স্বাস্থ্যখাতের কর্মীদের ধর্মঘট নিষিদ্ধ করল শ্রীলঙ্কা

স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্দোলনে চিকিৎসা খাতে অচলাবস্থা তৈরি হওয়ায় স্বাস্থ্যসেবা এবং বিদ্যুৎ খাতে ধর্মঘট পালন নিষিদ্ধ করেছে শ্রীলঙ্কা। টানা ষষ্ঠ দিনের মতো স্বাস্থ্যখাতের কর্মীদের আন্দোলনে রাষ্ট্রায়ত্ত হাসপাতালে ব্যাপক বিপর্যয় দেখা যাওয়ায় শনিবার দেশটির প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন।

প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসে ১৯৭৯ সালের একটি আইনে এ দুই খাতে ধর্মঘট পালন নিষিদ্ধ করেছেন। বিদ্যুৎ এবং স্বাস্থ্য খাত সংশ্লিষ্ট সব ধরনের কাজকে ‘অপরিহার্য জনসেবা’ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

কঠোর এই আইন কেউ লঙ্ঘন করলে তাকে পাঁচ বছরের জেল এবং কাজ করতে অস্বীকৃতি জানানো কর্মীদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে পারবেন দেশটির আদালত।

আন্দোলন স্থগিত করতে দেশটির আদালত বৃহস্পতিবার নির্দেশনা দেন। কিন্তু আন্দোলনকারীরা আদালতের সেই নির্দেশ উপেক্ষা করে বিভিন্ন দাবিতে ঘর্মঘট পালন করছেন। আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে কর্মীদের ধর্মঘট পালনের মাঝে শনিবার প্রেসিডেন্ট ওই নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়েছেন।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিনিধি মিনেলে ফার্নান্দেজ বলেছেন, প্রেসিডেন্টের কঠোর সিদ্ধান্তের পরও কর্মীদের সংগঠন ধর্মঘট পালন স্থগিত করেনি।

প্রেসিডেন্টের এই নির্দেশের প্রভাব কী এবং কেমন হতে পারে সে বিষয়ে জানতে আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করা হচ্ছে বলে স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের সংগঠনের পক্ষ থেকে আলজাজিরাকে জানানো হয়েছে।

গত কয়েক মাস ধরে বৈদেশিক মুদ্রা সংকটের কারণে শ্রীলঙ্কার অর্থনীতি ব্যাপক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। এর মাঝেই দেশটির স্বাস্থ্যসেবা এবং বিদ্যুৎখাতের কর্মীরা বেতন কাঠামো পুনর্গঠন এবং উচ্চ-ভাতাসহ বিভিন্ন ধরনের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছেন। বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করে দেশটির সরকার বলেছে, কর্মীদের বেতন বৃদ্ধি সম্ভব নয়।

সরকারের এই সিদ্ধান্তের পর হাজার হাজার স্বাস্থ্যকর্মী দেশজুড়ে ধর্মঘট শুরু করায় হাসপাতালের জরুরি পরিষেবা ছাড়া অন্যান্য সব ধরনের সেবা বন্ধ হয়ে গেছে। হাসপাতালের নিয়মিত অনেক সেবাও রোগীরা পাচ্ছেন না।

দেশটির একটি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র যুক্তরাষ্ট্রের এক কোম্পানির কাছে বিক্রি করে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে শ্রীলঙ্কার সরকার। ওই কেন্দ্র বিক্রি করে দেওয়া হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুমকি দিয়ে রেখেছে বিদ্যুৎখাতের কর্মীরাও।