হাসপাতালে বিয়ের ১২ দিনের মাথায় চলে গেলেন ফাহমিদা

হাসপাতালের কেবিনে মরণব্যাধি ক্যান্সারের যন্ত্রণায় প্রতিনিয়ত ছটফট করছিল ফাহমিদা কামাল (২৭)। তার চিন্তায় পরিবারের সদস্য আর আত্মীয়- স্বজনদের ঘুম-খাওয়া বন্ধ। প্রেমিক মাহমুদুল হাসানও বারে বারে ছুটে যাচ্ছিল হাসপাতালের বারান্দায়।

জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ফাহমিদার সঙ্গে প্রেমিক মাহমুদুলের চার হাত এক করে দেওয়ার উদ্যোগ নেয় পরিবার। গেল ৯ মার্চ বেনারসি শাড়িতে হাসপাতালের কেবিনে বিয়ে হয় তাদের। তখনও ফাহমিদার নাকে ঝুলছিল স্যালাইন। এক টাকার দেনমোহরে হওয়া সেই বিয়ে সাড়া পড়ে যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে গণমাধ্যমে। ফলাও করে প্রচার হয় বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা।

হাসপাতালে মৃত্যু যন্ত্রণায় কাতরানো ফাহমিদার হাতের মেহেদী এখনও শুকায়নি। আঙ্গুলে শোভা পাচ্ছে বিয়ের আংটি। বিয়ের ১২ দিনের মাথায় ফাহমিদা সবাইকে ছেড়ে চলে গেলেন।

সোমবার (২১ মার্চ) সকাল ৭টায় চট্টগ্রামের মেডিক্যাল সেন্টারে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বাদ আছর নগরীর বাকলিয়া থানার দক্ষিণবাগ এলাকার আব্দুস ছিলাম মাস্টারের বাড়িতে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর পারিবারিক কবরস্থানে তাকে শায়িত করা হবে।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) সাবেক কর্মকর্তা সাইফুদ্দীন সাকীর নাতনি ফাহমিদার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, গতকাল রাতে ফাহমিদা অবস্থার অবনতি হলে তাকে কেবিন থেকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। সোমবার (২১ মার্চ) সকাল ৭টায় তিনি মহান আল্লাহর ডাকে সাড়া দেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ব্যবসায়ী কামাল উদ্দীন ও শিউলি দম্পতির মেজে মেয়ে ফাহমিদা কামাল। পরিবারে তারা দুই বোন, এক ভাই। বড় বোন থাকেন চীনে। ছোট ভাই একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ে অনার্সে পড়ছেন। মৃত্যুর আগে ফাহমিদা আইইউবি থেকে বিবিএ-এমবিএ সম্পন্ন করেন। ২০২০ সালে তার শরীরে ক্যানসার ধরা পড়ে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তাকে ভারতে নেওয়া হয়। তবে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে দেশে ফেরত আনা হয়। এরপর থেকে তিনি মেডিক্যাল সেন্টারে চিকিৎসাধীন ছিলেন। গত ৯ মার্চ থেকে থেকে ফাহমিদার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে।