ফল খাওয়া ‘জুলুম’

পাঁচ বছর ধরে একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করছেন তরিকুল হাসান। পান্থপথে একটি ফলের ভ্যানের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন দীর্ঘক্ষণ। কেউ ফল কিনে বিদায় হচ্ছেন কেউ দেখে চলে যাচ্ছেন কিন্তু তরিকুল কিনছেনও না যাচ্ছেনও না।

১৫ মিনিটের মতো বিষয়টি দেখার পর কথা বলতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ভাবছি, সপ্তাহে আপেলই কিনতে হয় দুই কেজির মতো। কতো ধরণের ফল। পরিবার কিংবা বাচ্চাদের শখের ফল খাওয়াব সেটাতো রীতিমতো জুলুম আমাদের মধ্যবিত্তদের জন্য। রোজা আর গরম দুই মিলে বেড়েছে ফলের দাম। আবার গত দুই বছরে করোনার ধাক্কায় অনেকেই আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। কেউ হয়েছেন কর্মশূন্য। ফলে অনেকের কাছে ফল কেনা মানে বিলাসিতা। উচ্চমূল্যের ফল কেনা অনেকের কাছেই এখন ‘জুলুম’ মনে হয়।’

রাজধানীর দোকানগুলোতে রসালো ফলে থরে থরে সাজানো। গরমের রসালো ফল তরমুজ বিক্রি হচ্ছে অলিগলিতে। রয়েছে আনারসও। কিন্তু দাম শুনতে গেলেই অনেকের আর কেনা হয় না। তরমুজ আনারসই নয়, কলা-বেল কিংবা আপেল কমলার মতো ফলের দামও অনেক বেশি।

তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘সপ্তাহে দুই কেজি আপেল (লালটি) কিনতে হয়। দাম পড়ে ৪২০ টাকা। যদি এক কেজি কমলা কিনতে চাই বা একটি তরমুজ কিনতে চাই তাহলে আরও তিনশ লাগবে। কলা, আনারস বেল, ফ্রুটি বাদই দিলাম। শুধু দুটি ফলেই ৭০০ টাকা নাই। মাসের বেতনেতো হিমশিম খেয়ে যাই। আবার বাচ্চাদের বুঝানো যায় না। তাই ফল কিনি তবে একাধিক কিনি না।’

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রতি পিস তরমুজের দাম ৩০০। আবার কেজি ধরে কিনলে ৪০ টাকা কেজি বিক্রি করতে দেখা যায়। একটু এগিয়ে গেলে বাংলামোটর ফলের দোকানে তরমুজ ৪৫০। কেজি দরে কিনলে ৬০ টাকা। ফলের দাম একটু বেশিই বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারাও।

কারওয়ান বাজারের তরমুজ বিক্রেতা গফুর মিয়া বলেন, ‘আমাদের এখানে দাম কমই আছে। অন্য বাজারে বেশি দামে বিক্রি হয়। পাইকারিতেও বেশি কিনতে হয়।’

কারওয়ান বাজারের ফল বিক্রেতা জুলহাস উদ্দিন বলেন, ‘দামও বেশি ক্রেতাওতো খুব একটা বেশি না। প্রথম দুই তিন রোজায় মানুষ ফল কিনছে এখন খুব একটা বেশি বেচাকেনা হয় না। রাস্তায় ভ্যানে করে যারা ফল বিক্রি করেন তারাও বলেন মানুষ আগের মতো ব্যাগ ভরে ফল কেনেন না। যারা কেনেন খুব হিসাব করে।’

‘কৃষি বিপণন আইন-২০১৮’তে বলা হয়েছে, ফলের ক্ষেত্রে কেজিতে ১০ টাকা লাভ করতে পারবেন ব্যবসায়ীরা। তবে তরমুজের ক্ষেত্রে বিশেষ নির্দেশনা আছে। কেজিপ্রতি ৩ থেকে ৫ টাকার বেশি লাভ করা যাবে না। কেজি বা পিস যেভাবেই কিনবে, সেভাবেই বিক্রি করতে হবে। কিন্তু ফলের বাজারে এ আইনের প্রয়োগ নেই বললেই চলে।

খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, আড়তদারদের কারণেই বাড়ছে ফলের দাম।

খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দুইশ টাকা কেজির নিচে আপেল নেই। সবুজ আপেল ২৪০-২৫০ টাকা কেজি। মালটা, আঙুর, কমলা যাই কিনতে চান দুইশ টাকার ওপরে কেজিতে দাম। স্থান বা বাজার হিসেবে ১০ বা ২০ টাকা কম বেশি। দেশীয় ফল হিসেবে আনারস, পেয়ারা, কলা তরমুজও কিনতে নাভিশ্বাস ক্রেতাদের। খেজুর, পেয়ারা, আনারস, তরমুজ, কলা পেঁপেসহ রোজায় যেসব ফল বেশি বিক্রি হয় তার প্রায় সবগুলোরই দাম বেড়েছে। প্রতি কেজি আঙুর বিক্রি হচ্ছে ২০০-২৪০ টাকায়। কমলার দাম যেখানে প্রতি কেজি আগে ছিল ১৭০-১৮০ টাকা, সেটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২০-২৩০ টাকা। আনারের দামও বেড়েছে। চায়না নাশপাতি বিক্রি হচ্ছে ২০০-২২০ টাকা কেজি।
বাজারে এই মুহূর্তে আনারসের দাম অনেক বেশি। এখন যে আনারস পাওয়া যাচ্ছে তা আগাম আনারস সে কারণেও দাম বেশি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, ছোট আনারসের পিস বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ টাকা দরে, যা রোজার আগে ছিল ১০ টাকা পিস। মাঝারি আকারের আনারসের পিস বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকার ওপরে। যা কয়েকদিন আগেও ২০ বা ২৫ টাকায় পাওয়া যেত। বাজারে বেলের দামও বেশি।

কারওয়ান বাজারে ছোট আকারের বেল বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকা যা খুচরায় বিক্রি হচ্ছে ৩৫-৪০ টাকা। অথচ ছোট বেলের হালি কয়েকদিন আগেই বিক্রি হয়েছিল ৪০-৫০ টাকায়। মাঝারি আকারের কোনো বল ৫০ টাকার নিচে পাওয়া যায় না।

দেশি ফলের জন্য বিখ্যাত হচ্ছে ঢাকার ওয়াইজঘাট আড়ত। এখানে সব ধরনের দেশি ফল পাইকারি বিক্রি হয়। ওয়াইজঘাট ফল ব্যবসায়ী সমিতিতে সদস্য তিনশ’র বেশি।

ওয়াইজঘাট আড়ৎদার ও ফল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. আব্দুল কুদ্দুস বলেন, আমাদের এখানে তরমুজ আসছে প্রতিদিন প্রায় ৭০-৮০ হাজার। এ বছর রাঙাবালিতে কিছুটা মার খেয়েছে। পটুয়াখালি থেকে আসছে এরপর খুলনার তরমুজ আসবে।

দামও ভালো উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ভালোমানের ১০০ তরমুজ ৩০ থেকে ৩৫ হাজার দরে বিক্রি হচ্ছে।’

জানা গেছে, পাইকারির সেই ভালোমানের তরমুজ খুচরায় বিক্রি হচ্ছে ৫০০-৬০০ টাকা।

বাদামতলীতে পাইকারি ফল বিক্রেতা জানান, রোজার কারণে চাহিদাও থাকে, দামও বাড়ে। আপেল, কমলা ও মাল্টার দাম কিছুটা বেড়েছে।

হাতিরপুলে ফল কিনতে আসা মরিয়ম আক্তার বলেন, ‘আমরা রোজায় একটু ফল খেতে চাই এটা সত্য। তবে দামের সঙ্গে মিলিয়েই আমাদের চলতে হয়। মধ্যবিত্তের জীবন হচ্ছে হিসেবি জীবন। আগে এক সপ্তাহে আমার সংসারের পাঁচজনের জন্য যে ফল কিনতাম এখন অর্ধেক করে ফেলেছি। সংসারে খরচতো বাচাতে হবে। ফল কিনলেইতো হয় না, আবার একেবারে না কিনেও চলে না।

এদিকে রোজার শুরুর আগে থেকেই একটু একটু করে বেড়েছে কলার দাম। চাম্পা কলার হালি ১২ থেকে দাম বেড়ে এখন ২০ থেকে ২৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া সাগর কলা ও সবরি কলার দাম বেড়ে হয়েছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। বেড়েছে পেপের দামও।

