ইয়েমেনে একতরফা যুদ্ধবিরতি, হুথির প্রত্যাখ্যান

বছরের পর বছর ধরে চলমান ইয়েমেন যুদ্ধে বিরতি টেনেছে সৌদি জোট। তবে সৌদিজোটের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে বিদ্রোহীরা।

যুদ্ধবিরতি ঘোষণায় সন্দেহের উদ্রেক হয়েছে ইয়েমেনের বিদ্রোহী শিবিরে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সানা বিমানবন্দর বন্ধ ঘোষণা এবং ইয়েমেনের বন্দরগুলোতে নিষেধাজ্ঞাও প্রত্যাখ্যান করেছে ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথির কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল-বুকাইতি।

বুকাইতি বলেন, ‘‘যদি অবরোধ প্রত্যাহার না করা হয়, সামরিক অভিযান বন্ধ করার জন্য জোটের ঘোষণা অর্থহীন। কারণ অবরোধের ফলে ইয়েমেনিদের দুর্ভোগ যুদ্ধের চেয়েও বেশি গুরুতর।’’

বুধবার (৩০ মার্চ) সৌদি ভিত্তিক উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) সম্মেলনে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবটি গৃহীত হয়। মঙ্গলবার (২৯ মার্চ) সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে শুরু হয়েছে জিসিসি সম্মেলন। খবর আলজাজিরা।

আগামী ৭ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে সম্মেলনটি। সম্মেলনে অংশ নিয়েছে জিসিসি সদস্য বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত।

পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে ইয়েমেনে যুদ্ধবিরতির জন্য সৌদি জোটকে চাপ প্রয়োগ করে আসছিল জাতিসংঘ এবং অন্যান্য সংস্থাগুলো। অর্ধচন্দ্র দেখার ওপর নির্ভর করে চলতি সপ্তাহান্তে মধ্যপ্রাচ্যসহ সারা বিশ্বে রমজান শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে শুরু হওয়া ইয়েমেনের যুদ্ধ দেশটিকে দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিয়েছে। আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডেটা প্রজেক্ট অনুসারে, এই যুদ্ধে দেড় লাখের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।

সৌদি বিমান হামলায় ইয়েমেনের বেসামরিক মৃত্যুর সংখ্যার সর্বশেষ পরিসংখ্যান দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৫০০ জনে। দেশটির প্রতি চারজন নাগরিকের তিনজনই অভুক্ত বলে জানাচ্ছে জাতিসংঘ। দেশটির ১৯ মিলিয়ন ক্ষুধার্ত নাগরিকের অন্ন যোগাতে প্রয়োজন প্রায় ৪.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।