যুদ্ধের রেশ পড়বে এশিয়ার অর্থনীতিতে: বিশ্বব্যাংক

ইউক্রেনের যুদ্ধের প্রভাবে আগামী মাসগুলোতে মন্থর হয়ে আসবে এশিয়ার অর্থনীতি৷ মঙ্গলবার (৫ এপ্রিল) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমন দাবিই করেছে বিশ্বব্যাংক।

প্রতিবেদনে বলা হয়, রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ প্রসূত পণ্য সরবরাহে বাধা, আর্থিক চাপ এবং উচ্চ মূল্যের প্রত্যক্ষদর্শী হয়েছে এশিয়া। পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, চলতি বছর এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে পরিলক্ষিত হবে ধীর প্রবৃদ্ধি এবং ক্রমবর্ধমান দারিদ্র্য।

আন্তর্জাতিক সংস্থাটি বলছে, ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন তেল, গ্যাস এবং অন্যান্য পণ্যের দাম বাড়াতে সাহায্য করেছে। গৃহস্থালির ক্রয় ক্ষমতাও দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। ইতোমধ্যে মহামারির কারণে অস্বাভাবিকভাবে উচ্চ মাত্রার ঋণের সাথে লড়াই করছে দেশগুলো।

বিশ্বব্যাংকের পর্যবেক্ষণে এশীয় অঞ্চলের প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশ পরিলক্ষিত হয়েছে, উল্লেখ্য ২০২২ সালের অনুমিত প্রবৃদ্ধি ছিল ৫.৪ শতাংশ। প্রতিবেদনে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে বৃহত্তম মহাদেশটির প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশে নেমে যেতে পারে। অথচ ২০২১ সালের মহামারি জর্জরিত সময়েও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ছিল ৭.২ শতাংশ।

বিশ্বব্যাংক অনুমান করছে, এশীয় অঞ্চলের বৃহত্তম অর্থনীতি চীনে চলতি বছর প্রবৃদ্ধির হার হবে ৫ শতাংশ। অথচ গত বছর ৮.১ শতাংশ হারে প্রসারিত হয়েছিল বেইজিংয়ের রাজকোষ।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে এশিয়ার অর্থনীতি ধীরকরণে একাধিক প্রভাবকের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। যুদ্ধ, যুক্তরাষ্ট্র এবং কিছু অন্যান্য দেশে আর্থিক নীতির পরিবর্তন এবং চীনে মন্দাকে প্রধান প্রভাবক হিসেবে চিহ্নিত করেছে সংস্থাটি।

প্রতিবেদনে উন্নয়ন ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠানটি বাণিজ্য সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে, আরও সবুজ শক্তি প্রযুক্তি গ্রহণ এবং জীবাশ্ম জ্বালানি ভর্তুকি বন্ধ করার জন্য সুপারিশ করেছে। আর সরকারগুলোর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে বাণিজ্য ও পরিষেবার উপর থেকে বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের।

বিশ্বব্যাংকের পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রধান অর্থনীতিবিদ আদিত্য মাট্টু বলেন, ‘‘জনগণের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক যন্ত্রণাকে তাদের সরকারের সঙ্কুচিত আর্থিক সক্ষমতার মুখোমুখি হতে হবে। আর্থিক এবং বাণিজ্য সংস্কারের সংমিশ্রণ ঝুঁকি হ্রাস করতে পারে, প্রবৃদ্ধি পুনরুজ্জীবিত করতে পারে এবং দারিদ্র্য হ্রাস করতে পারে।’’