ইয়েমেনের ক্ষুধা নিবারণে দরকার ৪.৩ বিলিয়ন

ক্ষুধায় কাতর সৌদি সামরিক জোটের হামলায় বিধ্বস্ত ইয়েমেন। দেশটির প্রতি চারজন নাগরিকের তিনজনই অভুক্ত বলে জানাচ্ছে জাতিসংঘ। দেশটির ১৯ মিলিয়ন ক্ষুধার্ত নাগরিকের অন্ন যোগাতে প্রয়োজন প্রায় ৪.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

ইয়েমেনের খাদ্য ঘাটতি মোকাবেলায় বুধবার (১৬ মার্চ) জেনেভায় বসছে জাতিসংঘের সম্মেলন। লক্ষ্য যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশটির জন্য তহবিল সংগ্রহ করা।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল মার্টিন গ্রিফিথস বলেছেন, ‘‘তহবিল শেষ হয়ে যাচ্ছে এবং সংস্থাগুলো ইয়েমেনে তাদের কাজ বন্ধ করে দিচ্ছে।’’ মঙ্গলবার (১৫ মার্চ) তিনি বলেন,‘‘ আমাদের খাদ্য সরবরাহের ঘাটতি পূরণ করতে হবে, নাগরিকদের আশ্রয় দিতে হবে এবং ইয়েমেনিদের একটি বার্তা পাঠাতে হবে যে আমরা তাদের ভুলে যাব না।’’

সাত বছর ধরে ইয়েমেনের সাধারণের ওপর হামলা চালাচ্ছে সৌদি জোট। মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিতে একটি উন্মুখ বিপর্যয় ঘটেছে বলে মত জাতিসংঘ কর্মকর্তারা। চলতি বছরের শুরুতে তহবিলের ঘাটতির কারণে ৮০ মিলিয়ন মানুষ দুর্ভিক্ষের কবলে পড়ে।

আরও পাঁচ মিলিয়ন মানুষ দেশটিতে দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)। সোমবার (১৪ মার্চ) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জাতিসংঘের ডব্লিউএফপি, খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) এবং জাতিসংঘের শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) সতর্ক করেছে যে ইয়েমেনের পরিস্থিতি ২০২২ সালের জুন থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে আরও খারাপ হতে চলেছে।

প্রায় ১৯ মিলিয়ন লোকের খাদ্য সহায়তার প্রয়োজন। এর মধ্যে ৭.৩ মিলিয়ন মানুষ জরুরি স্তরের ক্ষুধার মুখোমুখি হতে চলছেন।

প্রতিবেদনে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে ক্রমাগত উচ্চ মাত্রার তীব্র অপুষ্টির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রায় ২.২ মিলিয়ন শিশু তীব্রভাবে অপুষ্টিতে ভুগছে, যার মধ্যে অর্ধ মিলিয়নেরও বেশি শিশু গুরুতর তীব্র অপুষ্টির সম্মুখীন হয়ে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছে।

এছাড়াও, প্রায় ১.৩ মিলিয়ন গর্ভবতী বা স্তন্যদানকারী মা তীব্রভাবে অপুষ্টিতে ভুগছেন। দুর্ভিক্ষের পরিস্থিতির সম্মুখীন হওয়া লোকের সংখ্যা ২০২১ সালের দ্বিতীয়ার্ধে পাঁচগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।