কমছে না উত্তাপ, বেড়েছে পেঁয়াজ-রসুন-আটার দাম

ভোজ্যতেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঊর্ধ্বগতি বেশ কিছুদিন ধরেই মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলেছে। প্রতি সপ্তাহে পণ্যের দাম বেড়েই চলছে। নিত্যপণ্যের লাগামহীন দামে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। পণ্যের ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে ব্যবসায়ী এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বৈঠক করলেও কাজ হচ্ছে না। প্রতিনিয়ত এখনও উত্তাপ ছড়াচ্ছে নিত্যপণ্যের দাম।

শুক্রবার ঢাকার বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। সকালে এসব বাজারে গিয়ে গত সপ্তাহের চেয়ে কেজিতে ১০ টাকা বেশি দরে পেঁয়াজ বিক্রি করতে দেখা গেছে। দেশি-বিদেশি সব ধরনের পেঁয়াজের দামই বেড়েছে রাজধানীর বাজারগুলোতে।

পেঁয়াজ ছাড়াও বেড়েছে রসুন এবং খোলা আটার দামও। সপ্তাহের ব্যবধানে রসুনের দামও বেড়েছে কেজিতে অন্তত ১০ টাকা করে। এছাড়া আটার মূল্যবৃদ্ধির পরিমাণ কেজিতে অন্তত ৫ টাকা।
মোহাম্মদপুরে দেশি পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৬৫ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। এক সপ্তাহ আগেও ৫০ থেকে ৫৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছিল পেঁয়াজ। এছাড়া আমদানি করা পেঁয়াজ ৫৫ থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে। সাত দিন আগে এগুলোও পাওয়া যাচ্ছিল ৫০ টাকার আশপাশে।

বেড়েছে খোলা আটার দামও। আজ প্রতি কেজি খোলা আটা ৪০ থেকে ৪২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে এর দাম ছিল ৩৫ থেকে ৩৬ টাকা। এসব পণ্যের হঠাৎ দাম বাড়ার কারণ হিসেবে পাইকারি বাজারকেই দুষছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা।

মোহাম্মদপুরের ব্যবসায়ী শিপলু হোসেন বলেন, ‘এত বড় মুদি দোকান চালাই কিন্তু লাভ হয় না। পাইকারিতে ওরা দাম বাড়িয়েছে, কাস্টমার তো এতকিছু বোঝে না। কেনার সময় মনে মনে আমাকে গালি দেয়। কি করব বলেন।’

বাজারে স্থিতিশীল আছে ব্রয়লার মুরগির দাম। আজ প্রতি কেজি ব্রয়লার ১৬০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। গত সপ্তাহেও এমন দামই ছিল। ভালো মানের দেশি রসুন বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা প্রতি কেজির আশপাশে। বড় রসুনের কেজি প্রতি বিকোচ্ছে ১০০ থেকে ১১০ টাকায়। দেশি আদার কেজি ১০০ টাকার আশপাশেই আছে।

রুই মাছ আকারভেদে বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ২২০ থেকে ৩৪০ টাকায়। ইলিশ মাছের কেজি আকারভেদে ৬০০ থেকে ১২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
মান ও আকৃতিভেদে শসা বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা দরে। কাঁচামরিচ বিকোচ্ছে ১১০ টাকার আশপাশে। হল্যান্ডের আলু প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকায়। লাল ডিমের হালি এখন ৩৬ থেকে ৩৮ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

মোহাম্মদপুর এলাকার বেসরকারি চাকরিজীবী মোহাম্মদ সাইফ হাসান বলেন, সয়াবিনের দাম বাড়ার ওপর একটা ধাক্কা খাই। ওইটা নাকি এখন কমবে শুনছি। এখন আবার পেঁয়াজ-রসুনের দাম বাড়তি। সামনের রমজানে কী যে হবে তাই ভাবছি।

এদিকে ভোক্তাকে কিছুটা স্বস্তি দিতে ভোজ্যতেল আমদানি ও খুচরা মূল্যে ভ্যাট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হলেও বাজারে এর কোনো প্রভাব দেখা যায়নি বাজারে। যেসব দোকানে তেল আছে সেগুলোতে আগের দামেই বিক্রি করতে দেখা গেছে এই নিত্যপণ্যটি।