বিদায় ঘণ্টা বাজল ইমরান খানের?

দেশে চলমান তীব্র রাজনৈতিক সংকটের মুখে পাকিস্তানের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা সদস্য নাজিব হারুন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের পদত্যাগই দেশের চলমান সংকট অবসানের একমাত্র উপায়। শনিবার পাকিস্তানের স্থানীয় গণমাধ্যম জিও নিউজের এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে এমন মন্তব্য করেছেন তিনি।

হারুন বলেছেন, ‌প্রধানমন্ত্রীর (ইমরান খান) পদত্যাগ এবং দলের অন্য কোনো সদস্যকে প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য সামনে আনা উচিত।‌ ‘এটাই সামনে এগিয়ে যাওয়ার এবং চলমান সংকট অবসানের একমাত্র উপায়,’ বলেন তিনি।

জিও নিউজের তথ্য অনুযায়ী, হারুন বলেছেন, ‘দেশ আর অস্থিতিশীলতা জিঁইয়ে রাখতে পারে না। প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে অবশ্যই একগুঁয়েমি ত্যাগ এবং দলের ভেতর থেকে অন্য কাউকে প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হিসাবে এগিয়ে আনতে হবে।’

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবের তারিখ যতই ঘনিয়ে আসছে, দেশটির ক্ষমতাসীন পিটিআই দলীয় জাতীয় পরিষদের বেশ কয়েকজন অসন্তুষ্ট সদস্য বলেছেন, তারা ক্ষমতাসীন দলের সাথে আর থাকবেন না এবং আগামী নির্বাচনে পিটিআইয়ের টিকেটে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও করবেন না।

এসব ছাড়াও পিটিআইয়ের একজন এমপি দাবি করেছেন যে, ইতোমধ্যে তিনজন ফেডারেল মন্ত্রী পিটিআই থেকে পদত্যাগও করেছেন।

গত ৮ মার্চ পাকিস্তানের বিরোধী দলগুলো দেশটির পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ জাতীয় পরিষদে ইমরান খানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দিয়েছে। এই প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি এবং আলোচনার জন্য পার্লামেন্টের স্পিকারের কাছে লিখিত আবেদনপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গকে জানিয়েছেন, আগামী ২৮ থেকে ৩০ মার্চের মধ্যে জাতীয় পরিষদে হতে পারে এই আস্থা ভোট।

পাকিস্তানের সংবিধান অনুযায়ী, ৩৪২ সদস্যবিশিষ্ট জাতীয় পরিষদের উত্থাপিত অনাস্থা প্রস্তাব পাসের জন্য ১৭২ ভোট প্রয়োজন। কিন্তু সংসদের নিম্নকক্ষে পিটিআইয়ের আসন রয়েছে মাত্র ১৫৫টি।

গত বছর মার্চে বিরোধীদের দাবিতে প্রথমবারের মতো আস্থা ভোটের মুখোমুখি হয়েছিলেন ইমরান খান, তবে সেবার খুবই অল্প ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন তিনি। পাকিস্তানের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে আয়োজিত সেই আস্থা ভোটে জয়ের জন্য ইমরানের ১৭২টি ভোটের প্রয়োজন ছিল এবং তিনি পেয়েছিলেন ১৭৬টি ভোট।

এবার অবশ্য আস্থা ভোটের বৈতরণী পেরোনো কঠিন হবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর জন্য। কারণ, তেহরিক-ই-ইনসাফের নেতৃত্বাধীন ৫ দলের জোট সরকারের মন্ত্রিসভা থেকে ৩টি শরিক দল বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

এই তিন দল হল, মুসলিম লীগ— কায়েদ পার্টি, বেলুচিস্তান আওয়ামি পার্টি ও মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্ট। অবশ্য মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিলেও জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে এখনও তিন দলের নেতাদের মধ্যে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

পিটিআইয়ের জোটসঙ্গীরা অনাস্থা প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিলে সাবেক ক্রিকেট তারকা থেকে প্রধানমন্ত্রী বনে যাওয়া ইমরান খানকে বিদায় নিতে হতে পারে ক্ষমতা থেকে। আর পাকিস্তানের ইতিহাসও বলছে, দেশটির কোনো প্রধানমন্ত্রী কখনই তাদের মেয়াদ পূর্ণ করে ক্ষমতা থেকে বিদায় নিতে পারেননি।