অবিলম্বে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যর দাম সহনীয় পর্যায়ে আনার দাবি

বাজার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে অবিলম্বে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যর দাম সহনীয় পর্যায়ে আনার দাবি জানিয়েছেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার রক্ষা আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ।

বুধবার (২৩ মার্চ) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ ও মানববন্ধন করে এই দাবি জানানো হয়।

নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে আয়োজিত ওই বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধনে সভাপতির বক্তব্যে মুহাম্মদ আতা উল্লাহ খান বলেন, যে কোনো অজুহাতে দেশে ভোগ্যপণ্যের বাজার অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। তেল, চাল, ছোলা, গমসহ বিভিন্ন পণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ দেশে থাকার পরেও দাম বেড়েই চলেছে। টিসিবির ট্রাকে দীর্ঘ হচ্ছে মানুষের লাইন। একটু কম দামে পণ্য কেনার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও মানুষ খালি হাতে ফিরছে।

ভোক্তা অধিকার রক্ষা আন্দোলনের এই নেতা বলেন, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের অজুহাতে ভোগ্যপণ্যের দাম আরও কয়েক দফা বেড়েছে। অথচ এ যুদ্ধের প্রভাব দেশে উৎপাদিত পণ্যে বা বেশিরভাগ ভোগ্যপণ্যে পড়ার কথা নয়। কয়েকটি সিন্ডিকেট কারসাজি করে পণ্যের দাম বাড়িয়ে গরিব-মেহনতি মানুষের পকেট কাটছে। তাই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কার্যকর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।

সাধারণ মানুষ খরচ কমিয়েও প্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য কিনতে পারছে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, দাম বৃদ্ধি এখন যে পর্যায়ে আছে, তা সাধারণের নাগালের বাইরে চলে গেছে। এরপর মধ্যবিত্তের পক্ষেও আর প্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য কেনা কঠিন হবে। শুধু উচ্চবিত্তরা কিনে খেতে পারবে। এ অবস্থায় সিন্ডিকেটের লাগাম না টানলে আসন্ন রমজানে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে।

মানববন্ধনে বাংলাদেশ ন্যাপের মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া বলেন, শ্রমজীবী মেহনতী মানুষের জীবন ধারণের ন্যূনতম যোগান দিতে সারা বছরের জন্য পূর্ণ রেশনিং ব্যবস্থা চালু করতে হবে। তা না হলে বছরের একেক সময় একেক পণ্যের দাম বাড়িয়ে সিন্ডিকেট মানুষকে জিম্মি করবে। পূর্ণাঙ্গ রেশনিং ব্যবস্থাই পারে এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি দিতে।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার রক্ষা আন্দোলন আয়োজিত ওই মানববন্ধনে অন্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন জাসদ উপদেষ্টা এনামুজ্জামান চৌধুরী, শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. হাবিবুর রহমান খান, জাতীয় জাগো নারী ফাউন্ডেশনের সভাপতি রেহেনা আক্তার রেনু, এফডিপি আহ্বায়ক ডা. এ আর খান, এনডিপি মহাসচিব মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা, জাতীয় স্বাধীনতা পার্টির চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান মিজু প্রমুখ।