ইমরান-মরিয়মের পাল্টাপাল্টি সমাবেশ

অনাস্থা প্রস্তাবের ভোটে নিজের গদি বাঁচাতে রাজধানী রাজধানী ইসলামাবাদে রাজনৈতিক শোডাউন ডেকেছে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। জনসভা সফল করে বিরোধী দলগুলোকে সর্বাত্মক চাপের মুখে রাখার চেষ্টা করছে তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিই)। পাল্টা সমাবেশ ডেকেছে বিরোধী জোটও।

শ্রীনগর মহাসড়কে বিরোধীদের সমাবেশে নেতৃত্ব দিচ্ছেন পিএমএল-এন নেতা মরিয়ম নওয়াজ এবং পাঞ্জাবের বিরোধীদলীয় নেতা হামজা শেহবাজ। সমাবেশটিকে পিটিই সরকারের কফিনে শেষ পেরেক বলে অভিহিত করেছেন তারা।

পাল্টাপাল্টি সমাবেশ পাকিস্তানের রাজনীতিকে উত্তপ্ত করে তুলেছে। সম্ভাব্য সংঘর্ষে এড়াতে বিরোধীদের ইসলামাবাদে সমাবেশ করতে না দেয়ার মত এক পাক্ষিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

পিএমএল-এন নেতা মরিয়ম নওয়াজ
তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, বিরোধী দলগুলোকে তাদের আসন্ন সমাবেশ ও অনাস্থা ভোটের ব্যাপারে সহযোগিতা করবে এবং ‘তাদের সকল আইন প্রণেতাদের’ পূর্ণ নিরাপত্তা দেবে তারা। যদিও অন্য দলের পথ অবরোধ বা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ লঙ্ঘন করে অবস্থান গ্রহণ এবং আইন হাতে নেওয়ার চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ রশিদ।

সমাবেশ সামনে রেখে শ্রীনগর হাইওয়েতে পাকিস্তান রেঞ্জার্স এবং ফ্রন্টিয়ার কর্পসের ১৫ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন প্রয়োজনে সংবিধানের ২৪৫ অনুচ্ছেদে অনুযায়ী সেনাবাহিনী ডাকার বিষয়টিও মাথায় রেখেছেন তিনি।

সমাবেশ ঘিরে ঘরে দেশে-বিদেশে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে বলে দাবি তুলছেন বিরোধীরা। পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) অভিযোগ ক্ষমতাসীনরা জনগণকে রাস্তায় নামানোর জন্য অন্যান্য দেশ থেকে তহবিল পেয়েছে।

পিপিপি সিনেটর পালওয়াশা খান এবং রুবিনা খালিদ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘‘ইসলাবাদের রাস্তায় রক্তপাত ঘটাতে একটি ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।’’ পিপিপি সম্প্রতি অন্যান্য বিরোধী দলকেও সংঘর্ষ এড়াতে রাজধানীতে অবস্থান কর্মসূচির বিরুদ্ধে পরামর্শ দিয়েছে। সিনেটর খান আরও বলেন, “ভারত এবং ইসরায়েলের মতো দেশগুলো থেকে হুমকি আসছে, সেখান থেকে পিটিই-এর জন্য তহবিল এসেছে। আর তা জনসভায় খরচ করা হচ্ছে।’’