বাজারে ফলের দাম বেশি হওয়ায় ক্রেতারাও কেনা কমিয়েছেন জানিয়ে পান্থপথের ভ্যানে ফল বিক্রেতা হাসেম বলেন, এক ভ্যান ফল বিক্রি করতে সারাদিন লাগে। কখনো সারাদিনেও শেষ হয় না। আগে ১০ জন ক্রেতা যে ফল কিনতো এখন ২০ জনেও সেই ফল কিনে না। মানুষরে অভাবে পাইছে ভাই, শান্তি নাই কোনো ব্যবসায়।

রমজানে ডাবেও স্বস্তি নেই। ডাব প্রতি পাইকারিতেই বেড়েছে ১০ টাকা বা আরও বেশি। ডাবের আকার হলেও সেটি যতো ছোটই হোক তা ৫০ টাকার নিচে পাওয়া যায় না।

কারওয়ান বাজারে ডাব বিক্রেতা জমির বলেন, ডাব হলেই ৫০। মাঝারি ডাব ৭০-৮০ আরেকটু বড় ১০০ বা আরও বেশি।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, ঢাকা শহরে বিভিন্ন আড়ত ও খুচরা বাজারে প্রতিদিন টিম মনিটরিং করছে, বাজার নিয়মিত তদারকি করছে। এরপরও কিছু মানুষ সুযোগ নেয়।

কিছু অসাধু মানুষের সুযোগে সাধারণ মানুষের জীবনে নাভিশ্বাস। অন্যান্য পণ্যের মতো ফলেও স্বস্তি পাচ্ছে না রোজায়। তবুও ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় উচ্চমূল্য দিয়েই কিনছেন ফল।পাঁচ বছর ধরে একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করছেন তরিকুল হাসান। পান্থপথে একটি ফলের ভ্যানের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন দীর্ঘক্ষণ। কেউ ফল কিনে বিদায় হচ্ছেন কেউ দেখে চলে যাচ্ছেন কিন্তু তরিকুল কিনছেনও না যাচ্ছেনও না।

১৫ মিনিটের মতো বিষয়টি দেখার পর কথা বলতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ভাবছি, সপ্তাহে আপেলই কিনতে হয় দুই কেজির মতো। কতো ধরণের ফল। পরিবার কিংবা বাচ্চাদের শখের ফল খাওয়াব সেটাতো রীতিমতো জুলুম আমাদের মধ্যবিত্তদের জন্য। রোজা আর গরম দুই মিলে বেড়েছে ফলের দাম। আবার গত দুই বছরে করোনার ধাক্কায় অনেকেই আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। কেউ হয়েছেন কর্মশূন্য। ফলে অনেকের কাছে ফল কেনা মানে বিলাসিতা। উচ্চমূল্যের ফল কেনা অনেকের কাছেই এখন ‘জুলুম’ মনে হয়।’

রাজধানীর দোকানগুলোতে রসালো ফলে থরে থরে সাজানো। গরমের রসালো ফল তরমুজ বিক্রি হচ্ছে অলিগলিতে। রয়েছে আনারসও। কিন্তু দাম শুনতে গেলেই অনেকের আর কেনা হয় না। তরমুজ আনারসই নয়, কলা-বেল কিংবা আপেল কমলার মতো ফলের দামও অনেক বেশি।

তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘সপ্তাহে দুই কেজি আপেল (লালটি) কিনতে হয়। দাম পড়ে ৪২০ টাকা। যদি এক কেজি কমলা কিনতে চাই বা একটি তরমুজ কিনতে চাই তাহলে আরও তিনশ লাগবে। কলা, আনারস বেল, ফ্রুটি বাদই দিলাম। শুধু দুটি ফলেই ৭০০ টাকা নাই। মাসের বেতনেতো হিমশিম খেয়ে যাই। আবার বাচ্চাদের বুঝানো যায় না। তাই ফল কিনি তবে একাধিক কিনি না।’

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রতি পিস তরমুজের দাম ৩০০। আবার কেজি ধরে কিনলে ৪০ টাকা কেজি বিক্রি করতে দেখা যায়। একটু এগিয়ে গেলে বাংলামোটর ফলের দোকানে তরমুজ ৪৫০। কেজি দরে কিনলে ৬০ টাকা। ফলের দাম একটু বেশিই বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারাও।

কারওয়ান বাজারের তরমুজ বিক্রেতা গফুর মিয়া বলেন, ‘আমাদের এখানে দাম কমই আছে। অন্য বাজারে বেশি দামে বিক্রি হয়। পাইকারিতেও বেশি কিনতে হয়।’

