ক্ষমতার ভরকেন্দ্রে জন্মেও এ নিয়ে আগ্রহ নেই: রাহুল

তিনি গান্ধী পরিবারের সন্তান। কংগ্রেসের যুবরাজ হিসেবেও দেখা হয় তাকে। সেই রাহুল গান্ধীরই ক্ষমতা নিয়ে কোনো লোভ নেই। শনিবার নিজের মুখে এমনটাই দাবি করেছেন কংগ্রেস সাংসদ। তিনি জানান, এমন পরিবারে তার জন্ম হয়েছিল, যা ছিল ক্ষমতার ভরকেন্দ্র। কিন্তু সেই ক্ষমতা কোনো দিন তাকে আকৃষ্ট করেনি। জীবন নিয়ে আরও খোলামেলা জানিয়েছেন এই কংগ্রেস বয়।

তিনি বলেন, ক্ষমতার বদলে বরং নিজের দেশ নিয়ে তার অনেক বেশি আগ্রহ রয়েছে। তিনি আরও বেশি করতে ভারতবর্ষকে জানতে চান, বুঝতে চান। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার

দিল্লিতে আয়োজিত একটি বই প্রকাশের অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছিলেন রাহুল। সেখানেই ক্ষমতা ও রাজনীতি সম্পর্কে নিজের অনাগ্রহের কথা স্বীকার করেন রাহুল। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এমন অনেক রাজনীতিক আছেন, যারা সর্বদাই ক্ষমতায় থাকার কথা ভাবেন। তারা সবসময় ক্ষমতার পিছনে ছুটে চলেছেন। তারা ঘুম থেকে ওঠার পরই ভাবতে শুরু করেন কীভাবে আরও ক্ষমতা লাভ করা যায়। ঘুমাতে যাওয়ার আগে পর্যন্ত তারা এই নিয়েই ভাবতে থাকেন। আমাদের দেশটা এমন মানুষে ভরে গিয়েছে। আমি এমন একটা পরিবারে জন্মেছি, যা ছিল ক্ষমতার ভরকেন্দ্র। কিন্তু, সত্যি বলতে কী, আমার কোনোদিন এই বিষয়ে কোনো আগ্রহ ছিল না। বরং আমি আমার দেশকে বোঝার, তাকে ভালোবাসার চেষ্টা করে গিয়েছি।’

রাহুল নিজের কথা বলতে গিয়ে এদিন প্রেমিকের তুলনা টেনে আনেন। তিনি বলেন, ‘এক জন প্রেমিক যা ভালোবাসেন, তা তিনি আরও ভালো করে জানার চেষ্টা করেন। আমি তাই আমার দেশকে আরও ভালো করে জানতে চাই। আমার দেশ আমাকে অনেক ভালোবাসা দিয়েছে। আবার আমি অনেক ঘৃণাও পেয়েছি। প্রত্যেকটি আঘাত আমাকে কিছু না কিছু শিখিয়েছে।’

প্রসঙ্গত, কংগ্রেসের শিকড় বরাবরই গান্ধী নেহরু পরিবারের সদস্যদের হাতে থেকেছে। সেই সুবাদেই একটা সময় কংগ্রেসের সভাপতি হয়েছিলেন রাহুল। কিন্তু, ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে দলের ভরাডুবি হয়। তারপরই সেই পদে ইস্তফা দেন তিনি। আপাতত সনিয়া গান্ধীই অন্তবর্তীকালীন সভানেত্রী হিসেবে দলের দায়িত্ব সামলে চলেছেন। কিন্তু, সনিয়া অসুস্থ। এই নিয়ে দলের ভিতরে বাইরে যথেষ্ট কটাক্ষের শিকার হতে হয় রাহুলকে।