মারাত্মক খাদ্য সংকটের মুখে শ্রীলঙ্কা

২২ কোটি জনসংখ্যার দেশ শ্রীলঙ্কায় চলছে অর্থনৈতিক মন্দা। খাবারের অভাব, ক্রমশ ফুরিয়ে আসা জ্বালানি অস্থির করে তুলেছে দেশবাসীকে। বাড়ছে ক্ষোভ-বিক্ষোভ প্রতিবাদ। চারপাশে হাহাকার। বিদ্যুৎ নেই, পেট্রল-ডিজেল নেই, খাবার নেই। এমন অবস্থায় ধীরে ধীরে মারাত্মক খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে শ্রীলঙ্কার সংসদ।

যত দিন যাচ্ছে, আরো ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে শ্রীলঙ্কা। বুধবার দিনভর কলম্বোর ছাত্ররা বিক্ষোভ দেখিয়েছে রাজপথে। গত কয়েকদিন ধরেই কলম্বোর একাধিক মন্ত্রণালয়ের সামনে বিক্ষোভ দেখাচ্ছে মূলত ছাত্র এবং সাধারণ মানুষ। বৃহস্পতিবার আন্দোলন আরো তীব্র হয়।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের গেটে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে তারা ঢুকে পড়ে ভিতরে। ওষুধ এবং খাবারের দাবিতে তারা বিক্ষোভ দেখাতে থাকে। শ্রীলঙ্কা পার্লামেন্টের স্পিকার মাহেন্দা ইয়েপা আবেওয়ারদনা বলেছেন, আরো ভয়াবহ সময় আসতে চলেছে অদূর ভবিষ্যতে। দেশ ক্রমশ অনাহারের দিকে যাচ্ছে।

প্রতিটি পেট্রোল পাম্প এবং গ্যাস স্টেশনের বাইরে লম্বা লাইন। ৩৬ ঘণ্টা ধরে লাইনে দাঁড়িয়েও সামান্য তেল পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ। ভারতের কাছ থেকে আরো তেল নেয়াার দাবি জানাচ্ছেন তারা। বিরোধীদের চাপে জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার করেছে শ্রীলঙ্কার প্রশাসন।

দেশ ছেড়ে পালাতে শুরু করেছেন সাধারণ মানুষ। ভারতে এসে আশ্রয় নিতে শুরু করেছেন তারা। বিপুল অঙ্কের অর্থ খরচ করে দুর্গম সমুদ্রে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে পাড়ি দিচ্ছেন তারা।

বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, রাজাপাকসে সরকারের ভুল নীতির কারণে এই অবস্থায় এসে পৌঁছেছে শ্রীলঙ্কা। সাহায্য না পেলে এখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানো অসম্ভব।

ভারত ইতিমধ্যেই এক জাহাজ তেল পাঠিয়েছে শ্রীলঙ্কায়। এক বিলিয়ন ডলারের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস পাঠানো হবে বলে জানানো হয়েছে।