সাতসকালে দিনমজুরদের মাঝে খাবার নিয়ে হাজির মৌলভীবাজারের ডিসি

‘ডিসি স্যার হঠাৎ এসে এই খাবার দেওয়ায় অনেক খুশি হয়েছি। একসাথে এতো খাবার আর কেউ দেয়নি। আমার ৬ সদস্যের পরিবার, রমজান মাসে এই খাদ্য পাওয়ায় অনেক উপকার হবে।’ কথাগুলো বলছিলেন দিনমজুর আলমাছ মিয়া। মৌলভীবাজার জেলা শহরে আলমাছ মিয়ার মতো দুইশত ভাসমান দিনমজুর আজ খাদ্যসহায়তা পেয়েছেন। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সাত পদের খাদ্য সহায়তা পেয়ে উচ্ছসিত তারা।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৭ এপ্রিল) সকালে মৌলভীবাজার শহরের চৌমহনা পয়েন্টে ২০০ জন দিনমজুরকে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়। দুইশো খাবার প্যাকেটের প্রতিটিতে ছিল চাল (দশ কেজি), ডাল (এক কেজি), লবণ (এক কেজি), চিনি (এক কেজি), চিড়া (দুই কেজি), সয়াবিন (তেল দুই লিটার) ও নুডুলস (আধা কেজি)।

এদিন ভোরের আলো ফোঁটার সাথে সাথে দিনমজুরেরা জড়ো হন মৌলভীবাজার শহরের সবচেয়ে ব্যস্ততম এলাকা চৌমহনা পয়েন্টে। এখান থেকে প্রতিদিন বিভিন্ন মানুষজন বাসাবাড়িতে নিয়ে যান কাজের জন্য। সকাল থেকে সারাদিনের জন্য তারা বিক্রি হয়ে যান ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায়।

তীব্র গরম কিংবা কনকনে ঠান্ডায়, আবার কখনো রোদ-বৃষ্টিকে পরাজিত করতে হয় সংসার ও ক্ষুধার কাছে। দিনশেষে যা রোজগার হয়, তা নিয়েই বেঁচে থাকার রসদ সংগ্রহ করে বাড়ি ফেরেন তারা। আবার এমনও দিন আছে, অনেকেই কাজ পান না। কেউ নেয় না তাদের। বাড়ি ফিরেন খালি হাতে। বছরের পর বছর দিনমজুররা এভাবেই জীবন যুদ্ধে এগিয়ে যাচ্ছেন। সাধারণত সকাল ৮টার মধ্যে তারা কাজে চলে যান। এ বিষয়টি মাথায় রেখে সকাল ৭টায় জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ হঠাৎ হাজির হন খাদ্য নিয়ে।

তাৎক্ষণিক একসাথে এতো খাবার পেয়ে দিনমজুররা খুশি হয়েছেন তাদের চোখের চাহনি বলে দেয় সেই কথা।

দিনমজুর জাবেদ, রহিম ও সোলেমান মিয়া জানান, তারা ভাবেননি এভাবে হঠাৎ সরকারি সাহায্য পাবেন। একদিকে অভাব অনটন, অন্যদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মূল্য বৃদ্ধি। এই সময় এমন সাহায্য পাওয়ায় তারা খুশি।

আরেক দিনমজুর ছামাদ মিয়া বলেন, ‘আমরা বুড়া মানুষ, আগের মতো কাজ করতে পারি না। কাজ করে তিন-চারশ’ টাকার বেশি পাই না। এই রোজার মাসে খাদ্য পাওয়ায় উপকার হবে, আল্লাহ তাদের ভালো রাখুক।’

জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে এই দিনমজুরদের নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদন দেখেছি। খোঁজ নিয়ে জেনেছি এরা অনেক দরিদ্র, দিন আনে দিন খায়। এরই প্রেক্ষিতে তাদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের খাবার বিতরণ করা হয়। আমরা এরকম হতদরিদ্র মানুষের মধ্যে খাদ্য সহায়তা অব্যাহত রাখবো।’