সেন্ট মার্টিন যেন ইজিবাইকের শহর

শুক্রবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টা। সেন্টমার্টিন বাজারপাড়া সড়কের ময়লাপোতার একটি রেস্তোরাঁর সামনে দাঁড়িয়ে আছে শিশু লিসা জামান লামহা। সড়কের ওপাশে তার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে মা নাজমা পারভিন। দুজনই পরস্পরকে দেখছেন। কিন্তু কেউ সড়ক পার হতে পারছেন না। মিনিট পাঁচেক পর কোনো রকমে দৌঁড়ে সড়ক পার হলেন তিনি। চোখেমুখে একরাশ বিরক্তি নিয়ে বললেন, সেন্ট মার্টিন দিন দিন বসবাসের অযোগ্য হয়ে যাচ্ছে। ইজিবাইকের কারণে ছোট একটা রাস্তা পার হওয়া যাচ্ছে না।

নাজমার এই বিরক্তির কারণ অবৈধ ইজিবাইক। সেন্ট মার্টিনে ইজিবাইক এতটাই বেড়েছে যে শুধু রাস্তা পার হওয়া নয়, প্রায় দিনই ঘটছে ছোটখাটো দুর্ঘটনা। ৮ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের শহরে ২০০টি ইজিবাইক চলাচল করছে। যার সবগুলোই অবৈধ।

স্থানীয় যুবক মালেক বলেন, ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণে আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি। প্রতিদিনই ইজিবাইক বাড়ছে। এটা নিয়ন্ত্রণ করা গেলে ইজিবাইকের চাপ কমে যাবে।

সেন্ট মার্টিনে ঘুরতে এসেছেন রিপোটার্স ইউনিটি কক্সবাজারের সভাপতি ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কক্সবাজার জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক এইচ এম নজরুল ইসলাম। তিনি জানান, প্রবালদ্বীপের ইতিহাস হচ্ছে ভ্যানে করে পর্যটকরা ঘুরবেন। দ্বীপের ভ্যান পর্যটকদের জন্য বাড়তি বিনোদনের মাত্রা ছিল। কিন্তু সম্প্রতি দ্বীপ দখল করে নিয়েছে ইজিবাইক। দ্বীপজুড়ে ইজিবাইকের দাপটে হাঁটাচলা মুশকিল হয়ে উঠেছে।

স্থানীয়রা বলছেন, কয়েক বছর আগেও ছায়াঢাকা, যানবাহনমুক্ত, শান্ত নিরিবিলি দ্বীপ ছিল সেন্ট মার্টিন। সাগরের ঢেউয়ের গর্জন আর পাখির ডাকে মানুষের ঘুম ভাঙত। এখনও পাখি ডাকে। তবে সেই ডাক আর মানুষের কান পর্যন্ত পৌঁছায় না। যানবাহনের শব্দে হারিয়ে যায় ঢেউ ও পাখির কলতান।

প্রবাল দ্বীপে ঘুরতে আসা ১৫-২০ জন পর্যটক জানান, সেন্ট মার্টিনের সরু সড়কজুড়ে অবাধে চলছে ইজিবাইক। রাস্তার অবৈধ স্ট্যান্ডে সারাদিনই যানজট লেগে থাকে। তাছাড়া রাস্তার মাঝখানে ইজিবাইক থামিয়ে যাত্রী ওঠা-নামা করানো হয়। সেইসঙ্গে ভাড়া চাওয়া হচ্ছে ৫ গুণ।

ঢাকা থেকে সেন্ট মার্টিনে বেড়াতে এসেছেন বিমান বাহিনীর সদস্য আজাদুল ইসলাম। তিনি জানান, জাহাজ থেকে নেমে জেটি পার হয়ে কয়েক পা বাড়াতেই একটি ইজিবাইক এসে তুলে নেয়। রিসোর্টে যাওয়ার পর ৪০০ টাকা ভাড়া চান চালক।

তিনি আরও বলেন, ইজিবাইক যেমন দ্বীপের জন্য ক্ষতিকর, তেমনি তারা ভাড়াও আদায় করে দ্গিুণ। আমি যখন ২০১১ সালে আসি তখন দেখেছি ছোট ছোট ভ্যানে করে পর্যটকরা ঘুরতেন। যেটি দেখে খুব সুন্দর লাগত। কিন্তু এই ইজিবাইক দ্বীপের জন্য মারাত্মক ক্ষতি।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল আমিন পারভেজ চৌধুরী জানান, এই বছর পর্যটক মৌসুম প্রায় শেষ। আগামী বছর থেকে ইজিবাইক চলাচল করতে দেওয়া হবে না।