চেয়ার নয়, যুদ্ধটা অন্যায়ের বিরুদ্ধে: নিপুণ

চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা ক্রমান্বয়ে ঘনীভূত হচ্ছে। সবশেষ জায়েদ খানের পক্ষে হাইকোর্টের দেওয়া রায় স্থগিত করেছেন চেম্বার আদালত। নিপুণ আক্তারের আপিলের প্রেক্ষিতে এ আদেশ দেওয়া হয়।

এদিকে সাধারণ সম্পাদক পদের চেয়ার নিয়ে দুই প্রার্থীর এরকম টানাহেঁচড়ায় বিরক্ত সাধারণ মানুষ। নেট-দুনিয়ায় শিল্পীদের প্রতি নেতিবাচক ধারণা পোষণ করছেন তারা।

সবার প্রশ্ন, একটি চেয়ারের জন্য কেন এভাবে নিজেদের ভাবমূর্তি নষ্ট করছেন তারা? সাধারণের এই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন নিপুণ। জানালেন, তার এই লড়াই অন্যায়ের বিরুদ্ধে।
নিপুণের কথায়, ‘সবাই আমাকে জিজ্ঞেস করছেন, চেয়ারটি নিয়ে কেন এত যুদ্ধ? প্রথম থেকেই বলে আসছি, এই চেয়ারটি নিয়ে আমি যুদ্ধ করছি না। আমার যুদ্ধটা অপশক্তি আর অন্যায়ের বিরুদ্ধে।’

নিপুণের দাবি, চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পদে নারী বসার বিষয়টি অনেকে মেনে নিতে পারছেন না। তার ভাষ্য, ‘এই পদটিতে (সাধারণ সম্পাদক) একজন নারী বসবে— সেটা কেউ মানতে চাইছেন না। বিগত ৩৭ বছর পর্যন্ত কোনো নারী পদটিতে দাঁড়ানোর সাহস পাননি। এত বড় একটি প্যানেল ক্রিয়েট করে যখন আমি দাঁড়িয়েছি তখন বিপরীত প্যানেল থেকে বলা হচ্ছিল, তারাই সারাজীবন থেকে যাবেন। নির্বাচনে হওয়া অন্যায়গুলো সব আপনারা জানেন।’

আজ রোববার বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশ (বিএফডিসি) প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন নিপুণ। কিছুদিন ধরে যারা তার ক্যারিয়ার নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করছিলেন তাদের প্রসঙ্গেও কথা বলেন তিনি।
নিপুণ বলেন, ‘আমাকে বলা হয়েছিল, কোর্টের বারান্দায় বারান্দায় না ঘুরে যেন অভিনয়ে মন দেই। আমি এখনও অভিনয় করে যাচ্ছি। তাছাড়া খুব ভালো দুটি ব্যবসা চালাই। যখন আপনি আমাকে কোর্টে নিতে বাধ্য করেছেন, তখন তো আমি সেখানে যাবই। তাই আদালতে গিয়েছি এবং ন্যয়বিচার পেয়েছি।’

এর আগে গত বুধবার (২ মার্চ) সাধারণ সম্পাদকের পদ নিয়ে জায়েদের সঙ্গে দ্বন্দ্বে নিপুণকে একহাত নিয়েছিলেন সুচরিতা। উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে তিনি বলেছিলেন, ‘সে (নিপুণ) চিত্রনায়িকা? নায়িকা হিসেবে ভিত্তিই তো করতে পারেনি এখনও। সে সমিতি চালাবে? কে সমিতি চালাবে? সে জানে কী সমিতির? নেই কাজ তো খই ভাজ; এখন এ অবস্থা হয়েছে চলচ্চিত্রের।’

নিপুণকে পরামর্শ দিয়ে সুচরিতা আরও বলেছিলেন, ‘বড় বোনের আবদার নিয়ে বলি— এসব না করে তুমি নিজেকে নায়িকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করো। দুবার জাতীয় পুরস্কার পেয়েছ। সেই সম্মানটা রাখো। অভিনয়ের চর্চাটা করো। অভিনয় ছেড়ে এসব করে কী লাভ?’

চলচ্চিত্রের জেষ্ঠ্য অভিনেত্রী সুচরিতার কথা কান পর্যন্ত পৌঁছেছে নিপুণের। কিন্তু এটাকে স্বাভাবিকভাবেই নিয়েছেন। কারণ তিনি মনে করেন, তার প্রতি সুচরিতার অধিকার আছে।
নিপুণ বলেন, ‘আমার ক্যারিয়ারে সুচরিতা আপার অনেক বড় ভূমিকা আছে। প্রথম ছবিতে তিনি আমার মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। তখন আমাকে সাহায্য না করলে আজ এখানে আসতে পারতাম না। সুচরিতা আপা, একটি প্যানেলে আছেন। সেকারণে এ ধরনের কথা বলতেই পারেন। এটা স্বাভাবিক।’

এ সময় নিপুণ বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের নেতিবাচক কোনো খবর প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান। তিনি মনে করেন, নেতিবাচক খবরগুলো সুচরিতার মতো একজন গুণী অভিনেত্রীর জন্য অস্মানজনক।