মান্নার যে কথা এখনো সবার মনে গেঁথে আছে

তাকে বলা হয় গণমানুষের নায়ক। সিনেমার মাধ্যমে তিনি অবহেলিত, নিগৃহীত গণমানুষের বন্দনা করেছিলেন। যেন রূপালি পর্দায় সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি। তিনি মান্না। পুরো নাম আসলাম তালুকদার। তবে সিনেমায় এসে ধারণ করেছেন মান্না নামটি। এই নামেই পেয়েছেন আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা।

সিনেমা সংশ্লিষ্টরা অকপটে স্বীকার করেন, মান্নার ধ্যানজ্ঞান, চিন্তা-চেতনা সবেতেই ছিল দেশের সিনেমা। অশ্লীলতার অন্ধকার যুগে যখন অনেকে পিছপা হয়ে সরে গিয়েছিলেন, তখন প্রায় একাই ইন্ডাস্ট্রির হাল ধরে রাখেন মান্না। সামাজিক, পারিবারিক গল্পের সিনেমা দিয়ে দর্শকদের হলমুখী রেখেছিলেন।

মান্না নেই আজ ১৪ বছর। ২০০৮ সালের এই দিনে (১৭ ফেব্রুয়ারি) দেশবাসীকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে উড়াল দেন এই নায়ক। তার মৃত্যুতে শোকের মাতম বয়েছিল পুরো দেশে। সিনেমা অঙ্গনে নেমে এসেছিল স্থবিরতা।

চলে গিয়েও যারা গভীরভাবে থেকে যান, তাদের একজন মান্না। তিনি নেই বটে, কিন্তু তার সিনেমা ও কাজ রয়ে গেছে। আর রয়ে গেছে কয়েকটি কথা। যেগুলো তিনি বলেছিলেন একটি টিভি সাক্ষাৎকারে। এখনো সেই কথাগুলো সিনেমা জগতের মানুষের মনে গেঁথে আছে।

মান্না বলেছিলেন, ‘পৃথিবীর কোনো জগৎ যদি থাকে, চলচ্চিত্র জগৎ; এর মতো স্বার্থপর কোনো জগৎ আর নেই। এখানে আমরা সবাই বাণিজ্যিক। হৃদয়, প্রেম, ভালোবাসা, বন্ধুত্ব, চাওয়া-পাওয়া সব মেকি। সিনেমা পরিবারের কেউ যদি বুকে হাত দিয়ে বলে, আমরা সবাই এক পরিবার; না, মিথ্যে। সবাই আলাদা।’

মান্নার এই কথাগুলো গত বছরের আগস্টে ব্যাপক ভাইরাল হয়েছিল। চিত্রনায়িকা পরীমণি তখন মাদক মামলায় গ্রেফতার হন। সেই ইস্যুতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় মান্নার কথাগুলো নিয়ে অনেক চর্চা হয়েছিল।

জীবিত থাকা অবস্থায় একটি বেসরকারি টিভির বিশেষ এই অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছিলেন মান্না। সঞ্চালনায় ছিলেন অপি করিম। এখানে তিনি নিজের ব্যক্তিগত জীবন ও ক্যারিয়ার নিয়ে অনেক কথা বিনিময় করেছিলেন। মান্না জানান, সিনেমা জগতে তার একজনই বন্ধু। তিনি তার আত্মীয়। মান্নার ভাষ্য ছিল, ‘আমার একটাই বন্ধু আছে, সে হচ্ছে আমার ফাইট ডিরেক্টর মোসলেম ভাই। তিনি আমার পরিবারের সদস্য। যিনি আমার সুখের সময়ও পাশে ছিলেন, দুঃখের সময়ও পাশে ছিলেন।’

উল্লেখ্য, ২৪ বছরের ক্যারিয়ারে মান্না তিন শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন। উপহার দিয়েছিলেন ‘দাঙ্গা’, ‘কাসেম মালার প্রেম’, ‘আম্মাজান’, ‘কষ্ট’, ‘বীর সৈনিক’, ‘কাবুলিওয়ালা’র মতো সফল সিনেমা।