সিলেটে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট

সিলেটে জ্বালানি তেলের ব্যাপক সংকট দেখা দিয়েছে। চাহিদার এক তৃতীয়াংশ দিয়েই কোনোরকমে চলছে দিন। এছাড়া সিএনজি পাম্পগুলোতেও লোড কমানোর জন্য চিঠি দিয়েছে সিলেটের গ্যাস বিতরণ ও বিপণন প্রতিষ্ঠান জালালাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কর্তৃপক্ষ। এতে নানামুখী সমস্যা তৈরি হয়েছে। এই সংকট নিরসনের দাবিতে সিলেটে বিক্ষোভ করেছেন ট্যাংক লরি মালিক-শ্রমিকরা।

বুধবার (৯ মার্চ) সকাল ১১টার দিকে সিলেট নগরীর প্রবেশদ্বার চন্ডিপুল থেকে প্রায় তিন শতাধিক ট্যাংক লরি নিয়ে ওই বিক্ষোভ শুরু হয়ে পুরো নগর প্রদক্ষিণ করে।

গত কয়েক মাস থেকেই জ্বালানি তেলের সংকট নিরসনে নানাভাবে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে সিলেট বিভাগীয় কমিটির বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্সন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলারস ডিস্ট্রিবিউটরস অ্যাজেন্টস্ অ্যান্ড পেট্রোলপাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ ট্যাংক লরি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ এলপিজি ফিলিং স্টেশন ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং সিলেট বিভাগীয় ট্যাংক লরি শ্রমিক ইউনিয়নের সমন্বয়ে গঠিত ‘সিলেট বিভাগীয় পেট্রোল পাম্প সিএনজি এলপিজি, ট্যাংক লরি মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। এরই অংশ হিসেবে বুধবারের ওই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন ট্যাংক লরি মালিক-শ্রমিকরা।

এদিকে আন্দোলনকারী সংগঠনগুলোর দেওয়া স্মারকলিপির বরাতে সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. মজিবুর রহমান ইতোমধ্যে বাংলাদেশ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব বরাবর একটি চিঠি দিয়েছেন। ওই চিঠিতে সংকট সমাধানের জন্য জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জেল প্রশাসক মো. মজিবুর রহমানের দেওয়া চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন- অতীতে সিলেটের তেলে অনেকটা চাহিদা মিটত। কিন্তু প্রায় তিন বছর আগে হঠাৎ করে মানহীন তেলের অভিযোগ এনে সিলেট গ্যাস ফিল্ডের কৈলাশটিলা গ্যাসক্ষেত্র থেকে উত্তোলিত কনডেনসেট থেকে তেল উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে জ্বালানি তেলের চাহিদার পুরোটাই এখন নির্ভর করে চট্টগ্রাম থেকে ওয়াগন ট্রেনের আসা না আসার ওপর।

এতে আরও বলা হয়, সম্প্রতি ওয়াগন নিয়মিত না আসায় প্রায়ই জ্বালানি তেলের সংকট তৈরি হচ্ছে। এমনকি ওয়াগন আসলেও যে পরিমাণ তেল আসে সেটিও চাহিদার তুলনায় অনেক কম। তাই পর্যটন নগরী সিলেটে ছুটির দিন অনেক পর্যটক আসায় গাড়িগুলোতে জ্বালানি তেলের চাহিদা বাড়ে। এর কারণে সংকট আরও বেশি হয়। এমনকি সম্প্রতি সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে লোড কম রাখার নির্দেশ দেওয়া হলে আরও বিড়ম্বনা দেখা দেয়। এসব সমস্যা বিবেচনায় নিয়ে চিঠিতে তেলের সংকট সমাধান করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়।

এদিকে, সিলেট বিভাগীয় পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির সভাপতি মো. মুস্তফা কামাল অভিযোগ করেন, ‘সিলেটের গ্যাসক্ষেত্র থেকে তেল উত্তোলন বন্ধ থাকায় সরকার প্রতিদিন কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে। সিলেটে প্রতিদিন অন্তত সোয়া লাখ লিটার জ্বালানি তেলের চাহিদা থাকলেও তার দুই তৃতীয়াংশও আসে না চট্টগ্রাম থেকে। তাছাড়া তেলবাহী গাড়ি বন্ধ থাকায় বিভাগের অন্তত তিন শতাধিক গাড়ির দুই হাজারের অধিক শ্রমিকের পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এ সংকট দ্রুত সমাধান করা উচিৎ।’

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে সিলেট গ্যাস ফিল্ডের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘কিছু টেকনিকাল সমস্যার কারণে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। এতে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে ঠিক। তাই আমরা চেষ্টা করছি আবার উৎপাদন শুরু করার।’