সরকারি চাকরি পাবে না রাজাকারের সন্তানরা

রাজাকারের সন্তানরা ভবিষ্যতে সরকারি চাকরি পাবে না বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। শুক্রবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে গাজীপুর মহানগরীর সাহাপাড়া এলাকায় মার্কাস রোড ৫০ শয্যা বিশিষ্ট ডায়াবেটিক হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে এসে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।

মন্ত্রী বলেন, রাজাকারের তালিকা তৈরির আইন পার্লামেন্টে জমা দেওয়া আছে। পরবর্তী অধিবেশনে পাস হলেই রাজাকারের তালিকা তৈরির কাজ শুরু হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশ স্বাধীন করা যেমন কঠিন কাজ, তেমনি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করাও কঠিন। আমরা ১৯৭১ সালে সংগ্রাম করে দানবীয় শক্তিকে পরাজিত করার মাধ্যমে দেশকে স্বাধীন করেছি। কিন্তু পরাজিত শত্রু ও তাদের দোসররা বসে নেই। তারা দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। তারা দেশকে অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়। দেশকে পেছনের দিকে ঠেলে দিতে চায়। এ পরাজিত শত্রুদের দমন করতে হবে।

গাজীপুর ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী আলিমউদ্দিন বুদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল। বক্তব্য দেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সামসুন্নাহার ভূঁইয়া, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র আসাদুর রহমান কিরণ, জেলা প্রশাসক আনিসুর রহমান, সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এস এম আনোয়ারুল করিম, গাজীপুর ডায়াবেটিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শরীফ হোসেন ঢালী, ডায়াবেটিক সমিতির সাবেক সভাপতি ডা. ইউনুস আলী প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, গাজীপুর মহানগরীর ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাহাপাড়া এলাকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ১০১ টাকা প্রতীকে মূল্যে ডায়াবেটিক হাসপাতালের জন্য ৫৫ শতাংশ জমি বরাদ্দ দেন। উক্ত জমিতে হাসপাতাল নির্মাণে সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে ২২ কোটি ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে মন্ত্রণালয় থেকে ১৭ কোটি ৬৪ লাখ টাকা এবং সমিতির পক্ষ থেকে ৪ কোটি ৪১ লাখ টাকা দিয়ে ৬ তলা বিশিষ্ট হাসপাতালটি নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে স্থানীয় গণপূর্ত বিভাগ। প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব পালন করবেন সমাজসেবা বিভাগের উপপরিচালক। আগামী ২০২৩ সালের জুন মাসের মধ্যে প্রকল্পটির কাজ সমাপ্ত হবে।