আমাদের হারানো বা পাওয়ার কিছু নেই: সিইসি

নতুন দায়িত্ব নেওয়া নির্বাচন কমিশনের হারানো বা বিশেষ কিছু পাওয়ার নেই বলে মনে করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। তবে তারা নিজেদের অবস্থান থেকে নির্বাচন সুষ্ঠু করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন সিইসি।

আজ মঙ্গলবার (২২ মার্চ) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দেশের বিশিষ্ট নাগরিকদের সঙ্গে সংলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

সিইসি বলেন, ‘এটা সত্য কথা আমাদের সাহস থাকতে হবে। সাহসের পেছনে থাকতে হবে সততা। আমাদের হারানোর কিছু নেই। পাওয়ার কিছুও নেই। জীবনের শেষ প্রান্তে আমরা ইতিবাচক যদি কিছু করতে পারি, আপনাদের সাজেশনের আলোকে নির্বাচনটা যদি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করা যায় সবার অংশগ্রহণে, সেটা একটা সফলতা হতে পারে।’

ভোটের আগে এবং ভোটের পরে ভোটারদের নিরাপত্তার সম্পর্কে সিইসি বলেন, ‘ভোটার সেন্টারে যেতে পারবে কি না? ভোটার তার সেন্টার থেকে বের হয়ে নিরাপদ কি না? ওসি-ডিসিদের মাধ্যমে ওই জায়গাটা দেখতে পারলে ভালো হয়। নির্বাচন কমিশনের বিধি-বিধানের অভাব নেই। কিন্তু এনফোর্সমেন্টের ঘাটতি রয়েছে। এনফোর্সমেন্ট ক্যাপাসিটিটা আরও বর্ধিত করতে হবে।’

শতভাগ সফলতা হয়তো কখনও সম্ভব না উল্লেখ করে সিইসি বলেন, ‘কেউ বলেছেন এটা যদি ৫০ শতাংশ ৬০ শতাংশ গ্রহণযোগ্য হয়, তাহলে এটাও একটা বড় সফলতা।’

ইভিএম প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, ‘এটার মধ্যে কোনো অসুবিধা আছে কি না, এটা ব্যবহারে অনেকেই অভ্যস্ত নয়। মেশিনের মাধ্যমে কোনো ডিজিটাল কারচুপি হয় কি না, পৃথিবীর অনেক দেশ ইভিএম বাতিল করে দিয়েছে, কেন করলো সেটা গবেষণা করা উচিত। আবার যদি কোনোরকম কারচুপি হয়ে থাকে, তাহলে রিকাউন্টিং করা যাবে কি না, এটার কোনো ব্যবস্থা আছে কি না, এটা আমাদের বুঝতে হবে। আমাদের টেকনিক্যাল কমিটির মিটিং করে একটা ধারণা নিতে হবে।’

এদিন ইসির সংলাপে সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ফরাসউদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম, সিপিডি’র বিশেষ ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান প্রমুখ বক্তব্য দেন।