দ.কোরিয়ায় চলছে ভোট, হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস

রক্ষণশীল এবং উদারপন্থীদের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের মধ্যে দিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় চলছে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। বুধবার (৯ মার্চ) অনুষ্ঠিত হওয়া নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১২ জন প্রার্থী।

আগামী পাঁচ বছরের জন্য রাষ্ট্র নেতা বাছাইয়ের যজ্ঞটিকে ‘প্রতিকূল নির্বাচন’ হিসাবে চিহ্নিত করেছে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো। নির্বাচনী লড়াইয়ে তরুণ ভোটারদের সমর্থনের দিকে মুখিয়ে আছে প্রার্থীরা।

কারণ অভ্যন্তরীণ বৈষম্য এবং বেকারত্বে জর্জরিত বিশ্বের দশম বৃহত্তর অর্থনীতির দেশটি। এছাড়া জীবন যাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, ভোটারদের রায় প্রদানে প্রধান প্রভাবক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ফলে সংখ্যাগুরু তরুণ ভোটাররা কি সিদ্ধান্ত নেবেন তা নিয়ে রয়েছে গভীর উদ্বেগ।

মায়ংজি ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক শিন ইউল বলেন, ‘‘তরুণ ভোটাররা কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রতি অনুগত নয় এবং উদার-রক্ষণশীল মতাদর্শ দ্বারা তাদের সংজ্ঞায়িত করা যায় না।’’

তবে প্রাক নির্বাচনী সমীক্ষায় বাকি দশ প্রার্থীর চেয়ে এগিয়ে আছেন উদারপন্থী লি জায়ে-মিউং এবং তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী রক্ষণশীল ইউন সুক ইওল। দেশটির ক্রমবর্ধমান আবাসিক সমস্যা নিরসনে উভয় প্রার্থীই লক্ষাধিক নতুন বাড়ি নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

তবে রক্ষণশীল ইওল জোড় দিয়েছেন বাজার সংকট নিরসনে। রক্ষণশীল ভোটাররাও ইওলের প্রতি তাদের সমর্থন ব্যক্ত করেছেন।

নির্বাচনের প্রচারণায় সুস্থ রাজনৈতিক চর্চা প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিলেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকরা। সিউলের কুকমিন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জ্যাং সেউং-জিন বলেছেন, ‘‘এই বছরের নির্বাচনের প্রতিযোগিতাটি নেতিবাচক প্রচারণার উপর অনেক বেশি কেন্দ্রীভূত হয়েছে।’’

দক্ষিণ কোরিয়ায় মোট জনসংখ্যা প্রায় ৫২ মিলিয়ন। যার মধ্যে ৪৪ মিলিয়নই ভোটার। নির্বাচন শুরু হওয়ার পর শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ৩৬.৯৩ শতাংশ ভোটার তাদের মতামত দিয়েছেন।