টিকার চতুর্থ ডোজের অনুমোদন চায় ফাইজার

বৈশ্বিক মহামারি প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস প্রতিরোধে টিকার দ্বিতীয় বুস্টার বা চতুর্থ ডোজের অনুমোদন চেয়েছে ভ্যাকসিন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ফাইজার-বায়োএনটেক। এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে আবেদন করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে তারা।

বুধবার (১৬ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা এএফপি। মূলত ৬৫ বছর ও এর বেশি বয়সী ব্যক্তিদের জন্যই আপাতত টিকার চতুর্থ ডোজের জরুরি অনুমোদন চেয়েছে মার্কিন এই ফার্মাসিউটিক্যাল প্রতিষ্ঠানটি।

এর আগে করোনাভাইরাস মহামারি মোকাবিলায় গত বছরের শেষের দিকে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে কোভিড-১৯ টিকার চতুর্থ ডোজের অনুমোদন দেয় ইসরায়েল। মূলত ভাইরাসের ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চতুর্থ ডোজের অনুমোদন দিয়েছিলো দেশটি।

ইসরায়েলের মহামারি বিশেষজ্ঞদের সুপারিশের পর এই অনুমোদন দেয়া হয় এবং প্রাথমিকভাবে দেশটির সকল স্বাস্থ্যকর্মী ও ৬০ বছরের বেশি বয়সী সকলকে চতুর্থ ডোজের আওতায় আনা হয়। এরপর চলতি বছরের জানুয়ারিতে এক গবেষণায় ইসরায়েল জানায়, টিকার চতুর্থ ডোজ মানবদেহে অ্যান্টিবডি বাড়ায় ৫ গুণ।

এতে বলা হয়, যারা করোনা টিকার চতুর্থ ডোজ নিয়েছেন, তাদের দেহে এই করোনা প্রতিরোধী অ্যান্টিবডির পরিমাণ ৫ গুণ বেশি থাকে। এছাড়া ডোজ নেয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই মানবদেহে অ্যান্টিবডি তৈরি শুরু হয়।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৫ মার্চ) এক বিবৃতিতে ফাইজার-বায়োএনটেক জানিয়েছে, দু’টি ইসরায়েলি গবেষণায় দেখা গেছে- করোনা টিকার অতিরিক্ত একটি এমআরএনএ বুস্টার (চতুর্থ ডোজ) মানবদেহের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং নিশ্চিত সংক্রমণ ও গুরুতর অসুস্থতার হার কমিয়ে দেয়। আর গবেষণার এই ফলাফলের ওপর ভিত্তি করেই চতুর্থ ডোজের অনুমোদনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

এতে আরো বলা হয়েছে, করোনা টিকার চতুর্থ ডোজে নিরাপত্তা সংক্রান্ত নতুন কোনো সমস্যা নেই এবং প্রথম বুস্টার নেওয়ার পর বাড়তি আরেক ডোজ বুস্টার গ্রহণকারীদের শরীরে কোনো সমস্যা দেখা দেয়নি।