৫ বছর আগে শ্বশুরবাড়ি থেকে উধাও রিপনকে উদ্ধার

৫ বছর আগে সংসার ও পরিবার ছেড়ে উধাও মেহেরপুরের রকিবুজ্জামান রিপনকে জীবিত উদ্ধার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গত সোমবার (২০ ফেব্রুয়ারি) কুষ্টিয়া পিবিআইয়ের একটি টিম গাজীপুর থেকে তাকে উদ্ধার করে।

রকিবুজ্জামান রিপন মেহেরপুর সদর উপজেলার গোভীপুর গ্রামের মনিরুল ইসলামের ছেলে। তাকে মেহেরপুর আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

২০১৭ সালে শ্বশুরবাড়ি গাংনীর ভরাট গ্রাম থেকে নিরুদ্দেশ হয়েছিলেন রকিবুজ্জামান রিপন। দীর্ঘ পাঁচ বছর পর রিপনকে উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুষ্টিয়া পিবিআইয়ের পরিদর্শক মনিরুজ্জামান ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রকিবুজ্জামান রিপন গাংনীর ভরাট গ্রামের আকবর হোসেনের মেয়ে শ্যামলী খাতুনকে বিয়ে করে ঘরজামাই হিসেবে বসবাস করতেন। তাদের সংসারে একটি পুত্র সন্তান জন্ম নেয়। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ শুরু হওয়ায় ২০১৭ সালের ৮ জুলাই নিরুদ্দেশ হন রকিবুজ্জামান রিপন। রিপনের কোনো খোঁজ খবর না পাওয়ায় তার বাবা মনিরুল ইসলাম রিপনের স্ত্রী, শ্বশুর, শাশুড়ি এবং চাচা শ্বশুরের বিরুদ্ধে মেহেরপুর আদালতে মামলা করেন।

আদালতের নির্দেশনায় সদর থানা পুলিশ দীর্ঘদিন তদন্ত করে রিপনকে জীবিত অথবা মৃত কোনোভাবেই উদ্ধার করতে না পেরে বিজ্ঞ আদালতে চূড়ান্ত রিপোর্ট দাখিল করেন। পরবর্তীতে বিজ্ঞ আদালত থানা পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ না করে কুষ্টিয়া পিবিআইয়ের পুলিশ সুপারকে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

আদালতের নির্দেশনা পেয়ে পিবিআই তদন্ত শুরু করে এবং সোর্স নিয়োগ করে রিপনকে খুঁজতে থাকে। কয়েক দফা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় রিপনের পরিবার ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে। অবশেষে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রিপনের জীবিত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয় পিবিআই। তিনি গাজীপুরের শ্রীপুর থানাধীন রাজেন্দ্রপুর এলাকায় ডার্ড কম্পোজিট টেক্সটাইল লিমিটেডে চাকরি করছেন বলে জানা যায়। গত ২০ ফেব্রুয়াীর বিকেলে পিবিআইয়ের পরিদর্শক মনিরুজ্জামানসহ একটি টিম ওই টেক্সটাইল মিলের সামনে অবস্থান নিয়ে রিপনকে উদ্ধার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মঙ্গলবার দুপুরে তাকে মেহেরপুর আদালতে পাঠানো হয়।

কুষ্টিয়া পিবিআইয়ের পরিদর্শক মনিরুজ্জামান জানান, ভিকটিম রিপন কৌশলে মো. শরিফুল ইসলাম ছদ্মনাম ধারণ করে গাজীপুরের শ্রীপুরে অবস্থান করেন। সেখানে ডার্ড কম্পোজিট টেক্সটাইল লিমিটেডে টেকনিশিয়ান পদে চাকরি নেন এবং গত বছরের মার্চে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ থানার মনমথ কুঠিপাড়ার সিরাজুল ইসলামের মেয়ে শিমলা আক্তারকে (২০) জামালপুরের সরিষাবাড়ি একটি কাজি অফিসে নিয়ে বিয়ে করেন। দীর্ঘ ৫ বছর পর রিপন উদ্ধার হওয়ায় খুশি তার পরিবার।