ধারাবাহিক সংলাপে বসার সিদ্ধান্ত ইসির

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বাধীন কমিশন ধারবাহিকভাবে সংলাপে বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে তাদের এই উদ্যোগ। ইসির প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতি সপ্তাহে রোববার একটি করে সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সংলাপে আমন্ত্রণ জানিয়ে ইসি সচিবালয় চিঠি পাঠানো শুরু করেছে। এতে ২৬ থেকে ৩০ শিক্ষককে আমন্ত্রণ জানানো হবে। এরপর বুদ্ধিজীবী, নির্বাচন পর্যবেক্ষক, সাংবাদিক ও নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গেও সংলাপে বসার পরিকল্পনা রয়েছেন কমিশনের।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ বলেন, শিক্ষকদের সঙ্গে ইসি সংলাপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী আমন্ত্রণপত্র পাঠানো শুরু হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অন্যদের সঙ্গে সংলাপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি।

জানা গেছে, নতুন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর মঙ্গলবার পর্যন্ত কমিশনের আনুষ্ঠানিক কোনো সভা অনুষ্ঠিত হয়নি। তবে নির্বাচন কমিশনাররা নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে সংলাপের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নির্বাচন ও আইন নিয়ে অভিজ্ঞ এমন শিক্ষকদের সংলাপে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম, ড. সাদেকা হালিম, রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহ। মঙ্গলবার পর্যন্ত ২৬ জনের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে। আজ আরও কয়েকজন নাম অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। এ তালিকায় সাবেক ও বর্তমান কয়েকজন উপাচার্যও রয়েছেন।

সূত্র আরও জানায়, আগামী নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য করতে সম্ভাব্য করণীয় সম্পর্কে মতামত নেওয়া হবে সংলাপে। ইসির প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতি সপ্তাহের রোববার একটি করে সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে। দায়িত্ব নেওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যে নতুন কমিশন সংলাপে বসার উদ্যোগ নিল।
সর্বশেষ ২০১৭ সালে বিভিন্ন মহলের সঙ্গে নির্বাচন কমিশন সংলাপে বসেছিল। সে বছর ৩১ জুলাই সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বসার মধ্য দিয়ে ওই সংলাপ শুরু হয়েছিল। ৪০টি রাজনৈতিক দল, নারী নেতৃত্ব, নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে বসেছিল তৎকালীন কেএম নূরুল হুদার কমিশন।