দুপুরের পর থেকেই বাতাসে ইফতারির সুঘ্রাণ

জোহরের নামাজের পর ফার্মগেট এলাকার একটি মসজিদ থেকে বেরিয়ে ইফতারের দোকানে যান কাশেম মিয়া (৪৫)। কিছু ছোলা, জিলাপি এবং কয়েকটি সবজির পাকুরা কিনে হাটা ধরেন বাসার পথে।

শুধু কাশেম মিয়াই নন, তার মতো অনেকেই দুপুরেই কিনে নিচ্ছেন ইফতারি। আগেভাগে ইফতারি কেনার কারণ হিসেবে ক্রেতারা জানান, গতকাল গ্যাস সংকটের কারণে বাসায় ইফতার তৈরিতে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছিল তাদের। উপায় না পেয়ে দোকানে গেলেও মেলেনি ইফতারি। গ্যাস সংকট আরও কয়েকদিন থাকতে পারে বিষয়টি জেনে আজ দুপুরের মধ্যেই তারা ইফতার সামগ্রী কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। শুধু ফার্মগেটই নয়, এমন দৃশ্য রাজধানীর অধিকাংশ এলাকার।

প্রতিবারই আগেভাগে ইফতার সামগ্রী নিয়ে দোকানিরা বসলেও আজকের চিত্রটা কিছুটা ভিন্ন। গ্যাস সংকটের কারণে ইফতারির দোকানে চাহিদা বাড়বে বিষয়টি ভেবে আজ আরও আগে থেকেই দোকান ইফতারি সামগ্রীতে সাজান বিক্রেতারা। চৈত্রের তপ্ত দুপুরে অলিগলিতেও হরেক রকমের কাবাব, পেঁয়াজু, হালিম, জিলাপি, বেগুনিসহ নানা পদের খাবারের পসরা সাজিয়েছেন বিক্রেতারা। এর ফলে গরমে তেঁতে উঠা নগরীতে দুপুর থেকেই সুঘ্রাণ ছড়াচ্ছে এসব ইফতার সামগ্রী।

কোথাও বেগুনী আলুর চপ ভাজার ঘ্রাণ কিংবা মুরগির খাসির নানা পদের ঘ্রাণে মুখরিত চারপাশ। রাস্তার পাশ দিয়ে হেটে যাওয়া মানুষ এ ইফতারের সুঘ্রাণে সহজেই অনুমান করে নেন আশপাশেই রয়েছে ইফতারের কোনো দোকান। আর রাজধানীতে কয়েক কদম পরপরই মেলে নানা ধরনের বাহারি ইফতারির দোকান।

স্থায়ী দোকানের সঙ্গে যুক্ত হয় মৌসুমি বিক্রেতারাও। ফার্মগেট, গ্রিন রোড, পান্থপথ, পশ্চিম রাজাবাজার পূর্ব রাজাবাজার এলাকা ঘুরে দেখা গেছে ইফতার বিক্রির নানা দৃশ্য। কেউ চুলায় গরম তেলে বেগুনি, পেঁয়াজু দিচ্ছেন, কেউ ওজন দিচ্ছেন কেউ আবার টাকা রেখে পন্য ক্রেতার হাতে তুলে দিচ্ছেন।

ফার্মগেট থেকে ইফতার কেনেন আনাম উদ্দিন। সরকারি এই চাকরিজীবী বলেন, প্রথম রোজায় ইফতার বিড়ম্বনা ছিল বাসায়। বাসায় ফিরে ইফতার কিনতে গিয়ে বেশ ভোগান্তিই ছিল। আজ ফেরার পথে কিনে নিচ্ছি। রাজধানীর প্রতিটি ইফতারের দোকানে দুপুরের পর থেকেই ভিড় বাড়তে দেখা গেছে।

রাজধানীর ব্যস্ত ও অভিজাত এলাকা হিসেবে খ্যাত গুলশান। গুলশান-২ নাম্বারে কাঁচাবাজার এলাকায় মানুষের ভিড়ে হাটাই কষ্টকর। এর মধ্যে কিছু মানুষ কিনছেন ইফতারের ভাজাপোড়া আইটেম এবং কিছু মানুষ কিনছেন ফল।

পশ্চিম রাজাবাজার এলাকায় ইফতার বিক্রেতা জুয়েল মিয়া বলেন, আমি সারাবছর অন্য কিছু বিক্রি করি। এই একমাস ইফতারি বিক্রি করছি। প্রথম রোজায় বেশ চাহিদা ছিল কারণ কোনো বাসায় গ্যাস ছিল না। আমার সিলিন্ডারের গ্যাসও শেষ হয়ে গেছিল। তাই অনেকের কাছে ইফতার বিক্রি করতে পারিনি। আজ সিলিন্ডার ডাবল করছি। কারণ গ্যাসের সমস্যা নাকি আরও কয়েকদিন থাকবে।

পান্থপথের বিক্রেতা সবুর উদ্দিন বলেন, আমাদের এখানে চার দোকান। ইফতারের ঘ্রাণে চারপাশ ম ম করে। এক দোকান থাকলেই টের পাওয়া যায় আশপাশের কোথাও ভাজাপোড়া হচ্ছে। বিক্রির বিষয়ে তিনি বলেন, মাশাআল্লাহ প্রথম রোজায় ভালো বিক্রি হইছে। সারা মাস ভালোই হবে আশা করি।

রাজধানীতে রিকশা চালান আবুদুল্লাহ। তিনি বলেন, ‘রোজা কখনো রাখি আবার বেশি কষ্ট হলে রাখতে পারি না।’

ইফতার নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‌’ঢাহায় একটা বিষয় আছে ইফতারে। গ্রামে দেখছি দোকান খুব একটা হয় না। হাতেগোনা কয়েকটা। ঢাকায় যেখানে যাই সেইখানেই ইফতারের দোকান। বাসাতে নাকে আসে নানা খাবারে গন্ধ।’

এদিকে রাজধানীর কয়েক এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিকাল তিনটা পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ মোটামুটি ভালো আছে। তাতে রান্নাবান্না করা যাচ্ছে। আবার অনেক এলাকায় একেবারেই নেই।

ইন্দিরা রোড, গ্রিন রোড, শুক্রাবাদ এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সকাল থেকে যে পরিমাণ গ্যাসের চাপ আছে তাতে রান্নাবান্না বা ইফতারি করার মতো।

ইন্দিরা রোডের বাসিন্দা তানিয়া আক্তার বলেন, আজ যে পরিমাণ চুলায় গ্যাস আছে গতকাল (৩ এপ্রিল) এর অর্ধেকের মতো গ্যাসের চাপ থাকলেও ইফতার বানানো যেতো। রাতে সেহরি রান্না করেছি কোনো সমস্যা হয়নি।

শুক্রাবাদ এলাকার জোৎসা আক্তার নামে এক বেসরকারি চাকরিজীবীও বলেন, গ্যাস আগের মতো নেই তবে রান্না করা যাচ্ছে।

তবে মিরপুর, শ্যামলী, বাড্ডা এলাকায় কিছু স্থানে গ্যাসের চাপ একেবারেই নেই বলে জানা গেছে। রাতে সেহরি খাওয়ার জন্য অনেকেই লাকরি দিয়ে রান্নার ছবিও শেয়ার করেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। আর প্রথম রোজা থেকে অভিজ্ঞতা নিয়ে দ্রুত ইফতারি বানাচ্ছেন অনেকেই।