চতুর্থ দফায়ও মেলেনি ফল, মঙ্গলবার ফের বসবে রাশিয়া-ইউক্রেন

যুদ্ধ থামাতে চতুর্থ দফায় বৈঠকে বসে রাশিয়া ও ইউক্রেন। তবে এই দফার প্রথম দিন সোমবার কোনো সমাধান মেলেনি। সমঝোতায় পৌঁছানোর বিষয়ে আলোচনা করতে মঙ্গলবার আবার বসবে দুই পক্ষ।

শান্তি প্রতিষ্ঠায় সোমবার (১৪ মার্চ) চতুর্থ দফায় বৈঠকে বসেন ইউক্রেন ও রাশিয়ার প্রতিনিধিরা। তবে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই এটি শেষ হয়। আগের বৈঠকগুলো মুখোমুখি হলেও এবারের বৈঠকটি ছিলো ভার্চুয়াল। খবর বিবিসির

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা এবং আলোচক মাইখাইলো পোডোলিয়াক জানিয়েছেন, ‘কৌশলগত বিরতির’ পর মঙ্গলবার (১৫ মার্চ) পুনরায় আলোচনা শুরু হবে।

বৈঠকের একটি ছবি প্রকাশ করে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির উপদেষ্টা এক টুইট বার্তায় বলেন, ‘রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যোগাযোগ কঠিন হলেও তা চলমান। উভয় পক্ষ সক্রিয়ভাবে তাদের নিজস্ব অবস্থান প্রকাশ করেছে। তবে ভিন্ন রাজনৈতিক ব্যবস্থাই আমাদের মতবিরোধের মূল কারণ।’

নাম প্রকাশ না করে আরেক শীর্ষ আলোচক জানিয়েছেন, ইউক্রেন অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি, রুশ সেনা প্রত্যাহার এবং রাশিয়ার সঙ্গে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা চায়। এটি হলেই কেবল আঞ্চলিক সম্পর্ক এবং রাজনৈতিক পার্থক্য নিয়ে আলোচনা ফলপ্রসূ হতে পারে।

হামলার ১৯তম দিনে সোমবার রুশ বাহিনীর বিরুদ্ধে কিয়েভের উত্তরাঞ্চলীয় ওবোলন জেলার একটি নয় তলা আবাসিক ভবনে গোলা বর্ষণের অভিযোগ করেছে ইউক্রেন। দুই পক্ষের আলোচনার মধ্যেই চালানো এই হামলায় দুজন নিহত ও তিনজন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। এর মধ্য দিয়ে ইউক্রেনের রাজধানীও আর্টিলারি হামলার মুখোমুখি হওয়া সর্বশেষ শহর হয়ে উঠতে পারে বলে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ইউক্রেনের জরুরি মন্ত্রণালয়ের পোস্ট করা এক ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, হামলার শিকার হওয়া ভবনটি আগুনে পুড়ে যাওয়ার দৃশ্য। এ সময় রুশ সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে স্থানীয়দের স্লোগান দিতেও দেখা গেছে। ভবনটি উত্তর শহরতলির কয়েক কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত যেখানে সরকারি বাহিনীর সেনারা গত কয়েক দিন ধরে রাশিয়ান বাহিনীকে প্রতিরোধের চেষ্টা করে আসছে।

এ ছাড়া পশ্চিম ইউক্রেনের রিভনে শহরের বাইরে একটি টেলিভিশন টাওয়ারে রুশ বাহিনীর বিমান হামলায় ৯ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৯ জন। আঞ্চলিক প্রশাসনের প্রধান ভিতালি কোভাল মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রামে এ হামলার তথ্য জানান।

ইউক্রেনে হামলার কারণে রাশিয়ার বিরুদ্ধে একট্টা হয়ে একের পর এক নিষেধাজ্ঞারোপ করেছে পশ্চিমা দেশগুলো। তবে এসব নিষেধাজ্ঞা ফলপ্রসূ করতে শুধু তাদের ব্যবস্থা যে শতভাগ কাজ করবে না তা জানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমারা। এই কারণে এবার রাশিয়ার অন্যতম মিত্র চীনকে ঠেকানোর উপায় খুঁজছে তারা। ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া দখলের পর রাশিয়ার ওপর চাপানো নিষেধাজ্ঞার ধার কমে গিয়েছিল চীনের কারণেই। এজন্য এবার আগেভাগেই সতর্ক পশ্চিমারা।

এবার যুক্তরাষ্ট্র চীনকে সরসারি হুমকি দেওয়ার পথ নিয়েছে তার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট বাইডেনের প্রধান জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেক সালিভান। ইতালির রাজধানী রোমে চীনের সবচেয়ে প্রভাবশালী কুটনীতিক ইয়াং জিয়েচির সঙ্গে এক বৈঠকের আগে জেক সালিভান খোলাখুলি হুমকি দিয়েছেন নিষেধাজ্ঞা ভেঙ্গে রাশিয়াকে সাহায্য দেওয়ার চেষ্টা করলে চীনকে অবশ্যই পরিণতি ভোগ করতে হবে।