নেত্রকোনায় হবে সাহাবুদ্দিন আহমদের প্রথম জানাজা

নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলায় অনুষ্ঠিত হবে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও সাবেক প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহমদের প্রথম জানাজা। আজই (শনিবার) দুপুর দুইটার পর এ জানাজা হওয়ার কথা রয়েছে। দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে আগামীকাল রোববার (২০ মার্চ) সকালে জাতীয় ঈদ্গাহ মাঠে। তারপর বনানী কবরস্থানে দাফন করা হবে এই সাবেক রাষ্ট্রপতির মরদেহ। গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র মুহাম্মদ সাইফুর রহমান।

শনিবার (১৯ মার্চ) ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল সাড়ে ১০টার কিছু আগে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন সাহাবুদ্দিন আহমদ। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন)। তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। সাবেক এই রাষ্ট্রপতি কয়েক বছর ধরেই বার্ধক্যজনিত নানা অসুস্থতায় ভুগছিলেন।

১৯৩০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া থানায় জন্মগ্রহণ করেন সাহাবুদ্দীন আহমদ। ১৯৫১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে (সম্মান) স্নাতক এবং ১৯৫২ সালে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন তিনি।

১৯৯০ সালে এরশাদ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ছিলেন সাহাবুদ্দীন আহমদ। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তাঁকে রাষ্ট্রপতি করা হয়। ১৯৯১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তার নেতৃত্বে দেশে একটি সাধারণ নির্বাচন সম্পন্ন হয়।

১৯৫৪ সালে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে পাকিস্তান সিভিল সার্ভিসে যোগদান করেন। ম্যাজিস্ট্রেট, মহকুমা প্রশাসক এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পদেও দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬০ সালের জুন মাসে তাঁকে বিচার বিভাগে বদলি করা হয়। তিনি ঢাকা ও বরিশালে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ এবং কুমিল্লা ও চট্টগ্রামে জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৭ সালে তিনি ঢাকা হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার নিযুক্ত হন। ১৯৭২ সালের ২০ জানুয়ারি তাঁকে বাংলাদেশ হাইকোর্টের বিচারক পদে উন্নীত করা হয়।

১৯৮০ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি সাহাবুদ্দীন আহমদকে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারক নিয়োগ করা হয়। ১৯৯০ সালে এরশাদ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ছিলেন সাহাবুদ্দীন আহমদ। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তাঁকে রাষ্ট্রপতি করা হয়। ১৯৯১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তার নেতৃত্বে দেশে একটি সাধারণ নির্বাচন সম্পন্ন হয়।

সংবিধানের ১১তম সংশোধনীর পর অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের পরও ১৯৯১ সালের ১০ অক্টোবর প্রধান বিচারপতির দায়িত্বে সুপ্রিম কোর্টে ফিরে যান তিনি। ১৯৯৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি প্রধান বিচারপতির পদ থেকে অবসর নেন।

সাহাবুদ্দীন আহমদ আবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসেন ১৯৯৬ সালে। দীর্ঘ ২১ বছর পর ৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদকে রাষ্ট্রপ্রধান করা হয়। ১৯৯৬ সালের ৯ অক্টোবর তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। পাঁচ বছর পর ২০০১ সালের ১৪ নভেম্বর রাষ্ট্রপ্রধানের পদ থেকে অবসর নেন তিনি।