গদি টেকাতে পারবেন কি ইমরান খান?

চরম অর্থনৈতিক দুরাবস্থা বিরাজ করছে পাকিস্তানে। এর ফলে মেয়াদ পূর্ণ হবার আগে ফের একবার পরিবর্তন হতে পারে সরকার। ২০১৮ সালে ইমরান ক্ষমতায় আসার পর থেকে এবারের অনাস্থা প্রস্তাবটিকে তার জন্য সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এক বছর আগেও মার্চ মাসে পার্লামেন্টে আস্থা-অনাস্থার চ্যালেঞ্জে পড়েছিলেন তিনি। তখন ইমরান খানকে নিজের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার প্রশ্নে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী দেখা গেলেও এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন।

পাকিস্তানে মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধির ধারা এখনো অব্যাহত। দ্রব্যমূল্য আকাশছোঁয়া। ইমরান সরকারের বিরুদ্ধে অবশ্য সরকার পরিচালনায় সার্বিক ব্যর্থতার অভিযোগও তোলা হয়েছে। এসব অভিযোগ শুধু বিরোধীদের নয়, ইমরানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই ইনসাফ (পিটিআই) এর অন্তত ২৪ জন সদস্যও এ বিষয়ে বিরোধীদের সঙ্গে একমত বলে জানা গেছে। আগামী শুক্রবার সংসদে অনুষ্ঠেয় আস্থাভোটে তাদের ভোটও যেতে পারে ইমরানের বিরুদ্ধে। নিজের দলের সাংসদরাও বিরুদ্ধে ভোট দিলে সাড়ে তিন বছরের মাথায় ইমরান খানের বিদায় নিশ্চিত বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

৩৪২ সদস্যের সংসদের নিম্নকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে হলে কমপক্ষে ১৭২টি ভোট পেতে হবে ইমরান খানের সরকার, বর্তমান পরিস্থিতিতে তা একরকম অসম্ভব।

পাকিস্তানের সংসদের নিম্নকক্ষ জাতীয় পরিষদের স্পিকার আসাদ কায়সার ইতিমধ্যে অনাস্থা প্রস্তাব উত্থাপনের তারিখ ঘোষণা করেছেন। সে অনুযায়ী আগামী ২৫ মার্চ সকাল ১১টায় ইমরান সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্তা প্রস্তাবটি তোলা হবে। সংবিধান অনুযায়ী, অনাস্থা প্রস্তাব যথাযথভাবে স্পিকার বা সংসদ সচিবালয়ে জমা দেওয়ার ১৪ দিনের মধ্যে সংসদ অধিবেশন ডাকা বাধ্যতামূলক।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলগুলোর আইনপ্রণেতারা অনাস্থা প্রস্তাবটি জমা দিয়েছিলেন গত ৮ মার্চ। সে অনুযায়ী ২২ মার্চের মধ্যেই স্পিকার আসাদ কায়সারের অনাস্থা প্রস্তাব উত্থাপনের জন্য বিশেষ অধিবেশন ডাকার কথা। অথচ অনাস্থা প্রস্তাবের জন্য ধার্য করা হয়েছে ২৫ মার্চকে। দুদিন পর প্রস্তাব উত্থাপনের তারিখ নির্ধারণের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সংসদ সচিবালয় ২২ থেকে ২৩ মার্চ জাতীয় পরিষদের মূল কক্ষে অনুষ্ঠেয় ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের ৪৮তম সম্মেলনের কথা উল্লেখ করেছে। শুধুরতে সরকারবিরোধীরা দেরিতে অধিবেশন ডাকায় প্রতিবাদে সোচ্চার হলেও পরে তারা তা মেনে নেন।

বিরোধীরা বলছেন, ইমরান খানের সরকার সময় নষ্ট করার কৌশল অবলম্বন করে ক্ষমতায় টিকে থাকার চেষ্টা করছেন। অনাস্থা ভোট কমানো নিশ্চিত করতে বিরোধীদের অপহরণ করা হতে পারে- এমন আশঙ্কাও করছেন তারা।

এদিকে আগামী ২৭ মার্চ রেড জোনে আলাদা দুটি সমাবেশ ডেকেছে সরকারী দল তেহরিক-ই ইনসাফ ও সরকার বিরোধী দলগুলো। সেখানে দুই পক্ষের মধ্যে প্রবল সংঘর্ষের আশঙ্কা একেবারেই উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না। সংঘর্ষের কারণে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে কী হবে?

ডন পত্রিকার ফরিদ হুসাইন মনে করেন, পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে সামরিক বাহিনী আবার চলে আসতে পারে ক্ষমতায়।

ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের সংবিধানে কিছু জরুরি বিধি রয়েছে। এ ছাড়া সংবিধানের ২৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতির সম্মুখীন হলে প্রেসিডেন্ট জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারেন। এর আগে প্রেসিডেন্টকে অবশ্যই নিশ্চিত হতে হবে যে দেশে জরুরি পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এর কারণে পাকিস্তান কিংবা দেশটির কোনো অংশ যুদ্ধ, বহিঃশক্তির আক্রমণ কিংবা অভ্যন্তরীণ অস্থিরতাজনিত নিরাপত্তা হুমকিতে আছে।

আপাতত পাকিস্তানে যুদ্ধ কিংবা বহিঃশক্তির আক্রমণের পরিস্থিতি নেই। সে ক্ষেত্রে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি কোনো প্রদেশের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ইস্যুতে জরুরি অবস্থা ঘোষণার কথা ভাবতে পারেন। তবে এ ধরনের জরুরি অবস্থা ঘোষণার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রাদেশিক পরিষদ থেকে প্রস্তাব পাস করিয়ে নিতে হবে।