ইফতারের একাল-সেকাল

চপ-ছোলা-মুড়ি ছাড়া ইফতারের কথা ভাবা যায়? আবার সম্পদশালীদের ইফতারে জায়গা করে নিয়েছে কাবাব, লাচ্ছি, হালিমের মতো খাবার। কিন্তু তিন যুগ আগে এদেশের মানুষের ইফতার সামগ্রীতে কি ছিল?

১০৭ বছর বয়সী হাছন গাজী বসবাস করেন রাজধানীর মোহাম্মদপুরে। বয়সের ভারে শরীর নুয়ে পরেছে। তবে এখনো লাঠিতে ভর দিয়ে যান মসজিদে। রোজাও রাখেন। ইফতার কি দিয়ে করেন জানতে চাইলে তিনি জানান, এ কালের চপ, ছোলা তাকে টানে না। তিনি এখনো তার ছোট বেলার মতোই ইফতারি করতে পছন্দ করেন।

হাছন গাজী বলেন, ‘এহন সবাই দেখি আলুর চপ, বেগুনি দিয়া ইফতার করে। আমগো ছোট বেলায় এই সব আছিল না। আমরা ইফতার করতাম ভাত দিয়া।’

হাছন গাজী জানান, তার ছোট বেলায় তিনি ইফতার করেছেন কাচা চাল দিয়ে। সকালে চাল পানি দিয়ে ভিজিয়ে রাখতেন। ইফতারের সময় ওই চাল অনেকটা নরম হতো। তা দিয়ে ইফতার করতেন তারা। এরপর নামাজ পড়ে ভাত খেতেন।

এর কিছু সময় পর ইফতারে যোগ হয় চিড়া। কেউ শুধু পানি দিয়ে চিড়া ভিজিয়ে ইফতার করত। কেউবা ভেজানো চিড়ার সঙ্গে যোগ করতেন গুড়।

বছর তিরিশেক আগে ইফতারে যোগ হয় নতুনত্ব। আলুর চপ, বেগুনি, পেয়াজু আর ছোলা যুক্ত হয় ইফতার সামগ্রীতে৷ শুরুতে সরিষার তেলে তৈরি হতো এসব খাবার। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সরিষার তেলের জায়গা দখল করে নেয় সয়াবিন তেল।

চাহিদা বাড়াতে থাকায় খাবার হোটেলগুলোতে এসব চপ বিক্রি শুরু হয়৷ আর তখনি সৃষ্টি হয় পুরনো তেলে ইফতার সামগ্রী তৈরি কর্মযজ্ঞ। যার ফলে বাড়তে শুরু করে স্বাস্থ্যঝুঁকি।

৬০ বছর বয়সী মুজাহার খাঁ জানান, তার ছোটবেলায় ইফতার সামগ্রী ছিল চিড়া ও কলা।

মুজাহার বলেন, ‘আমরা চিড়া আর কলা কচলাইয়া (মেখে) ইফতারি করতাম। নামাজ পইরা পরে ভাত খাইতাম।’

একই ইতিহাস জানালেন পঞ্চাশোর্ধ হোসনেয়ারা বেগম জানান, ছোট বেলায় তার ইফতার ছিল মলিদা, মুড়ি, খই, ফল, চিড়া দিয়ে।

এদিকে ভেজানো চাল বা চিড়া-গুড়ের আগেও ইফতারে ছিল নানান খাবারের যোগ। ভারতবর্ষে মুঘল শাসন আমল থেকেই ছিল রাজবংশীদের বিলাসী খাবারের আয়োজন। ইহিতাস থেকে জানা যায়, সে আয়োজন ইফতারেও কম ছিল না। মুঘল, সুলতান রাজারা ইফতারে আস্তো মুরগীর রোস্ট, খাসির রেজালা, কাবাব, পর্দা বিরিয়ানি, হালিম ও মিষ্টান্ন পছন্দ করতেন।