কারওয়ান বাজারের ফল বিক্রেতা জুলহাস উদ্দিন বলেন, ‘দামও বেশি ক্রেতাওতো খুব একটা বেশি না। প্রথম দুই তিন রোজায় মানুষ ফল কিনছে এখন খুব একটা বেশি বেচাকেনা হয় না। রাস্তায় ভ্যানে করে যারা ফল বিক্রি করেন তারাও বলেন মানুষ আগের মতো ব্যাগ ভরে ফল কেনেন না। যারা কেনেন খুব হিসাব করে।’

‘কৃষি বিপণন আইন-২০১৮’তে বলা হয়েছে, ফলের ক্ষেত্রে কেজিতে ১০ টাকা লাভ করতে পারবেন ব্যবসায়ীরা। তবে তরমুজের ক্ষেত্রে বিশেষ নির্দেশনা আছে। কেজিপ্রতি ৩ থেকে ৫ টাকার বেশি লাভ করা যাবে না। কেজি বা পিস যেভাবেই কিনবে, সেভাবেই বিক্রি করতে হবে। কিন্তু ফলের বাজারে এ আইনের প্রয়োগ নেই বললেই চলে।

খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, আড়তদারদের কারণেই বাড়ছে ফলের দাম।

খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দুইশ টাকা কেজির নিচে আপেল নেই। সবুজ আপেল ২৪০-২৫০ টাকা কেজি। মালটা, আঙুর, কমলা যাই কিনতে চান দুইশ টাকার ওপরে কেজিতে দাম। স্থান বা বাজার হিসেবে ১০ বা ২০ টাকা কম বেশি। দেশীয় ফল হিসেবে আনারস, পেয়ারা, কলা তরমুজও কিনতে নাভিশ্বাস ক্রেতাদের। খেজুর, পেয়ারা, আনারস, তরমুজ, কলা পেঁপেসহ রোজায় যেসব ফল বেশি বিক্রি হয় তার প্রায় সবগুলোরই দাম বেড়েছে। প্রতি কেজি আঙুর বিক্রি হচ্ছে ২০০-২৪০ টাকায়। কমলার দাম যেখানে প্রতি কেজি আগে ছিল ১৭০-১৮০ টাকা, সেটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২০-২৩০ টাকা। আনারের দামও বেড়েছে। চায়না নাশপাতি বিক্রি হচ্ছে ২০০-২২০ টাকা কেজি।
বাজারে এই মুহূর্তে আনারসের দাম অনেক বেশি। এখন যে আনারস পাওয়া যাচ্ছে তা আগাম আনারস সে কারণেও দাম বেশি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, ছোট আনারসের পিস বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ টাকা দরে, যা রোজার আগে ছিল ১০ টাকা পিস। মাঝারি আকারের আনারসের পিস বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকার ওপরে। যা কয়েকদিন আগেও ২০ বা ২৫ টাকায় পাওয়া যেত। বাজারে বেলের দামও বেশি।

কারওয়ান বাজারে ছোট আকারের বেল বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকা যা খুচরায় বিক্রি হচ্ছে ৩৫-৪০ টাকা। অথচ ছোট বেলের হালি কয়েকদিন আগেই বিক্রি হয়েছিল ৪০-৫০ টাকায়। মাঝারি আকারের কোনো বল ৫০ টাকার নিচে পাওয়া যায় না।

দেশি ফলের জন্য বিখ্যাত হচ্ছে ঢাকার ওয়াইজঘাট আড়ত। এখানে সব ধরনের দেশি ফল পাইকারি বিক্রি হয়। ওয়াইজঘাট ফল ব্যবসায়ী সমিতিতে সদস্য তিনশ’র বেশি।

ওয়াইজঘাট আড়ৎদার ও ফল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. আব্দুল কুদ্দুস বলেন, আমাদের এখানে তরমুজ আসছে প্রতিদিন প্রায় ৭০-৮০ হাজার। এ বছর রাঙাবালিতে কিছুটা মার খেয়েছে। পটুয়াখালি থেকে আসছে এরপর খুলনার তরমুজ আসবে।

দামও ভালো উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ভালোমানের ১০০ তরমুজ ৩০ থেকে ৩৫ হাজার দরে বিক্রি হচ্ছে।’

