তালিবানের হাতে বন্দি অজ্ঞাতসংখ্যক ব্রিটিশ নাগরিক, বলছে ব্রিটেন

আফগানিস্তানের ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী তালেবানের হাতে বেশ কয়েকজন ব্রিটিশ নাগরিক বন্দি রয়েছেন। শনিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটেনের সরকার। তবে ঠিক কতজন ব্রিটিশ নাগরিক আফগানিস্তানে বন্দি রয়েছেন, সেটি উল্লেখ করা হয়নি।

অবশ্য নাগরিকদের বন্দি থাকার বিষয়টি ইতোমধ্যেই তালেবানের কাছে উত্থাপন করেছে ইউরোপের এই দেশটি। শনিবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা এএফপি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের নাগরিকদের বন্দি রাখার ব্যাপারে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই বিবৃতিটি এমন এক সময়ে এএফপি’র হাতে এলো যখন একদিন আগেই দু’জন বিদেশি সাংবাদিককে মুক্তি দিয়েছে তালেবান শাসকগোষ্ঠী। সদ্য মুক্তি পাওয়া এই দুই সাংবাদিকের একজন সংবাদমাধ্যম বিবিসি’র সাবেক কর্মী।

শনিবার দেওয়া ওই বিবৃতিতে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আফগানিস্তানে আটক ব্রিটিশ নাগরিকদের পরিবারকে আমরা সবরকম সহায়তার চেষ্টা করছি। তবে ঠিক কতজন ব্রিটিশ নাগরিক আফগানিস্তানে বন্দি এবং তালেবান বা অন্য কোন গোষ্ঠী তাদেরকে আটক রেখেছে সে বিষয়ে কোনো তথ্য উল্লেখ করেনি মন্ত্রণালয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘নাগরিকদের আটক থাকার বিষয়টি তালেবানের সাথে হওয়া সকল সাক্ষাতেই উত্থাপন করেছেন ব্রিটিশ কর্মকর্তারা। এমনকি চলতি সপ্তাহে একটি ব্রিটিশ প্রতিনিধদল আফগানিস্তানে গিয়েও তালেবানের সাথে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছে।’

এএফপি বলছে, আফগানিস্তানে যুক্তরাজ্যের মিশনের প্রধান হুগো শর্টারের নেতৃত্বে একটি ব্রিটিশ প্রতিনিধি দল চলতি সপ্তাহে কাবুল সফর করেন। হুগো শর্টার ব্রিটেনের আফগান মিশনের প্রধান হলেও তালেবান ক্ষমতা নেওয়ার থেকে সেটি মূলত কাতার থেকে পরিচালিত হচ্ছে। কাবুল সফরের সময় ওই প্রতিনিধি দলটি আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকির সঙ্গে বৈঠক করেন।

শর্টার জানিয়েছেন, কাবুল সফরের সময় আফগানিস্তানের চলমান মানবিক সংকট নিয়ে তালেবানের সঙ্গে তিনি আলোচনা করেছেন। একইসঙ্গে মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়েও তালেবান কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে তার।

গত শুক্রবার পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, আফগানিস্তানে বর্তমানে কমপক্ষে ৬ জন ব্রিটিশ নাগরিক বন্দি আছেন। বন্দিদের মধ্যে বিবিসির সাবেক সাংবাদিক অ্যান্ড্রু নর্থও ছিলেন, তবে প্রতিবেদন প্রকাশের পর একইদিন তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।

পরে বার্তাসংস্থা এএফপির পক্ষ থেকে তালেবান কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি। শুক্রবার নর্থসহ মুক্তি পাওয়া আরও এক বিদেশি সাংবাদিককে কবে আটক করা হয়েছিল, এই বিষয়ে এখনও স্পষ্ট করে কিছু জানা যায়নি।

তালেবান সরকারে মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ জানিয়েছেন, অভিযুক্তরা উপযুক্ত পরিচয়পত্র ও বৈধ নথি দেখাতে পারেননি বলেই তাদের আটকে রাখা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০ বছর পর গত ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান দখলে নেয় তালেবান। এরপর সেপ্টেম্বর মাসের শুরুতে তালেবান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার ঘোষণা দেয়। অবশ্য সরকার গঠন করলেও বিশ্বের কোনো দেশই এখনও পর্যন্ত তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দেয়নি।