বঙ্গবন্ধু সংবিধানে মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করেন: স্পিকার

১৯৭২ সালে বিশ্বসেরা সংবিধান প্রণয়নের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশে মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করেছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

বুধবার (২৩ মার্চ) রাজধানীর বিআইআইএসএস অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র‍্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) উদ্যোগে আয়োজিত হিউম্যান রাইটস ইন দ্যা টোয়েন্টি ফার্স্ট সেঞ্চুরি: রেটরিক অ্যান্ড রিয়েলিটি’ শীর্ষক হাইব্রিড সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

শিরীন শারমিন বলেন, ‘১৯৭২ সালে বিশ্বসেরা সংবিধান প্রণয়নের মাধ্যমে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশে মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করেছিলেন। স্বাধীনতা অর্জনের পর মাত্র ১০ মাসের মাথায় বঙ্গবন্ধু যে সংবিধান উপহার দিয়েছিলেন, সেই সংবিধানে ১৯৪৮ সালে জাতিসংঘ ঘোষিত সর্বজনীন মানবাধিকারের পুরোপুরি প্রতিফলন রয়েছে।’

স্পিকার বলেন, ‘বেঁচে থাকার অধিকার, আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার, নারী-পুরুষ সমানাধিকার, শিশুদের অধিকার, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের অধিকার, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি এবং কৃষক-শ্রমিকের উন্নয়নসহ সবকিছুই সন্নিবেশিত আছে বাংলাদেশের সংবিধানে।’

শিরীন শারমিন বলেন, ‘বাংলাদেশ মানবাধিকার সংরক্ষণে অঙ্গীকারবদ্ধ। বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে, যেখানে তাদের নিজ দেশে তাদের মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গনতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় অনেক সংগ্রাম করেছেন। এদেশের মানুষের মৌলিক মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় তার সংগ্রাম বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত।’

স্পিকার বলেন, ‘২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০০৯’ প্রণয়ন করা হয় এবং সে অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ মানবাধিকার কমিশন প্রতিষ্ঠা করা হয়। সরকার ইতোমধ্যে কমিশনকে শক্তিশালী করতে কমিশনের জনবল ও বাজেট বরাদ্দ এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়িয়েছে। মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হিসেবে আশ্রয়ণ প্রকল্প, গুচ্ছগ্রামের মাধ্যমে ভূমি ও গৃহহীন অসহায় পরিবারের বসবাসের জন্য পাকা ঘর নির্মাণ মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার অনন্য দৃষ্টান্ত।’

মানবাধিকারের আন্তর্জাতিক শান্তি নীতি মেনে চলার মাধ্যমে একবিংশ শতাব্দীতে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করা যাবে উল্লেখ করে ড. শিরীন শারমিন বলেন, ‘বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজব্যবস্থায় মানবাধিকারের ক্ষেত্রটি বৈচিত্র্যময় ও সুবিস্তৃত হয়েছে। মানবাধিকারের বিষয়টি বিশ্বব্যাপী প্রতিষ্ঠিত, যা অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। জন্মের পর থেকেই মানুষ মানবাধিকারগুলো অর্জন করে থাকে। প্রতিটি দেশের সরকারের দায়িত্ব মানবাধিকারের বিষয়টি নিশ্চিত করা। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে লিঙ্গ বৈষম্য দূরীকরণ, টেকসই সামাজিক উন্নয়ন, মানবাধিকার যেন লঙ্ঘন না হয় ইত্যাদি বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে হবে।’

বিআইআইএসএস-এর চেয়ারম্যান অ্যাম্বাসেডর কাজী ইমতিয়াজ হোসাইনের সভাপতিত্বে সেমিনারে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান নাসিমা বেগম এনডিসি বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।

সেমিনারে অন্যদের মধে বিআইআইএসএস’র মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ মাকসুদুর রহমান, সংসদ সদস্য অ্যারমা দত্ত, সিনিয়র হিউম্যান রাইটস এডভাইজর হুমা খান, প্রফেসর ড. মিজানুর রহমান ও ইউএনএইচসিআর-এর সিনিয়র প্রটোকল অফিসার সুভাষ ওস্টি দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন।