রাশিয়ার আগ্রাসনে ২ হাজারের বেশি বেসামরিক নিহত: ইউক্রেন

গত এক সপ্তাহ ধরে রাশিয়ার চালানো আগ্রাসনে ইউক্রেনে ২ হাজারের বেশি বেসামরিক নাগরিকের প্রাণহানি ঘটেছে বলে দাবি করেছে ইউক্রেনের কর্তৃপক্ষ। রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর ইউক্রেনজুড়ে অনবরত গোলাবর্ষণ, ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এই প্রাণহানি ঘটেছে।

বুধবার ইউক্রেনের ইমারজেন্সি সার্ভিস এই তথ্য জানিয়ে বলেছে, নিহতদের মধ্যে অন্তত ১০ উদ্ধারকর্মীও রয়েছেন।

ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার অব্যাহত গোলাবর্ষণে ৪ শতাধিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া উদ্ধারকর্মীরা অন্তত ৪১৬টি বিস্ফোরক নিস্ক্রিয় করেছেন। ইমারজেন্সি সার্ভিস বলছে, সাত দিনের এই যুদ্ধে রাশিয়া শত শত পরিবহন কেন্দ্র, আবাসিক ভবন, হাসপাতাল এবং কিন্ডারগার্টেন ধ্বংস করেছে।

এদিকে, ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় মারিউপোলের কর্মকর্তারা বলেছেন, রুশ সীমান্তের কাছে এই শহরে কয়েক ঘণ্টা ধরে টানা গোলাবর্ষণ করেছে রাশিয়া। এতে শহরটিতে ব্যাপক সংখ্যক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

মারিউপোলের ডেপুটি মেয়র সার্জি ওরলোভ বলেছেন, ‘নদী তীরবর্তী এই জেলা; যেখানে তার বাবাসহ এক লাখ ৩০ হাজার মানুষের বসবাস। রাশিয়ার হামলায় শহরটি প্রায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।’

টেলিফোনে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে তিনি বলেছেন, ‘আমরা এই শহরে নিহতের সংখ্যা হিসাব করতে পারিনি। তবে অন্তত শত শত মানুষ মারা গেছেন বলে আমরা আশঙ্কা করছি।’ তিনি বলেন, আমরা মরদেহ উদ্ধারের জন্যও যেতে পারছি না।

ওরলোভ বলেন, রাশিয়ার সামরিক বাহিনী তাদের সব ধরনের অস্ত্র—কামান, একাধিক রকেট লঞ্চ সিস্টেম, বিমান, কৌশলগত রকেট ব্যবহার করছে। তারা শহর ধ্বংস করার চেষ্টা করছে। রুশ বাহিনী শহরের চারদিক থেকে ঘিরে ফেলেছে। বর্তমানে তারা কয়েক কিলোমিটার দূরে রয়েছে।

অন্যদিকে, বুধবার ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় কৌশলগত অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহর খেরসন দখলে নেওয়ার দাবি করেছে রাশিয়া। তবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এই শহর দখলে রাশিয়ার দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলছে, রুশ সৈন্যরা শহরটি ঘিরে ফেলেছে।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নির্দেশে প্রতিবেশী ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৭ লাখ ৮০ হাজারের বেশি ইউক্রেনীয় দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার বোমাবর্ষণ অব্যাহত রয়েছে, কিছু কিছু শহরে রুশ সৈন্যদের সঙ্গে ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনীর সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করেছে।

রাজধানী কিয়েভের চারপাশে রুশ সৈন্যরা অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্রজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং গোলাবারুদ বর্ষণ করছে। রাজধানীর পতন ঠেকাতে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সাধারণ জনগণও রুশ স্যৈন্যদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেমেছেন।