প্রধানমন্ত্রীর সফরে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারের জট খুলবে, আশা মন্ত্রীর

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলার বিষয়টি ঝুলে যায়নি জানিয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইমরান আহমদ বলেছেন, চলতি মাসেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মালয়েশিয়ায় সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে। এই সফরে শ্রমবাজার নিয়ে আলোচনা হবে। মন্ত্রী আশা করছেন, এর মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারের জট খুলবে।

শুক্রবার (১৮ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর খিলক্ষেতের লঞ্জনীপাড়া বরুয়াতে বঙ্গবন্ধু ওয়েজ আর্নার্স সেন্টার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী বলেন, ‘মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারের জন্য তারা (মালয়েশিয়া) একটি প্রস্তাব দিয়েছে, আমরাও একটি প্রস্তাব দিয়েছি। আমরা কোনো সিন্ডিকেটের পক্ষে বা বিপক্ষে নই।’

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুললেই দেশের শ্রমিকরা কম খরচে দেশটিতে যেতে পারবেন জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আলোচনা না হওয়া পর্যন্ত কোনো কিছু বলা সম্ভব নয়। আমাদের উদ্দেশ্য শ্রমিক। তাদের স্বার্থের জন্য যা কিছু করা প্রয়োজন সে অনুযায়ী আমি কাজ করবো।’

মন্ত্রী বলেন, ‘মালয়েশিয়া শ্রমিক পাঠানোর বিষয়টি ঝুলে যায়নি। স্বচ্ছ-অস্বচ্ছ নয়, আমার প্রাধান্যের বিষয় হচ্ছে শ্রমিকের স্বার্থ।’

ইমরান আহমদ জানান, আগামী ২৭ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মালয়েশিয়া সফরে যাচ্ছেন। সেই সফরে তিনি দেশটিতে বাংলাদেশের শ্রমবাজার খোলা নিয়ে আবার আলোচনা করবেন। এতে গুরুত্বপূর্ণ এই শ্রমবাজার খুলবে বলে আশা করা হচ্ছে। ‌

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক মো. হামিদুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য দেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নাসরিন জাহান। ‌‌‌‌

আরও বক্তব্য দেন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা আইএলওর বাংলাদেশ প্রতিনিধি, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের ডিজি, বোয়েসেলের পরিচালক বেলাল আহমেদ, বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানি ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) মহাপরিচালক শহিদুল আলম।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে বিদেশগামী ও প্রবাসী কর্মীদের সাময়িক আবাসন সুবিধা যার জন্যই এই হোস্টেল বা ডরমেটরিটি চালু করা হয়েছে। ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের খুব কাছে নিরাপদ পরিবেশে চালু করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু ওয়েজ আর্নার্স সেন্টারটি। নির্ধারিত ফি পরিশোধের মাধ্যমে প্রবাসী কর্মীরা বিদেশ যাওয়ার সময় অথবা বিদেশ থেকে ফেরত আসার সময়ে সাময়িকভাবে অবস্থান করতে পারবেন ডরমিটরিতে।‌ সেখানে অবস্থানকালে তাদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে খাবারের ব্যবস্থাও থাকবে।

ডরমিটরিতে যেসব সুবিধা পাওয়া যাবে

বিদেশগামী প্রবাসী কর্মীরা মাত্র ১০০ টাকা আগাম প্রদানের মাধ্যমে সরাসরি অথবা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। একটি সিটের জন্য একজন প্রবাসী আবেদন করতে পারবেন। প্রতি রাতের জন্য একটি সিটের মূল্য বাবদ ২০০ টাকা পরিশোধ করতে হবে এবং তিনি প্রতিবার সর্বোচ্চ দুই রাত অবস্থান করতে পারবেন ডরমিটরিতে। ‌‌

তবে ডরমিটরিতে অবস্থান করতে চাইলে পাসপোর্ট ও এয়ার টিকিটের কপি, বহির্গমন ছাড়পত্র বা মেম্বারশিপ সনদের কপি সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র দেখাতে হবে। একজন প্রবাসীকে ডরমেটরি সেন্টার থেকে বিমানবন্দরে যাতায়াতের জন্য পরিবহন সুবিধা, সেফ শিকারে লাগেজসহ মূল্যবান মালামাল সংরক্ষণের ব্যবস্থা, টেলিফোন অসুবিধা ইন্টারনেট সুবিধা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং বিদেশগামী কর্মীদের প্রদত্ত সেবাসমূহ সম্পর্কে আগে ব্রিফ করা হবে।

সেখানে কাউন্সিলিং ও মোটিভেশনের ব্যবস্থা রয়েছে। ‌ একজন প্রবাসীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি, সাশ্রয়ী মূল্যে খাবার, নামাজ ও সুস্থ বিনোদনের ব্যবস্থা রয়েছে। ডরমিটরিতে সব কার্যক্রম দেখভালের জন্য সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে একটি মানব নিরাপত্তাব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু ওয়েজ আর্নার্স থাকতে চাইলে সরাসরি সেন্টারে অথবা ০১৩১০৩৫০৫৫৫, ০১৭৫৪৭১৫৭২০ নাম্বারে যোগাযোগ করতে হবে।