ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলায় প্রথম ৭ দিনে যা ঘটেছে

ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের অষ্টম দিনে গড়িয়েছে বৃহস্পতিবার (৩ মার্চ)। সবশেষ ইউক্রেনের অন্যতম প্রধান শহর এবং বন্দরনগরী খেরসন দখলে নিয়েছে রাশিয়ার সামরিক বাহিনী। ‘কৌশল পাল্টে’ ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরের আবাসিক এলাকাগুলোতে বোমা হামলা জোরদার করেছে রাশিয়া।

এক প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, ইউক্রেনের প্রথম কোনো বড় শহর হিসেবে খেরসনের দখল নিলো রাশিয়া। এক সপ্তাহ আগে পূর্ব ইউরোপের এই দেশটি জুড়ে রাশিয়ার সামরিক বাহিনী সর্বাত্মক হামলা শুরু করে এবং ব্যাপক সংঘর্ষের পর বুধবার (২ মার্চ) শহরটির পতন হয়।

শহরের মেয়র জানিয়েছেন, রাশিয়ার সৈন্যরা সিটি কাউন্সিল ভবনে জোরপূর্বক প্রবেশ করেছে এবং বাসিন্দাদের উপর কারফিউ জারি করেছে।

এদিকে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদে সরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে রুশ সামরিক বাহিনী। মস্কো থেকে রুশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কিয়েভ থেকে বাসিন্দারা দেশটির মধ্যাঞ্চলীয় শহর ভ্যাসিলকিভের দিকে চলে যেতে পারবেন এবং এতে তাদেরকে বাধা দেওয়া হবে না।

অন্যদিকে ইউক্রেনের বাহিনী বলছে, রাশিয়ার প্যারাট্রুপার খারকিভ শহরে নেমেছে। সেখানকার রাস্তায় ইউক্রেনের সৈন্যদের সঙ্গে রাশিয়ার সৈন্যদের লড়াই চলছে।

মারিওপোল এবং খারকিভ শহর ঘিরে রেখেছে রাশিয়ার সৈন্যরা। মারিওপোল শহরের ডেপুটি মেয়র বলেছেন, শহরটিতে ১৫ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে একটানা বোমা বর্ষণ করা হয়েছে। ফলে সেখান পরিস্থিতি এখন মানবিক বিপর্যয়ের কাছাকাছি।

একটি আবাসিক অঞ্চলে কয়েকশ মানুষ নিহত হয়েছে বলে ডেপুটি মেয়র আশংকা করছেন। নিহতদের মধ্যে তার বাবাও রয়েছেন।

ইউক্রেনে গত এক সপ্তাহের তীব্র যুদ্ধে রাশিয়ার প্রায় ৫০০ সৈন্য মারা গেছে বলে বুধবার প্রথমবারের মতো স্বীকার করেছে মস্কো। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়ে বলা হয়েছে, ইউক্রেনে আক্রমণে প্রায় ৫০০ রুশ সৈন্য মারা গেছে। এছাড়া আহত হয়েছে আরও কয়েকশ।

সংঘাতের অবসানে বেলারুশে রাশিয়া এবং ইউক্রেনের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলের বৈঠক হয়েছে। সোমবার স্থানীয় সময় দুপুরের দিকে প্রিপিয়াত নদীর কাছে ইউক্রেন-বেলারুশ সীমান্তের গোমেল অঞ্চলে এই বৈঠক হয়।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনের দোনবাস অঞ্চলে সামরিক অভিযানের ঘোষণা দেন। ওইদিন সকালে দেওয়া ভাষণে পুতিন ইউক্রেনের সেনাদের অস্ত্র ফেলে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান। কোনো রক্তপাত হলে তার জন্য ইউক্রেন দায়ী থাকবে বলেও হুঁশিয়ার করেন পুতিন।

দ্বিতীয় দিন ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের কাছের প্রধান একটি বিমানবন্দর দখলে নেয় রুশ সৈন্যরা। প্রায় ২০০ হেলিকপ্টার ব্যবহার করে অভিযান চালিয়ে ইউক্রেনের দুই শতাধিক সৈন্যকে হত্যার পর ওই ঘাঁটি দখলে নেওয়া হয় বলে জানায় রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।