।