দৈনিক সংক্রমণে শীর্ষে জার্মানি, মৃত্যুতে যুক্তরাষ্ট্র

শ্বাসতন্ত্রের প্রাণঘাতী রোগ করোনার দৈনিক সংক্রমণে শুক্রবার বিশ্বের দেশসমূহের মধ্যে শীর্ষে ছিল জার্মানি; আর এ রোগে এই দিন সর্বোচ্চ মৃত্যু ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রে। বৈশ্বিক করোনা মহামারি শুরুর পর থেকে এ রোগে আক্রান্ত, মৃত্যু ও সুস্থতার হালনাগাদ তথ্য প্রদানকারী ওয়েবাসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটার্স জানিয়েছে এ তথ্য।

ওয়েবসাইটটির তথ্য অনুযায়ী, দৈনিক সংক্রমণের হিসেবে শীর্ষে থাকা জার্মানিতে শুক্রবার করোনায় আক্রান্ত নতুন রোগীর সংখ্যা ছিল ২ লাখ ২৯ হাজার ৯৮৯ জন; আর এ রোগে দেশটিতে মৃত্যু হয়েছে ২১৫ জনের।

একই দিন করোনায় সর্বোচ্চ মৃত্যু দেখা দেশ যুক্তরাষ্ট্রে শুক্রবার করোনায় মারা গেছেন ১ হাজার ৮৪৪ জন এবং নতুন আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৩৮ হাজার ৫৩৩ জন।

জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া বিশ্বের আরও যেসব দেশে শুক্রবার করোনায় আক্রান্ত-মৃত্যুর হার বেশি দেখা গেছে সেসব দেশ হলো- রাশিয়া (নতুন আক্রান্ত ২ লাখ ৩ হাজার ৯৪৯ জন, মৃত্যু ৭২২ জন), ব্রাজিল ( ১ লাখ ৬৬ হাজার ৩ জন, ‍মৃত্যু ১ হাজার ১২১ জন), ফ্রান্স (নতুন আক্রান্ত ১ লাখ ৩১ হাজার ৩৭৬ জন, মৃত্যু ৩২৯ জন), জাপান (নতুন আক্রান্ত ১ লাখ ৯৭ জন, মৃত্যু ১৭৫ জন), তুরস্ক (নতুন আক্রান্ত ৯৫ হাজার ৬৫ জন, ‍মৃত্যু ২৫৩ জন), নেদারল্যান্ডস (নতুন আক্রান্ত ৮০ হাজার ৬১০ জন, মৃত্যু ১৯ জন), ইতালি (নতুন আক্রান্ত ৬৭ হাজার ১৫২ জন, মৃত্যু ৩৩৪ জন) এবং যুক্তরাজ্য (নতুন আক্রান্ত ৫৮ হাজার ৮৯৯ জন, মৃত্যু ১৯৩ জন)।

সব মিলিয়ে শুক্রবার বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ২৩ লাখ ৩ হাজার ৪০৬ জন এবং এই রোগে মারা গেছেন ১০ হাজার ৮৫৪ জন। এই দিনের পর বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত হওয়া মোট রোগীর সংখ্যা পৌঁছেছে ৪০ কোটি ৮৬ লাখ ৪৬ হাজার ১৩৭ জনে এবং এই রোগে মোট মৃতের সংখ্যা হয়েছে ৫৮ লাখ ১৯ হাজার ৩৫৭ জন।

এছাড়া শুক্রবার করোনা থেকে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ২৪ লাখ ৪৪ হাজার ৯৪৪ জন। এই নিয়ে বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর সুস্থ হয়ে ওঠা ব্যক্তির সংখ্যা পৌঁছাল ৩২ কোটি ৮৫ লাখ ৬৫ হাজার ৪৯৮ জন।

বর্তমানে বিশ্বজুড়ে সক্রিয় করোনা রোগী আছেন ৭৪ কোটি ২৬ লাখ ১ হাজার ২৮২ জন। এই রোগীদের মধ্যে ৭৪ কোটি ১৭ লাখ ২ হাজার ৬৭৪ জন করোনার মৃদু উপসর্গ বহন করছেন; আর গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় আছেন ৮৮ হাজার ৬০৮ জন।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে বিশ্বের প্রথম করোনায় আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। করোনায় প্রথম মৃত্যুর ঘটনাটিও ঘটেছিল চীনে।

তারপর অত্যন্ত দ্রুতগতিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে প্রাণঘাতী এই ভাইরাসটি। পরিস্থিতি সামাল দিতে ২০২০ সালের ২০ জানুয়ারি বিশ্বজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

কিন্তু তাতেও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় অবশেষে ওই বছরের ১১ মার্চ করোনাকে মহামারি হিসেবে ঘোষণা করে ডব্লিউএইচও।