হাওরে বাড়ছে পানি, কাটা হচ্ছে কাঁচা ধান

নেত্রকোনার হাওরাঞ্চল খালিয়াজুরীর ধনু নদীর পানি আরও কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। ভারতের মেঘালয় রাজ্যের চেরাপুঞ্জি থেকে নেমে আসা ঢলে এ পানি বাড়ছে। ধনু নদীর ওই পানি বৃদ্ধি দেখে নিম্নাঞ্চলের হাওরগুলোতে কাঁচা ধান কাটতে শুরু করেছে চাষিরা।

নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী এম এল সৈকত সোমবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে বলেন, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতের মেঘালয় প্রদেশের চেরাপুঞ্জিতে ১৫২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এ বৃষ্টির পানি বাংলাদেশের সুনামগঞ্জের যাদুকাটা ও সুরমা নদী দিয়ে নেমে খালিয়াজুরী পয়েন্টে ধনু নদীর পানি বেড়েছে ১০ সেন্টিমিটার।’

তিনি আরও বলেন, ‘সোমবার দুপুর ১২টার দিকে পরিমাপ করে দেখা গেছে, ধনু নদীর পানি বিপৎসীমার মাত্র ৫৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।’

খালিয়াজুরী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জসীম উদ্দিন বলেন, আমাদের হিসেবে এ উপজেলায় ২১ হাজার ১২০ হেক্টর জমির মাঝে এখন পর্যন্ত প্লাবিত জমির পরিমাণ ৩৭০ একর। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে কোনো জমি প্লাবিত হয়নি।’

তলিয়ে যাওয়া জমিগুলো কীর্তনখোলা, লক্ষ্মীপুর, চুনাই, বাইদ্যারচর, কাটকাইলের কান্দা, টাকটার, মনিজান, লেবরিয়া, হেমনগর, গঙ্গাবদর, নয়াখাল, বাগানী, বৈলং ও ডাকাতখালী হাওরের নিম্নাঞ্চলের বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে হাওরাঞ্চলের বোরো চাষিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। কাঁচা ধান কাটার হিড়িক পড়ে গেছে এসব এলাকায়।

মদন উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান জানান, ওই উপজেলার তলার হাওরের নিম্নাঞ্চলের ২৫ একর বোরো জমি পাহাড়ি ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে। তবে এলাকার কৃষকদের দাবি, দুই উপজেলা মিলে প্লাবিত জমির পরিমাণ অন্তত এক হাজার একরের ওপরে।

সরজমিনে দেখা গেছে, অনেকে পানিতে ডুবে যাওয়া কাঁচা ধান কেটে কিছু পরিমাণ হলেও ঘরে তোলার চেষ্টা করছেন।

খালিয়াজুরী সদরের পুরানহাটি গ্রামের সুজন মিয়া ও লক্ষীপুর গ্রামের কৃষক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘এই জমিগুলোর ধান পাকতে আরও ১০-১৫ দিন দরকার ছিল। তবুও নিরূপায়ে কাটছে অন্তত গরুর খাবারটা সংগ্রহ করার আশায়। খালিয়াজুরী উপজেলা যুব লীগের আহবায়ক আরিফুল ইসলাম ফালাক জানান, ‘যদি আরও তিন-চার দিন একটু বেশি পরিমাণে পানি বাড়ে তাহলে সমস্ত ফসল তলিয়ে যাবে। ২০১৭ সালের মতো আগাম বন্যার ভয়াবহতা দেখা দেবে হাওরাঞ্চলে। ওই সালটির এমন সময়ে উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে সৃষ্ট আগাম বন্যায় খালয়াজুরী, মোহনগঞ্জ, মদন ও কলমাকান্দা উপজেলার হাওড়ের শতভাগ ফসল তলিয়ে গিয়েছিল বলে জানান তিনি।

পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী এম এল সৈকত বলেন, আমাদের শেষ ভরসা হচ্ছে ফসল রক্ষা বাঁধ। নেত্রকোনার হাওরাঞ্চলে ১৮৩ কিলোমিটার ওই বাঁধের কোনো অংশ এখনও ভাঙেনি। আমরা বাঁশ এবং জিও ব্যাগ দিয়ে বাঁধগুলো আরও শক্ত বা মজবুত করার চেষ্টা করছি।’

খালিয়াজুরী উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ এইচ এম আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘হাওরের কিছু এলাকায় আগাম জাতের ধান (ব্রি-২৮) কিছুটা কাটা শুরু হয়েছে। তবে পুরোদমে কাটা-মাড়াই শুরুর সময় আরও ১০-১৫ দিন পর। এরই মধ্যে পাহাড়ি ঢল আসতে শুরু করায় আমরা অনেকটা আতঙ্কিত।’