জানা গেছে, পাইকারির সেই ভালোমানের তরমুজ খুচরায় বিক্রি হচ্ছে ৫০০-৬০০ টাকা।

বাদামতলীতে পাইকারি ফল বিক্রেতা জানান, রোজার কারণে চাহিদাও থাকে, দামও বাড়ে। আপেল, কমলা ও মাল্টার দাম কিছুটা বেড়েছে।

হাতিরপুলে ফল কিনতে আসা মরিয়ম আক্তার বলেন, ‘আমরা রোজায় একটু ফল খেতে চাই এটা সত্য। তবে দামের সঙ্গে মিলিয়েই আমাদের চলতে হয়। মধ্যবিত্তের জীবন হচ্ছে হিসেবি জীবন। আগে এক সপ্তাহে আমার সংসারের পাঁচজনের জন্য যে ফল কিনতাম এখন অর্ধেক করে ফেলেছি। সংসারে খরচতো বাচাতে হবে। ফল কিনলেইতো হয় না, আবার একেবারে না কিনেও চলে না।

এদিকে রোজার শুরুর পাঁচ বছর ধরে একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করছেন তরিকুল হাসান। পান্থপথে একটি ফলের ভ্যানের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন দীর্ঘক্ষণ। কেউ ফল কিনে বিদায় হচ্ছেন কেউ দেখে চলে যাচ্ছেন কিন্তু তরিকুল কিনছেনও না যাচ্ছেনও না।

১৫ মিনিটের মতো বিষয়টি দেখার পর কথা বলতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ভাবছি, সপ্তাহে আপেলই কিনতে হয় দুই কেজির মতো। কতো ধরণের ফল। পরিবার কিংবা বাচ্চাদের শখের ফল খাওয়াব সেটাতো রীতিমতো জুলুম আমাদের মধ্যবিত্তদের জন্য। রোজা আর গরম দুই মিলে বেড়েছে ফলের দাম। আবার গত দুই বছরে করোনার ধাক্কায় অনেকেই আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। কেউ হয়েছেন কর্মশূন্য। ফলে অনেকের কাছে ফল কেনা মানে বিলাসিতা। উচ্চমূল্যের ফল কেনা অনেকের কাছেই এখন ‘জুলুম’ মনে হয়।’

রাজধানীর দোকানগুলোতে রসালো ফলে থরে থরে সাজানো। গরমের রসালো ফল তরমুজ বিক্রি হচ্ছে অলিগলিতে। রয়েছে আনারসও। কিন্তু দাম শুনতে গেলেই অনেকের আর কেনা হয় না। তরমুজ আনারসই নয়, কলা-বেল কিংবা আপেল কমলার মতো ফলের দামও অনেক বেশি।

তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘সপ্তাহে দুই কেজি আপেল (লালটি) কিনতে হয়। দাম পড়ে ৪২০ টাকা। যদি এক কেজি কমলা কিনতে চাই বা একটি তরমুজ কিনতে চাই তাহলে আরও তিনশ লাগবে। কলা, আনারস বেল, ফ্রুটি বাদই দিলাম। শুধু দুটি ফলেই ৭০০ টাকা নাই। মাসের বেতনেতো হিমশিম খেয়ে যাই। আবার বাচ্চাদের বুঝানো যায় না। তাই ফল কিনি তবে একাধিক কিনি না।’

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রতি পিস তরমুজের দাম ৩০০। আবার কেজি ধরে কিনলে ৪০ টাকা কেজি বিক্রি করতে দেখা যায়। একটু এগিয়ে গেলে বাংলামোটর ফলের দোকানে তরমুজ ৪৫০। কেজি দরে কিনলে ৬০ টাকা। ফলের দাম একটু বেশিই বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারাও।

কারওয়ান বাজারের তরমুজ বিক্রেতা গফুর মিয়া বলেন, ‘আমাদের এখানে দাম কমই আছে। অন্য বাজারে বেশি দামে বিক্রি হয়। পাইকারিতেও বেশি কিনতে হয়।’

কারওয়ান বাজারের ফল বিক্রেতা জুলহাস উদ্দিন বলেন, ‘দামও বেশি ক্রেতাওতো খুব একটা বেশি না। প্রথম দুই তিন রোজায় মানুষ ফল কিনছে এখন খুব একটা বেশি বেচাকেনা হয় না। রাস্তায় ভ্যানে করে যারা ফল বিক্রি করেন তারাও বলেন মানুষ আগের মতো ব্যাগ ভরে ফল কেনেন না। যারা কেনেন খুব হিসাব করে।’

‘কৃষি বিপণন আইন-২০১৮’তে বলা হয়েছে, ফলের ক্ষেত্রে কেজিতে ১০ টাকা লাভ করতে পারবেন ব্যবসায়ীরা। তবে তরমুজের ক্ষেত্রে বিশেষ নির্দেশনা আছে। কেজিপ্রতি ৩ থেকে ৫ টাকার বেশি লাভ করা যাবে না। কেজি বা পিস যেভাবেই কিনবে, সেভাবেই বিক্রি করতে হবে। কিন্তু ফলের বাজারে এ আইনের প্রয়োগ নেই বললেই চলে।

খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, আড়তদারদের কারণেই বাড়ছে ফলের দাম।

খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দুইশ টাকা কেজির নিচে আপেল নেই। সবুজ আপেল ২৪০-২৫০ টাকা কেজি। মালটা, আঙুর, কমলা যাই কিনতে চান দুইশ টাকার ওপরে কেজিতে দাম। স্থান বা বাজার হিসেবে ১০ বা ২০ টাকা কম বেশি। দেশীয় ফল হিসেবে আনারস, পেয়ারা, কলা তরমুজও কিনতে নাভিশ্বাস ক্রেতাদের। খেজুর, পেয়ারা, আনারস, তরমুজ, কলা পেঁপেসহ রোজায় যেসব ফল বেশি বিক্রি হয় তার প্রায় সবগুলোরই দাম বেড়েছে। প্রতি কেজি আঙুর বিক্রি হচ্ছে ২০০-২৪০ টাকায়। কমলার দাম যেখানে প্রতি কেজি আগে ছিল ১৭০-১৮০ টাকা, সেটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২০-২৩০ টাকা। আনারের দামও বেড়েছে। চায়না নাশপাতি বিক্রি হচ্ছে ২০০-২২০ টাকা কেজি।
বাজারে এই মুহূর্তে আনারসের দাম অনেক বেশি। এখন যে আনারস পাওয়া যাচ্ছে তা আগাম আনারস সে কারণেও দাম বেশি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, ছোট আনারসের পিস বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ টাকা দরে, যা রোজার আগে ছিল ১০ টাকা পিস। মাঝারি আকারের আনারসের পিস বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকার ওপরে। যা কয়েকদিন আগেও ২০ বা ২৫ টাকায় পাওয়া যেত। বাজারে বেলের দামও বেশি।

কারওয়ান বাজারে ছোট আকারের বেল বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকা যা খুচরায় বিক্রি হচ্ছে ৩৫-৪০ টাকা। অথচ ছোট বেলের হালি কয়েকদিন আগেই বিক্রি হয়েছিল ৪০-৫০ টাকায়। মাঝারি আকারের কোনো বল ৫০ টাকার নিচে পাওয়া যায় না।

দেশি ফলের জন্য বিখ্যাত হচ্ছে ঢাকার ওয়াইজঘাট আড়ত। এখানে সব ধরনের দেশি ফল পাইকারি বিক্রি হয়। ওয়াইজঘাট ফল ব্যবসায়ী সমিতিতে সদস্য তিনশ’র বেশি।

ওয়াইজঘাট আড়ৎদার ও ফল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. আব্দুল কুদ্দুস ঢাবলেন, আমাদের এখানে তরমুজ আসছে প্রতিদিন প্রায় ৭০-৮০ হাজার। এ বছর রাঙাবালিতে কিছুটা মার খেয়েছে। পটুয়াখালি থেকে আসছে এরপর খুলনার তরমুজ আসবে।

দামও ভালো উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ভালোমানের ১০০ তরমুজ ৩০ থেকে ৩৫ হাজার দরে বিক্রি হচ্ছে।’

জানা গেছে, পাইকারির সেই ভালোমানের তরমুজ খুচরায় বিক্রি হচ্ছে ৫০০-৬০০ টাকা।

বাদামতলীতে পাইকারি ফল বিক্রেতা জানান, রোজার কারণে চাহিদাও থাকে, দামও বাড়ে। আপেল, কমলা ও মাল্টার দাম কিছুটা বেড়েছে।

হাতিরপুলে ফল কিনতে আসা মরিয়ম আক্তার বলেন, ‘আমরা রোজায় একটু ফল খেতে চাই এটা সত্য। তবে দামের সঙ্গে মিলিয়েই আমাদের চলতে হয়। মধ্যবিত্তের জীবন হচ্ছে হিসেবি জীবন। আগে এক সপ্তাহে আমার সংসারের পাঁচজনের জন্য যে ফল কিনতাম এখন অর্ধেক করে ফেলেছি। সংসারে খরচতো বাচাতে হবে। ফল কিনলেইতো হয় না, আবার একেবারে না কিনেও চলে না।

এদিকে রোজার শুরুর আগে থেকেই একটু একটু করে বেড়েছে কলার দাম। চাম্পা কলার হালি ১২ থেকে দাম বেড়ে এখন ২০ থেকে ২৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া সাগর কলা ও সবরি কলার দাম বেড়ে হয়েছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। বেড়েছে পেপের দামও।

বাজারে ফলের দাম বেশি হওয়ায় ক্রেতারাও কেনা কমিয়েছেন জানিয়ে পান্থপথের ভ্যানে ফল বিক্রেতা হাসেম বলেন, এক ভ্যান ফল বিক্রি করতে সারাদিন লাগে। কখনো সারাদিনেও শেষ হয় না। আগে ১০ জন ক্রেতা যে ফল কিনতো এখন ২০ জনেও সেই ফল কিনে না। মানুষরে অভাবে পাইছে ভাই, শান্তি নাই কোনো ব্যবসায়।

রমজানে ডাবেও স্বস্তি নেই। ডাব প্রতি পাইকারিতেই বেড়েছে ১০ টাকা বা আরও বেশি। ডাবের আকার হলেও সেটি যতো ছোটই হোক তা ৫০ টাকার নিচে পাওয়া যায় না।

কারওয়ান বাজারে ডাব বিক্রেতা জমির বলেন, ডাব হলেই ৫০। মাঝারি ডাব ৭০-৮০ আরেকটু বড় ১০০ বা আরও বেশি।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, ঢাকা শহরে বিভিন্ন আড়ত ও খুচরা বাজারে প্রতিদিন টিম মনিটরিং করছে, বাজার নিয়মিত তদারকি করছে। এরপরও কিছু মানুষ সুযোগ নেয়।

কিছু অসাধু মানুষের সুযোগে সাধারণ মানুষের জীবনে নাভিশ্বাস। অন্যান্য পণ্যের মতো ফলেও স্বস্তি পাচ্ছে না রোজায়। তবুও ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় উচ্চমূল্য দিয়েই কিনছেন ফল।আগে থেকেই একটু একটু করে বেড়েছে কলার দাম। চাম্পা কলার হালি ১২ থেকে দাম বেড়ে এখন ২০ থেকে ২৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া সাগর কলা ও সবরি কলার দাম বেড়ে হয়েছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। বেড়েছে পেপের দামও।

বাজারে ফলের দাম বেশি হওয়ায় ক্রেতারাও কেনা কমিয়েছেন জানিয়ে পান্থপথের ভ্যানে ফল বিক্রেতা হাসেম বলেন, এক ভ্যান ফল বিক্রি করতে সারাদিন লাগে। কখনো সারাদিনেও শেষ হয় না। আগে ১০ জন ক্রেতা যে ফল কিনতো এখন ২০ জনেও সেই ফল কিনে না। মানুষরে অভাবে পাইছে ভাই, শান্তি নাই কোনো ব্যবসায়।

রমজানে ডাবেও স্বস্তি নেই। ডাব প্রতি পাইকারিতেই বেড়েছে ১০ টাকা বা আরও বেশি। ডাবের আকার হলেও সেটি যতো ছোটই হোক তা ৫০ টাকার নিচে পাওয়া যায় না।

কারওয়ান বাজারে ডাব বিক্রেতা জমির বলেন, ডাব হলেই ৫০। মাঝারি ডাব ৭০-৮০ আরেকটু বড় ১০০ বা আরও বেশি।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, ঢাকা শহরে বিভিন্ন আড়ত ও খুচরা বাজারে প্রতিদিন টিম মনিটরিং করছে, বাজার নিয়মিত তদারকি করছে। এরপরও কিছু মানুষ সুযোগ নেয়।

কিছু অসাধু মানুষের সুযোগে সাধারণ মানুষের জীবনে নাভিশ্বাস। অন্যান্য পণ্যের মতো ফলেও স্বস্তি পাচ্ছে না রোজায়। তবুও ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় উচ্চমূল্য দিয়েই কিনছেন ফল।